জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে আজ বৃহস্পতিবার হামলার ঘটনা ঘটেছে। হামলার ঘটনাটি নিয়ে দেশের শীর্ষ স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে। তবে এই ঘটনায় দায়ী কে তা নিয়ে বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে পরস্পর বিপরীত তথ্য দেয়া হয়েছে।
দ্য ডেইলি স্টার এ ঘটনায় “জবি ছাত্রদলের বিরুদ্ধে সাংবাদিকদের ওপর হামলার অভিযোগ, আহত ১০” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
প্রতিবেদনে প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে দাবি করা হয়েছে, “দুপুরে ছাত্রদলের শতাধিক নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে ঢুকে সেখানে থাকা সাংবাদিকদের বের হয়ে যেতে বলেন। সাংবাদিকরা এতে রাজি না হলে তাদের ওপর হামলা চালানো হয়।”
আহত সাংবাদিকরা ডেইলি স্টারকে অভিযোগ করেছেন, “জবি ছাত্রদলের আহ্বায়ক মেহেদী হাসান হিমেল, সদস্য সচিব সামছুল আরেফিন এবং যুগ্ম আহ্বায়ক সুমন সরদার, জাফর আহমেদ, মুস্তাফিজুর রহমান রুমি ও পরাগ হোসেনসহ শীর্ষ নেতারা এ হামলার নেতৃত্ব দেন।”
একই ঘটনায় কালের কণ্ঠ “জবি সাংবাদিক সমিতিতে ছাত্রদলের হামলা, আহত ১০” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে।
সংবাদের ইন্ট্রোতে কালের কণ্ঠ লিখেছে, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে হামলা ও দখলচেষ্টার অভিযোগ উঠেছে শাখা ছাত্রদলের নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে। বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয়ের অবকাশ ভবনে সংঘটিত এই হামলায় পেশাগত দায়িত্ব পালনরত অন্তত ১০ জন সাংবাদিক আহত হয়েছেন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানায়, দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েক শ নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়।”
চ্যানেল ২৪ এই ঘটনায় শিরোনাম দিয়েছে, “জবি সাংবাদিক সমিতিতে ছাত্রদলের হামলা ও দখলের চেষ্টা, আহত ১০।”
নয়া দিগন্ত শিরোনাম করেছে, “জবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১০।”
পত্রিকাটি দাবি করেছে, “দুপুরের দিকে ছাত্রদলের কয়েক শ নেতাকর্মী সাংবাদিক সমিতির কক্ষে ঢুকে পড়েন। এ সময় সেখানে থাকা সদস্যদের সঙ্গে তাদের বাগ্বিতণ্ডা শুরু হয়। একপর্যায়ে তারা সাংবাদিকদের ওপর হামলা চালান। এতে জাতীয় বিভিন্ন গণমাধ্যমে কর্মরত কমপক্ষে ১০ জন সাংবাদিক আহত হন।”
“জবি ছাত্রদলের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১০” শিরোনামে ঢাকা মেইল, একুশে টিভি এবং বাংলা ট্রিবিউনও খবর প্রকাশ করে।
তবে ভিন্ন ধরনের শিরোনাম করেছে দৈনিক জনকণ্ঠ। পত্রিকাটি “শিবিরের নেতৃত্বে জবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১২” শিরোনামে খবর প্রকাশ করেছে।
খবরের শিরোনামে জনকণ্ঠ লিখেছে, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) শিবিরের নেতৃত্বে সাংবাদিকদের ওপর হামলায় আহত হয়েছেন ১২ জন। এ সময় সাংবাদিকদের উদ্ধার করতে গিয়ে আহত হন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিব।”
অন্যান্য পত্রিকার মতো জনকণ্ঠের লেখায় “অভিযোগ” শব্দটি ব্যবহার করতে দেখা যায়নি। পত্রিকাটি সরাসরি হামলাকে “শিবিরের নেতৃত্বে হামলা” হিসেবে উল্লেখ করেছে।
আহত সাংবাদিকদের বরাতে জনকণ্ঠ লিখেছে, “আহত সাংবাদিকরা অভিযোগ করেন, জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের ভোটার তালিকায় তাদের অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি। তারা ভোটার তালিকায় অন্তর্ভুক্ত না করার বিষয়টি জানতে সমিতির কার্যালয়ে যান। শিবির এবং জকসু প্রতিনিধিরা সাংবাদিক সমিতির কার্যালয় দখল করে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নির্বাচনের মনোনয়ন ফর্ম বিক্রি করছিলেন। চূড়ান্ত ভোটার তালিকায় নাম অন্তর্ভুক্ত না হওয়ার বিষয়টি জিজ্ঞেস করা হলে শিবিরের জকসু নেতৃবৃন্দ ও তাদের মতাদর্শী সাংবাদিকেরা স্ট্যাম্প ও লাঠি দিয়ে হামলা চালায়। অতর্কিত হামলায় তারা আহত হন।”
বাংলাদেশ প্রতিদিন তাদের ফেসবুক পেইজে এ ঘটনায় একটি ভিডিও প্রকাশ করেছে। ভিডিওটির ক্যাপশনে পত্রিকাটি দাবি করে, “শিবিরের নেতৃত্বে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১২।”
ভিডিওর শুরুতেই প্রতিবেদক বলেন, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে সাংবাদিকদের ওপর হামলা করেছেন ছাত্রশিবির।”
দৈনিক সমকাল “জবিতে সাংবাদিকদের ওপর হামলা, আহত ১২” শিরোনামে খবর প্রকাশ করে। সংবাদের ইন্ট্রোতে পত্রিকাটি লিখেছে, “জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে (জবি) সাংবাদিকদের ওপর হামলার ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন। আহতদের উদ্ধার করতে গিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি একেএম রাকিবও আহত হন। অভিযোগ উঠেছে, হামলাটি ছাত্রশিবিরের নেতাকর্মীদের নেতৃত্বে সংঘটিত হয়েছে।”