সিলেটে এক হালি লেবুর দাম ১০০ টাকা। তাও আবার মাঝারি সাইজের লেবু। বড় লেবুর দাম ব্যবসায়ীরা হাঁকাচ্ছেন ১২০ টাকা পর্যন্ত। বুধবার দুপুরে সিলেটের একাধিক কাঁচা বাজার ঘুরে দেখা গেছে একই চিত্র। সিলেট অঞ্চল সাইট্রাস জাতীয় ফলের উৎপাদন বেশি হয়। লেবুও ফলে খুব বেশি। অথচ সিলেটেই লেবুর হালির দাম অতীতের সব রেকর্ড ছাড়ালো।
বন্দরবাজারে ক্রেতা সেলিম উদ্দিন জানালেন- একটি পণ্যর দামই বুঝিয়ে দিয়েছে সিলেটে রমজানের দু’দিন আগে থেকেই পণ্যের দাম আকাশ ছুঁইলো। জেলা প্রশাসন ও সিটি করপোরেশন নীরব। বলছে; অভিযান হচ্ছে কিন্তু কোনো কাজই হচ্ছে না। তিনি জানান- সরকারের ট্রান্সজিকশন পিরিয়ড। বুধবার চেয়ারে বসলেন নতুন বাণিজ্যমন্ত্রী। তাকে তো আর দোষ দেয়া যায় না। যারা বিদায় নিলেন তারা এত দিন কী করলেন- পাল্টা প্রশ্ন ছুড়েন ওই ক্রেতা। রমজানকে সামনে রেখে এক সপ্তাহ আগে সিলেটে বৈঠক করেছিলেন সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরাও। সিটি করপোরেশন থেকে মূল্য নির্ধারণ করে দিলেও সেই মূল্য তালিকাকে ব্যবসায়ীরা তোয়াক্কাই করছেন না। কোনো কোনো পণ্য কেজিপ্রতি ৫০ টাকা বেশি দাম বেড়েছে। বাজার ঘুরে দেখা গেছে- লেবুর পরেই বাজারে বেড়েছে শসার বা খিরার দাম। ৭০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে এক কেজি শসা। অথচ এখন শসার মৌসুম। ক’দিন আগেও এই শসা বিক্রি হয়েছিল ৩০ টাকা কেজিতে। কোথাও কোথাও সেটি ২০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। আব লেবুর হালি বিক্রি হয়েছে ২০ থেকে ৩০ টাকার মধ্যে। এক লাফেই দুটি পণ্য প্রায় ৫০ থেকে ৭০ টাকা বেশি দরে বিক্রি হচ্ছে।
গত সোমবার নগরভবনে আয়োজিত মতবিনিময় সভায় সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মোহাম্মদ রেজাই রাফিন সরকার রমজানে ন্যায্যমূল্যে পণ্য বিক্রির আহ্বান জানান। ওই সভায় গরুর মাংস কেজিপ্রতি ৭৫০ টাকা, মহিষের মাংস ৬৫০ টাকা, খাসির মাংস ১১০০ টাকা, ছাগল ও ভেড়ার মাংস ১০০০ টাকা, সোনালী মুরগি ৩১০ টাকা এবং পোল্ট্রি মুরগি ১৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়। বাজারে মূল্যতালিকা প্রদর্শন, ভেজাল প্রতিরোধ এবং নিয়মিত বাজার মনিটরিংয়ের সিদ্ধান্তও নেয়া হয়েছিল। বাজার ঘুরে দেখা গেল ভিন্ন চিত্র। ব্রয়লার মুরগির দাম এক সপ্তাহে কেজিপ্রতি ২৫ টাকা বেড়েছে।
গত ১১ই ফেব্রুয়ারি যে মুরগি ১৬৫ টাকায় বিক্রি হয়েছিল, তা এখন ১৮৫ থেকে ১৯০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। সব ধরনের মাছেই কেজিপ্রতি ২৫ থেকে ৫০ টাকা পর্যন্ত দাম বেড়েছে। নগরের কাজিরবাজারের ব্যবসায়ীরা সিন্ডিকেট করে দাম বাড়িয়েছেন বলে জানিয়েছেন ক্রেতারা। ব্যবসায়ীদের দাবি উল্টো। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানিয়েছেন- আমদানি করা মাছের সংকট থাকায় দাম কিছুটা বেড়েছে। তবে সরবরাহ স্বাভাবিক হলে দাম কমে আসবে। এদিকে- বাজারে এলসি পিয়াজ ১০০ টাকা, রসুন, ২০০ টাকা, আদা, ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। ৫ লিটার সয়াবিন তেলের দাম বিক্রি হচ্ছে সাড়ে ৯০০ টাকা। ছোলার দাম ১১০ টাকা, খেসারি ডাল ১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। গরুর মাংস ৮০০ টাকা, খাসি ১০০০ টাকা কেজি দরে বিক্রি হচ্ছে।
সিলেট সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন- নির্ধারিত দামে পণ্য বিক্রির মনিটরিং করতে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা হচ্ছে। সিসিকের নির্ধারিত মূল্যের বেশি দামে মাংস বিক্রি করলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেয়া হবে। জাতীয় ভোক্তা অধিকার সংরক্ষণ অধিদপ্তর সিলেট জেলা কার্যালয়ের সহকারী পরিচালক দেবানন্দ সিনহা জানিয়েছেন- নিত্যপণ্যের দাম নিয়ন্ত্রণ ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে জেলা প্রশাসন, ভোক্তা অধিকার এবং নিরাপদ খাদ্য দপ্তরের সমন্বয়ে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। ওই কমিটি কাজ শুরু করে দিয়েছে বলে জানান তিনি।