Image description

সমগ্র কোরআন শরীফ মাত্র ২ মাসে নিজ হাতে লিখেছেন ৯ বছরের অরিনা সাফা খান। তারপর নিজ হাতে লেখা সেই পাণ্ডুলিপি বাধাই করার প্রস্তুতি চলছে। ১১৪টি সুরা সংবলিত ৩০ পারার এ কোরআন দেখে বোঝার উপায় নেই- এটি ছাপা না হাতে লেখা।

খুলনা মহানগরীর খালিশপুরের গোয়ালখালী এলাকার ব্যবসায়ী মো. শুকুর আলী খান ও গৃহিণী রাশিদা বেগমের ছোট মেয়ে অরিনা।

অরিনা খুলনার বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজের ৫ম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় নিজ হাতে পবিত্র কোরআন লিখেছে। কোরআনের হাফেজ না হয়েও সুরেলা কণ্ঠে পবিত্র কোরআন অসংখ্য সুরা মুখস্ত তেলাওয়াত করতে পারে সে। এমনকি ইসলামী সংগীতেও ব্যাপক পারদর্শী অরিনা।

পেয়েছে অনেক পুরস্কারও কোরআনের এ পাখি।

 

বিস্ময়কর প্রতিভাবান শিশু অরিনার সঙ্গে কথা হয় বাংলানিউজের। কত দিনে কোরআন লিখেছো জানতে চাইলে অরিনা বলে, ছোটবেলা থেকে আমার আরবি লিখতে ভালো লাগতো। আল্লাহর সন্তুষ্টির আশায় সম্পূর্ণ কোরআন শরীফ আমি ২ মাসে লিখেছি।

বড় হয়ে কি হতে চাও এমন প্রশ্নের উত্তরে অরিনা বলে, আমি বড় হয়ে একজন ভালো মানুষ হতে চাই। আল্লাহ যেটা নসিবে রেখেছে সেটাই হতে হবে এবং সেটাই হবো। তবে আমার ইচ্ছা আমি এমন একজন মানুষ হবো যেন আমি গরিব দুঃখীর পাশে দাঁড়াতে পারি মানুষ যেন আমার দ্বারা কষ্ট না পায়। আমি যেন সবার উপকারে আসতে পারি।

কীভাবে অরিনা এ অসাধ্য সাধন করেছে জানতে চাইলে তার মা রাশিদা বেগম বাংলানিউজকে বলেন, অরিনার বড় বোন আরবি ভাষা লিখতে শিখিয়েছে তাকে।

সেই থেকে অরিনা নিয়মিত আরবি লিখতো। ওর হাতের লেখা অনেক সুন্দর দেখে তার ফুফাতো ভাই নাঈম ওকে কোরআন শরীফ লিখতে বলে। সেই থেকে ও কোরআন শরীফ লেখা শুরু করে। অরিনার কোরআন লেখার তত্ত্বাবধায়ন করেছে ওর বড় বোন।

 

তিনি আরও বলেন, প্রতিদিন সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত কোরআন লিখতো অরিনা। আবার রাতেও  লিখতো। এভাবে ২ মাসে সে কোরআন লেখা শেষ করেছে। এ-৪ সাইজে ৭২৯ পৃষ্ঠায় সে পূর্ণাঙ্গ কোরআন শরীফ লিখেছে। অরিনা ইসলামী শিশু শিল্পী হিসেবে যেখানে যায় সেখান থেকেই পুরস্কার পায়।  সে ১ম থেকে ৩য় শ্রেণি পর্যন্ত দারুল হুদা মডেল মাদরাসায় পড়েছে। প্রতি ক্লাসে প্রথম স্থান অধিকার করেছে। পরে বাংলাদেশ নৌবাহিনী স্কুল অ্যান্ড কলেজে ভর্তি হয়। ৪র্থ শ্রেণিতে পড়ার সময় সে কোরআন লিখে।

খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় জামে মসজিদের খতিব মুফতি আবদুল কুদ্দুস বাংলানিউজকে বলেন, মাত্র ৯ বছর বয়সী অরিনা আরবি ক্যালিগ্রাফির নান্দনিকতা ও শুদ্ধভাবে তাজবিসহ যথাযথভাবে পবিত্র কোরআন সম্পূর্ণ নিজ হাতে লিখেছে। তার লেখা দেখে আমি মুগ্ধ হয়েছি। আলহামদুলিল্লাহ অনেক সুন্দর লিখেছে। এ কাজটি অনেক কঠিন কাজ। এজন্য তাকে আমি আন্তরিক মোবারকবাদ জানাই। একই সঙ্গে মহান আল্লাহর কাছে তার জন্য দোয়া করছি তার এ খেদমতকে আল্লাহ যেন কবুল করে নেন। দুনিয়া ও আখিরাতে তাকে যেন কল্যাণ দান করেন।