মশা নিয়ন্ত্রণে বছরের পর বছর ধরে বিপুল পরিমাণে অর্থ ব্যয় করা হলেও ঢাকায় কিউলেক্স মশার উপদ্রব কমেনি। বরং সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে মশার ঘনত্ব হঠাৎ বেড়ে যাওয়ার অভিযোগ করছেন নগরবাসী।
কল্যাণপুর, গাবতলি থেকে খিলগাঁও, উত্তরা ও পুরান ঢাকা—রাজধানীর বিভিন্ন এলাকায় পরিস্থিতির অবনতির অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে।
মঙ্গলবার দুপুরে কল্যাণপুর নতুন বাজার এলাকার এক মুদি দোকানে অন্তত তিনটি স্থানে মশার কয়েল জ্বালিয়ে পণ্য বিক্রি করছিলেন রাসেল জনি। এরপরও মশার উপদ্রব থেকে বাঁচতে তাকে বারবার শরীরের বিভিন্ন স্থানে হাত দিয়ে নড়াচড়া করতে দেখা যায়।
এসময় রাসেল জনি দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "গত কয়েকদিন ধরে মশার উপদ্রব এতটাই বেড়েছে যে, দিনেও মশার কয়েল জ্বালিয়েও রক্ষা পাওয়া যায় না। সন্ধ্যা থেকে তো দোকানে ক্রেতারা এসে দাঁড়াতেই পারেন না মশার কারণে। তাই অনেক সময় সন্ধ্যার মধ্যেই দোকান বন্ধ করে চলে যাই। বাসায়ও মশা থেকে রক্ষা নেই। তাই বাসার জানালাগুলো জাল দিয়ে ঘিরে দিয়েছি।"
শুধু রাসেল জনিই নন—রাজধানীর কল্যাণপুর, গাবতলি, মিরপুর, খিলক্ষেত, উত্তরা, বেড়িবাঁধ এলাকা, মোহাম্মদপুর, ফার্মগেট, কারওয়ানবাজার, যাত্রাবাড়ি, পুরান ঢাকা, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া ও শ্যামপুরসহ প্রায় পুরো ঢাকাবাসীই কিউলেক্স মশার উপদ্রবে অতিষ্ঠ হয়ে উঠছেন।
স্বল্পস্থায়ী শীত ও রক্ষণাবেক্ষণের ঘাটতিতে মশার উপদ্রব বেড়েছে: বিশেষজ্ঞরা
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এবারের শীতকাল দীর্ঘ সময় স্থায়ী না হওয়ায় কিউলেক্স মশা জন্মানোর জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি হয়েছে। কীটতত্ত্ববিদদের গবেষণায় দেখা গেছে, বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৯২ শতাংশ কিউলেক্স, ০.৫ শতাংশ এডিস এবং প্রায় ৭ শতাংশ অন্যান্য প্রজাতির মশা রয়েছে।
শীত দ্রুত শেষ হয়ে যাওয়ার পাশাপাশি মশক নিধনে সিটি কর্পোরেশনের সমন্বয়হীনতা, ড্রেন ও খাল নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়া এবং বিভিন্ন উন্নয়নমূলক কাজ স্থগিত থাকায় এবার কিউলেক্স মশার প্রাদুর্ভাব বেশি বলে দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডের অনুসন্ধানে উঠে এসেছে।
দীর্ঘদিন সিটি কর্পোরেশনের ওয়ার্ডগুলোতে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশক নিধন ও বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কার্যক্রমেও স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। তবে ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তাদের দাবি, তাদের কার্যক্রম স্বাভাবিক গতিতেই চলছে।
জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক কবিরুল বাশার টিবিএসকে বলেন, "ঢাকায় প্রতিনিয়তই কিউলেক্স মশার উপদ্রব বেড়ে যাচ্ছে, যা মার্চের মাঝামাঝি পর্যন্ত চলবে। বড় ধরনের ঝড় ও বৃষ্টিপাত না হলে মশার উপদ্রব সহজে কমবে না।"
তিনি বলেন, "রাজধানীর সর্বত্র সমানভাবে মশা নেই। ঢাকার পেরিফেরি এলাকা যেমন মুগদা, মান্ডা, খিলগাঁও, কামরাঙ্গীরচর, লালবাগ, শনির আখড়া, শ্যামপুর, রায়েরবাজার, উত্তরা ও রাজধানী-সংলগ্ন সাভার এলাকায় লার্ভা ও প্রাপ্তবয়স্ক মশার ঘনত্ব বেশি। অন্যদিকে শাহবাগ, ফার্মগেট ও পরীবাগের মতো মধ্যাঞ্চলে তুলনামূলক কম।"
তিনি আরও বলেন, "জানুয়ারির তুলনায় ফেব্রুয়ারিতে মশার সংখ্যা প্রায় ৫০ শতাংশ বেড়েছে এবং তা ক্রমেই বাড়ছে। বর্তমানে ঢাকায় প্রায় ৯২ শতাংশ মশা কিউলেক্স এবং এডিস প্রায় ০.৫ শতাংশ।"
মশা বৃদ্ধির কারণ হিসেবে তিনি বলেন, শীতের তীব্রতা কম ও স্থায়িত্ব কম থাকা, ড্রেন, খাল, লেক ও জলাশয়ের দূষণ যথাযথভাবে নিয়ন্ত্রণ না করা এবং সিটি কর্পোরেশনে জনপ্রতিনিধি না থাকায় মশা নিয়ন্ত্রণ কর্মসূচিতে ঢিলেমি—এসব বিষয় দায়ী।
তবে কার্যকর মশক নিধন ব্যবস্থা না নিলে বৃষ্টি শুরু হওয়ার পর এডিস মশা দ্রুত বৃদ্ধির আশঙ্কা রয়েছে বলে জানান তিনি।
অধ্যাপক কবিরুল বাশার বলেন, "আবহাওয়ার পরিবর্তনের সঙ্গে তাপমাত্রা বাড়লে এডিস মশার বংশবিস্তার উপযোগী পরিবেশ তৈরি হবে। বৃষ্টির পানি জমে থাকলে সেখানে এডিসের লার্ভা জন্মাবে। এজন্য মশক নিধন কার্যক্রম জোরদারের বিকল্প নেই।"

মশক নিধনে মাঠের পরিস্থিতি কেমন?
ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের অঞ্চল-৯ এর আওতাধীন ৩৯ নম্বর ওয়ার্ডের নূরেরচালা ও খিলবাড়িরটেক এলাকায় রাস্তা ও ড্রেন সংস্কারের কাজ কয়েক মাস ধরে পড়ে আছে। একদিকে এসব এলাকা অপরিচ্ছন্ন, অন্যদিকে উন্নয়ন কাজ থমকে থাকায় সেখানে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে।
খিলবাড়িরটেক পশ্চিমের বাসিন্দা হাফিজুল দ্য বিজনেস স্ট্যান্ডার্ডকে বলেন, "মশার উপদ্রবে সন্ধ্যার পর বাসার দরজা-জানালা খোলা যায় না। মশা মারার এরোসল বা কয়েল জ্বালিয়েও নিস্তার নেই। সপ্তাহে একবার সিটি কর্পোরেশনের মশক কর্মীদের দেখা যায়, কিন্তু সব জায়গায় কীটনাশক প্রয়োগ করা হয় না।"
"গত দুই সপ্তাহে মশার উপদ্রব আরও বেড়েছে। রাতে রাস্তায় বের হলে মনে হয় মশা তুলে নিয়ে যাবে। এখন ওয়ার্ড কাউন্সিলর না থাকায় অভিযোগ করেও কোনো ফল পাই না," বলেন তিনি।
ওই ওয়ার্ডের ঢাকা উত্তর সিটির মশক সুপারভাইজার মো. সাকিল হোসেন টিবিএসকে বলেন, "এই ওয়ার্ডে রাস্তা ও ড্রেনের কাজ চলায় পানি ও বর্জ্য জমে থাকে। ফলে সেখানে কীটনাশক প্রয়োগ করেও খুব একটা কার্যকর ফল পাওয়া যাচ্ছে না। এছাড়া বিভিন্ন ভবনের আশপাশে মশক কর্মীদের প্রবেশে বাধা দেওয়ায় জমে থাকা বর্জ্যে মশার বংশবিস্তার হচ্ছে। জনপ্রতিনিধি না থাকায় আমরা ঠিকভাবে কাজ করতে পারছি না। মশার উপদ্রব বাড়লেই বাসিন্দারা মশক কর্মীদের সঙ্গে বাকবিতণ্ডায় জড়িয়ে পড়েন।"
