Image description

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান উত্তেজনা নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ও সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।

 

রোববার (১ মার্চ) দেওয়া এক বিবৃতিতে এই নেতা বলেন, সাম্প্রতিক সামরিক হামলা ও পাল্টা হামলার ঘটনাপ্রবাহ সমগ্র অঞ্চলকে অস্থিতিশীলতার ঝুঁকিতে ফেলেছে।

 

বিবৃতিতে তিনি উল্লেখ করেন, ইরানে সামরিক হামলা এবং এর পরবর্তী সময়ে প্রতিবেশী উপসাগরীয় দেশগুলোর বিরুদ্ধে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা সংঘাতের বিপজ্জনক বিস্তারের ইঙ্গিত দেয়। এতে আঞ্চলিক শান্তি ও স্থিতিশীলতা মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে। জাতীয় সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন, বেসামরিক মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মুখে ফেলা এবং অঞ্চলকে অস্থির করে তোলার মতো যে কোনো হামলার নিন্দা জানান তিনি।

 

একই সঙ্গে ইসরায়েলের কর্মকাণ্ড নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে জামায়াত আমির বলেন, এসব পদক্ষেপ উত্তেজনা বাড়াচ্ছে, সংলাপের পথ সংকুচিত করছে এবং স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে দুর্বল করছে।

 
 

 

তিনি বলেন, এ ধরনের আচরণ কেবল আঞ্চলিক নিরাপত্তাকেই হুমকির মুখে ফেলছে না, চলমান বিরোধগুলোর ন্যায্য ও আলোচনাভিত্তিক সমাধানের সম্ভাবনাও ক্ষতিগ্রস্ত করছে।

 

অন্যদিকে, উপসাগরীয় ও আঞ্চলিক দেশগুলোর বিরুদ্ধে ইরানের পাল্টা হামলাকেও তিনি পরিস্থিতি অবনতিকারী বলে উল্লেখ করেন। তার মতে, এসব পদক্ষেপ অবিলম্বে বন্ধ হওয়া প্রয়োজন। কারণ, সংঘাতের বিস্তার হলে নিরীহ মানুষের দুর্ভোগ বাড়বে এবং মুসলিম বিশ্বজুড়ে অস্থিরতা আরও গভীর হবে।

 

বিবৃতিতে আন্তর্জাতিক আইন ও স্বীকৃত আইনি কাঠামো উপেক্ষা করে জাতীয় নেতা ও রাষ্ট্রপ্রধানদের লক্ষ্য করে হত্যার প্রবণতা নিয়ে উদ্বেগ জানান তিনি। এ ধরনের কর্মকাণ্ড বিপজ্জনক নজির তৈরি করছে, বৈশ্বিক নীতিমালাকে দুর্বল করছে এবং অঞ্চলকে দীর্ঘস্থায়ী বিশৃঙ্খলা ও আইনহীনতার দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে মন্তব্য করেন তিনি।

 

ডা. শফিকুর রহমান বলেন, মধ্যপ্রাচ্যের জনগণ কিংবা বৃহত্তর বিশ্ববাসী আরেকটি বিধ্বংসী যুদ্ধ চায় না; তারা চায় শান্তি, নিরাপত্তা ও মর্যাদা। সংযম ও কার্যকর কূটনৈতিক উদ্যোগ জোরদার না হলে বৃহত্তর অঞ্চল আরও বিস্তৃত সংঘাতে জড়িয়ে পড়ার ঝুঁকিতে রয়েছে বলেও সতর্ক করেন তিনি।

 

সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে সর্বোচ্চ সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানিয়ে তিনি অবিলম্বে সামরিক তৎপরতা বন্ধ করে সংলাপ ও কূটনীতির পথে ফেরার দাবি জানান। তার মতে, টেকসই সমাধানের একমাত্র কার্যকর পথ হলো আলোচনাভিত্তিক উদ্যোগ।

 

এ ছাড়া মধ্যপ্রাচ্যে অবস্থানরত বা সফররত বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকারের প্রতি জরুরি ও সমন্বিত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি। পূর্ণাঙ্গ কনস্যুলার সহায়তা, সুরক্ষা ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করার পাশাপাশি তাদের নিরাপত্তা ও কল্যাণকে জাতীয় অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচনার তাগিদ দেন।

 

সংকটময় এই সময়ে রক্তপাত বন্ধ এবং আঞ্চলিক শান্তি রক্ষায় ঐক্য, প্রজ্ঞা ও আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার ওপর জোর দেন তিনি।