জুলাই গণঅভ্যুত্থানের পর গড়ে ওঠা তরুণদের রাজনৈতিক প্ল্যাটফর্ম ‘আপ বাংলাদেশ’ (ইউনাইটেড পিপলস বাংলাদেশ) ভাঙনের মুখে পড়েছে। রাজনৈতিক দল হিসেবে আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করা নিয়ে মতপার্থক্যের জেরে সংগঠনটির ভেতরে স্পষ্ট বিভাজন তৈরি হয়েছে। সূত্র বলছে, শিগগিরই প্ল্যাটফর্মটি ভেঙে নতুন একটি রাজনৈতিক দলের আত্মপ্রকাশ ঘটতে পারে।
২০২৫ সালের ৯ মে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে আলী আহসান জুনায়েদের নেতৃত্বে ৮২ সদস্যের কমিটি ঘোষণা করে আত্মপ্রকাশ করে আপ বাংলাদেশ। আরেফিন মুহাম্মদ হিজবুল্লাহকে সদস্য সচিব, রাফে সালমান রিফাতকে প্রধান সমন্বয়কারী, নাঈম আহমাদকে প্রধান সংগঠক এবং শাহরিন ইরাকে মুখপাত্র করা হয়। দেশের ৫২ জেলা, চারটি বিশ্ববিদ্যালয় ও বিভিন্ন মহানগরে আহ্বায়ক কমিটিও গঠন করা হয়।
তবে মাত্র নয় মাসের মধ্যেই দল গঠন প্রশ্নে বিভক্ত হয়ে পড়ে সংগঠনটি। গত ১৬ ফেব্রুয়ারি কেন্দ্রীয় সাধারণ সভায় রাজনৈতিক দল গঠনের সম্ভাব্যতা যাচাই (ফিজিবিলিটি টেস্ট) করতে নাঈম আহমাদের নেতৃত্বে ১০ সদস্যের একটি কমিটি গঠন করা হয়। একই সভায় গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, দুর্নীতিবিরোধী আন্দোলন ও পুলিশ সংস্কারের মতো বিষয়কে অগ্রাধিকার দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
সংগঠনের একাধিক সূত্র জানায়, প্রধান সংগঠক নাঈম আহমাদ নতুন দল গঠনে সক্রিয় ভূমিকা নিচ্ছেন। তবে আহ্বায়ক জুনায়েদ, রিফাত, শাহরিন ইরাসহ অধিকাংশ নেতা আপ বাংলাদেশকে প্ল্যাটফর্ম হিসেবেই চালু রাখার পক্ষে। তাদের মতে, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের পরপরই নতুন দল ঘোষণা করা রাজনৈতিকভাবে সমীচীন হবে না।
এদিকে গুঞ্জন রয়েছে, প্ল্যাটফর্মের কয়েকজন শীর্ষ নেতা জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)-তে যোগ দিতে পারেন। যদিও এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা আসেনি। নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কেন্দ্রীয় নেতা বলেন, নতুন দল ঘোষণা হলে অনেকেই এনসিপিতে চলে যেতে পারেন; তবে প্ল্যাটফর্ম ভেঙে দেওয়া হলে অধিকাংশ সদস্যই নতুন দলে যুক্ত হবেন না।
অন্যদিকে নাঈম আহমাদ জানিয়েছেন, রাজনৈতিক দল গঠনের আকাঙ্ক্ষা শুরু থেকেই ছিল। ফিজিবিলিটি অ্যানালাইসিসের কাজ চলছে এবং ইতিবাচক সাড়া পাওয়া যাচ্ছে। শিগগিরই একটি রাজনৈতিক দলের ঘোষণা আসতে পারে বলেও ইঙ্গিত দেন তিনি। সম্ভাব্য নাম হিসেবে ‘ইউনাইটেড পিপলস পার্টি (ইউপিপি)’-র কথা উল্লেখ করেছেন তিনি।
নাঈম আহমাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জুলাই সনদের পূর্ণ বাস্তবায়ন, গণহত্যার বিচার, পুলিশ সংস্কার, পরিবেশ সুরক্ষা, বিনামূল্যে কর্মসংস্থানমুখী শিক্ষা ও সর্বজনীন চিকিৎসা—এসব ইস্যুকে সামনে রেখেই নতুন দল আত্মপ্রকাশ করতে পারে। আগামী পাঁচ বছরে অন্তত ৩০টি আসনে নির্বাচনী প্রস্তুতি নেওয়ার পরিকল্পনাও রয়েছে বলে জানান তিনি।
সব মিলিয়ে, আপ বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ এখন অনিশ্চয়তার মুখে। প্ল্যাটফর্মটি ঐক্যবদ্ধ থাকবে, নাকি ভেঙে নতুন রাজনৈতিক দল আত্মপ্রকাশ করবে- সেদিকেই এখন নজর রাজনৈতিক মহলের।