মশক কর্মীদের অভিযোগ, ওয়ার্ডে কাউন্সিলর না থাকায় বাড়ির মালিকদের চাপ দিয়ে আশপাশের বর্জ্য পরিষ্কার করা ও কীটনাশক প্রয়োগ নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রমজান শুরু হওয়ার পর বিকেলে জনবহুল এলাকায় পর্যাপ্ত ফগিং করা যাচ্ছে না। ইফতারের দোকান ও জনসমাগমের কারণে ফগিংয়ের ধোঁয়ার গন্ধ নিয়ে আপত্তি থাকায় এই সমস্যা হচ্ছে।
ঢাকা উত্তরের ২৬ নম্বর ওয়ার্ডের তেজকুনিপাড়া, ফার্মগেট ও তেজগাঁও থানা এলাকার মশক সুপারভাইজার আনোয়ার শাদাৎ টিবিএসকে বলেন, "এই ওয়ার্ডের খালগুলো নিয়মিত পরিষ্কার না হওয়ায় এবং ভবনের আশপাশে জমে থাকা বর্জ্যের কারণে মশার বংশবিস্তার বেশি হচ্ছে। এসব জায়গায় কীটনাশক প্রয়োগ করেও নিয়ন্ত্রণ সম্ভব হচ্ছে না।"
তিনি আরও বলেন, জনপ্রতিনিধি না থাকা এবং বর্জ্য সঠিকভাবে অপসারণ না হওয়ার কারণে মশা নিয়ন্ত্রণ ব্যাহত হচ্ছে। পাশাপাশি ড্রেনের ভেতরে জমে থাকা পানিতে কীটনাশক পৌঁছাতে না পারায় সেগুলো মশার অন্যতম প্রজননস্থল হয়ে উঠেছে।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির খিলগাঁওয়ের বাসিন্দা হোসাইন তারেক টিবিএসকে বলেন, "মশার উপদ্রব থেকে ৬ মাসের শিশুকে নিরাপদ রাখতে গরমের মধ্যেও হাত-পায়ে মোজা পরিয়ে রাখতে হচ্ছে। সারাক্ষণ মশারির ভেতরে রাখলেও মশার কামড় থেকে রেহাই মিলছে না। শরীরে ক্রিম ব্যবহার করেও কাজ হচ্ছে না। "
"পুরো ঢাকায় মশার এত উপদ্রব, কিন্তু মশক কর্মীদের তেমন সক্রিয়ভাবে কীটনাশক প্রয়োগ করতে দেখা যায় না," যোগ করেন তিনি।
ঢাকায় ১০ বছরে হাজার কোটি টাকা ব্যয়েও সুফল কম
গত ১০ বছরে মশা নিধন কর্মসূচি ও কীটনাশক কেনায় ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ—এই দুই সিটি কর্পোরেশন মোট ১,০১২ কোটি টাকা ব্যয় করেছে। তবুও অধিকাংশ ক্ষেত্রে ঢাকায় মশা নিয়ন্ত্রণে কাঙ্ক্ষিত সাফল্য আসেনি।
বার্ষিক বাজেট পর্যালোচনায় দেখা গেছে, ২০১৬–১৭ অর্থবছর থেকে ২০২৫–২৬ অর্থবছর পর্যন্ত ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ব্যয় করেছে ৬৮৮.৩৯ কোটি টাকা এবং ঢাকা দক্ষিণ ব্যয় করেছে ৩২৩.৬৩ কোটি টাকা। এই ব্যয়ের সবচেয়ে বড় অংশ গেছে কীটনাশক কেনায়।
২০২৫–২৬ অর্থবছরে ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশন মশা নিয়ন্ত্রণে ১৮৭.৭৫ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৮০ কোটি টাকা কীটনাশক কেনায় ব্যয় হবে। এছাড়া আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে মশা নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিচালনায় ৪৫ কোটি টাকা বরাদ্দ রাখা হয়েছে। অন্যদিকে, ঢাকা দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন এ খাতে ৫৩.৫০ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে, যার মধ্যে ৪৫ কোটি টাকা কীটনাশক কেনায় ব্যয় হবে।
