Image description

আওয়ামী লীগ সরকারের সময় যেসব অস্ত্রের লাইসেন্স দেওয়া হয়েছিল, সরকার সেগুলো পর্যালোচনা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।

এছাড়া ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের আগে সদ্যবিদায়ী অন্তর্বর্তী সরকার বৈধ অস্ত্র জমা দেওয়ার যে নির্দেশ দিয়েছিল, তাতে ১০ হাজারের বেশি অস্ত্র জমা পড়েনি বলে তথ্য দেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।

সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রধানদের সঙ্গে বৈঠক শেষে তিনি সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে আগ্নেয়াস্ত্রের লাইসেন্সধারী কারা, যথাযথ প্রক্রিয়ায় লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে কি না, তারা লাইসেন্স পাওয়ার উপযুক্ত কি না—আইন অনুসারে তা যাচাই-বাছাই করা হবে।  

 

তিনি বলেন, এগুলো যাচাই-বাছাই করার পর যাদের লাইসেন্স পাওয়ার যোগ্যতা আছে, তাদের লাইসেন্স আমরা বহাল রাখবো। আবার দেখা যাবে যাদের লাইসেন্স দেওয়া ঠিক হয়নি বা যথাযথ প্রক্রিয়া অবলম্বন করে দেওয়া হয়নি বা যারা বিভিন্ন অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের উদ্দেশে লাইসেন্স পেয়েছে, সেসব ক্ষেত্রে লাইসেন্স বাতিল করা হবে। একই সঙ্গে সেসব লাইসেন্সের অধীনে কোনো অস্ত্র থাকলে সেগুলোও বাজেয়াপ্ত করা হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমানে কতগুলো লাইসেন্স, কতগুলো লাইসেন্সধারী অস্ত্র আছে, তার পরিসংখ্যান তৈরি করতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নির্বাচনের আগে জমা না দেওয়া ১০ হাজার বৈধ অস্ত্র আইনানুগভাবে ‘অবৈধ’ হয়ে গেছে। সেগুলো উদ্ধারের ব্যবস্থা করতে হবে। সেগুলোর ব্যাপারে মামলাও করা যেতে পারে। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় কতগুলো মামলা হয়েছে তা দেখে আমরা এগুলো রেগুলার করবো।

পুলিশের সব পর্যায়েই যে জনবলের অভাব আছে সে বিষয়টি উল্লেখ করে তিনি বলেন, দুই হাজার ৭০১ জন কনস্টেবলের পদ খালি আছে, সেখানে জরুরি ভিত্তিতে নিয়োগের প্রক্রিয়া শুরু করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

পাসপোর্ট নিয়ে জনগণের পক্ষ থেকে বিভিন্ন সময় অভিযোগ আসে, সে কথা তুলে ধরে মন্ত্রী বলেন, ইদানিং অবশ্য (অভিযোগ) কম। বিশেষত ই-পাসপোর্ট হয়ে যাওয়ার পর। তবে জনগণের অধিকাংশই অনলাইনে আবেদন করতে অভ্যস্ত নয়। সেজন্য কারও কারও সহযোগিতা নিতে হয়। যারা সহায়ক হিসেবে এ কাজগুলো করেন, এখানেও একটা পেশার জায়গা সৃষ্টি হয়েছে।

তবে এসব ক্ষেত্রে পাসপোর্ট অফিসের কিছু লোকজনের যোগসাজশও জনগণের ভোগান্তির সৃষ্টি করে, এমন অভিযোগ পাওয়ার কথাও জানান স্বরাষ্টমন্ত্রী।

সেজন্য বৈধ এজেন্ট নিয়োগের পরিকল্পনা জানিয়ে তিনি বলেন, এটা পরীক্ষামূলকভাবে দেখতে পারি। আগে ঢাকা এবং বিভিন্ন বিভাগের পাসপোর্ট অফিসগুলোতে পরীক্ষা করে আমরা যদি সেটা চালু করি, তাহলে ভবিষ্যতে সারাদেশে চালু করতে পারবো।