Image description

দিল্লি বিমানবন্দরে ভারতীয় ইমিগ্রেশন পুলিশের হাতে আটকের পর মুক্তি পেয়েছেন বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলন, হবিগঞ্জ জেলা শাখার সদস্য সচিব মাহদী হাসান। 

বুধবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) এক ভিডিও বার্তায় তিনি নিজেই মুক্তির বিষয়টি নিশ্চিত করেন।

ভিডিও বার্তায় মাহদী জানান, তাকে প্রায় ৪০ মিনিট পুলিশ হেফাজতে রাখা হয়েছিল। পরে পুনরায় ইমিগ্রেশন প্রক্রিয়া সম্পন্ন করে নির্ধারিত ফ্লাইটে ওঠার সুযোগ দেওয়া হয়। তবে পুরো ঘটনার পরও তিনি নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কা প্রকাশ করেন।

মাহদী বলেন, দেশে ফিরে সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে পুরো ঘটনা বিস্তারিত তুলে ধরবেন। তার দাবি, পুলিশ তাকে ‘খুবই খারাপ আচরণ’ করেছে এবং জেলে পাঠানোর হুমকি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি জানি না আমি কী করেছি। যদি কোনো অভিযোগ থাকে, তাহলে আমার দেশের কর্তৃপক্ষ বা দূতাবাসের সঙ্গে যোগাযোগ করতে বলেছিলাম। কিন্তু তারা কিছুই শোনেনি।’

তিনি আরও অভিযোগ করেন, তাকে জোর করে মোবাইল ফোন আনলক করিয়ে তল্লাশি করা হয়েছে। তার ভাষ্য অনুযায়ী, এক পর্যায়ে একজন কর্মকর্তা তার সঙ্গে শারীরিকভাবে অসদাচরণও করেন। মাহদী প্রশ্ন তোলেন, একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীর ব্যক্তিগত গোপনীয়তা এভাবে লঙ্ঘন করা কতটা যুক্তিসঙ্গত।

ভিডিও বার্তায় মাহদী বলেন, আমি তাদেরকে বলেছিলাম আমি কোনো অবৈধ কিছু করে থাকলে আমার দেশের সাথে যোগাযোগ করেন, এম্বাসির সাথে যোগোযোগ করেন। তারা কিছুই শুনে নাই। আমার সাথে খুবই বাজে আচরণ করেছে। আমার ১২টা ৪০ এ ফ্লাইট। এখন আমাকে রিলিজ করা হয়েছে, ইমিগ্রেশন দেওয়া হয়েছে। আমি এখন সেইফ আছি, তাদের সাথে কথা বলেছি।

তিনি আরও বলেন, এখন তারা স্বীকার করছেন যে তারা নাকি ভুল মানুষকে ধরেছেন। কিন্তু তারা আমার সাথে খুবই বাজে এপ্রোচ করেছে। তাদের একজন আমাকে ফিজিক্যালি এবিউজ করছিল, বাজে ভাবে টাচ করতিছিল। এসময় তিনি প্রশ্ন তুলে বলেন- একজন আন্তর্জাতিক যাত্রীর সাথে এসব করা উচিত কি-না?

মাহদী বলেন, তারা আমাকে এপ্রোচ করেছিল যে, এসআই সন্তোষকে মেরেছি। এজন্য আমার জোর করে আমার ফোন আনলক করেছিল, চেক করেছিল। তারা কি ইন্টারন্যাশনাল পেসেঞ্জারের প্রাইভেসি চেক করতে পারে?

সবশেষে মাহদী হাসান তার আটকের খবর ছড়িয়ে পড়ার পর উদ্বেগ প্রকাশ করায় দেশবাসীর প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান এবং দেশে ফিরে বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেওয়ার আশ্বাস দেন।