সিটি কর্পোরেশনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি অর্থবছরের কীটনাশক ও যন্ত্রপাতি কেনা সম্পন্ন হয়েছে। তবে এবারের মশক নিধনে বরাদ্দের চেয়েও বেশি ব্যয় হতে পারে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, দেশের অন্য কোনো সিটি কর্পোরেশন বা পৌরসভা মশা নিয়ন্ত্রণে ঢাকার মতো এত ব্যয় করে না। তবুও ঢাকার বাসিন্দারা এর সুফল পাচ্ছেন না।
মশা নিয়ন্ত্রণের পরিকল্পনা ঢাকার নবনিযুক্ত দুই প্রশাসকের
মঙ্গলবার ঢাকার দুই সিটি কর্পোরেশনের প্রশাসক মন্ত্রণালয়ে যোগদানপত্র জমা দেওয়ার পরের দিন বুধবারই দুই সিটির মশক নিয়ন্ত্রণ কার্যক্রম পরিদর্শনে বের হন। তারা দুই সিটির মশক নিধনের কীটনাশক সংরক্ষণাগার পরিদর্শন করেন।
ঢাকা দক্ষিণ সিটির নবনিযুক্ত প্রশাসক আব্দুস সালাম মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, "আমি যখন অফিসে বসব, তখন মশক নিধনে পরিকল্পনা গ্রহণ করব।"
তিনি আরও বলেন, "বিশেষ করে ঢাকা শহর পরিষ্কার রাখতে হবে। সামনে মশার উপদ্রব বাড়বে। এখন থেকেই কীভাবে মশা নিয়ন্ত্রণে আনা যায়, সে বিষয়ে পরিকল্পনা করতে হবে। একই সঙ্গে ঢাকা পরিষ্কার রাখতে বর্জ্য থেকে কীভাবে বিদ্যুৎ ও সার উৎপাদন করা যায়, সে বিষয়েও পরিকল্পনা নেওয়া হবে।"
তিনি বলেন, "নগরে মশার যে সমস্যা, বলা যায় প্রতিটি মহানগরই অপরিষ্কার ও অপরিচ্ছন্ন। তাই মশাসহ অন্যান্য সমস্যা সমাধান করে দ্রুত জনগণের ক্ষমতা জনগণের কাছে অর্পণ করা হবে। মশা নিয়ন্ত্রণ শুধু সিটি কর্পোরেশনের একার দায়িত্ব নয়। জনগণকেও সচেতন হতে হবে। নাগরিকেরা সচেতন না হলে শুধু সিটি কর্পোরেশনের পক্ষে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিশ্চিত করা সম্ভব নয়।"
ঢাকা উত্তর সিটির প্রশাসক শফিকুল ইসলাম খান বলেন, "অনেক এলাকায় সিটি কর্পোরেশনের উন্নয়নকাজ এখনো শেষ হয়নি। দায়িত্ব গ্রহণের পর এসব বিষয়ে গুরুত্ব দেওয়া হবে। যেখানে যেখানে অব্যবস্থাপনা রয়েছে, সেগুলো খতিয়ে দেখা হবে। নিয়মতান্ত্রিকভাবে সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করব।"
বুধবার স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল সাংবাদিকদের বলেন, "কিউলেক্স মশার সংখ্যা ভয়াবহভাবে বেড়ে গেছে। শপথ নেওয়ার মাত্র সাত দিনের মধ্যেই মন্ত্রণালয় এ বিষয়ে তৎপর হয়েছে। স্প্রে করার সময় তা মশার শরীরে পৌঁছাতে হবে। জলপথ ও স্থলপথ—উভয় দিক থেকেই মশা নিধন কার্যক্রম পরিচালনা করা হবে। খালে স্প্রে করার জন্য স্পিডবোট ব্যবহারের নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। জনগণের সহযোগিতা ছাড়া ডেঙ্গু প্রতিরোধ সম্ভব নয়।"
তিনি আরও বলেন, "সিটি কর্পোরেশনের কীটনাশক সংরক্ষণাগার থেকে ওষুধের বেশ কিছু নমুনা নেওয়া হয়েছে। এগুলোর কার্যকারিতা দ্রুত পরীক্ষা করা হবে। ওষুধ কার্যকর না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে। তবে ওষুধের কার্যকারিতা থাকবে বলেই আশা করছি।"
ডেঙ্গু মশা নিধনে ব্যবহৃত ওষুধ কার্যকর না হলে বিকল্প ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলেও জানান তিনি।