Image description

চট্টগ্রামের সাতকানিয়া উপজেলায় ফুল ছিঁড়তে নিষেধ করায় রাতের আঁধারে নুরুল ইসলাম নামে এক কৃষকের ১০ শতক জমির সূর্যমুখী ক্ষেতের সবগুলো গাছ কেটে দিয়েছে দূর্বৃত্তরা।

শনিবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে উপজেলার বাজালিয়া ইউনিয়ন ৪ নম্বর ওয়ার্ডের বটতল হিন্দু পাড়া সংলগ্ন মাহালিয়া বিলে এ ঘটনা ঘটে।

উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা টিটু দাশ বলেন, তেল ফসল উৎপাদন বৃদ্ধির লক্ষ্যে ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকদের প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় ৩৩ শতক জমিতে চাষের জন্য কৃষক নুরুল ইসলামকে ১ কেজি সূর্যমুখী বীজ ও ২০ কেজি সার প্রণোদনা দেওয়া হয়। তবে তিনি ১০ শতক জমিতে সূর্যমুখীর চাষ করেন। আগমী ১৫ থেকে ২০ দিনের মধ্যে সূর্যমুখী ফুলের বীজ পরিপক্ব হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে দুর্বৃত্তরা তার ক্ষেতের সবগুলো গাছ কেটে দিয়েছে। খবর পেয়ে আমি তাৎক্ষণিকভাবে ক্ষেতটি পরিদর্শন করেছি। এ ছাড়াও আগামী মৌসুমে সেই ক্ষতি কাটিয়ে উঠতে তাকে পুনরায় প্রণোদনা কর্মসূচির আওতায় সহায়তার আশ্বাস দিয়েছি।

ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক নুরুল ইসলাম বলেন, আমি উপজেলা কৃষি অফিসের পরামর্শ ও প্রণোদনায় জীবনের প্রথম সূর্যমুখী চাষ করেছি। গাছে ফুল আসার পর কিছু তরুণ ক্ষেতে এসে ছবি ও ভিডিও ধারণ করে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম ফেসবুকে শেয়ার করেন। এরপর থেকে আশেপাশের এলাকা থেকে বিভিন্ন বয়সের নারী-পুরুষ ও শিশুরা ক্ষেতে ভিড় করতে থাকেন। প্রতিদিন অন্তত ৬০০ থেকে ৭০০ মানুষ ছবি ও ভিডিও ধারণ করার জন্য আমার ক্ষেতে আসতেন। তারা ফুল ছেঁড়ার পাশাপাশি গাছ নষ্ট করত। এ ছাড়াও তাদের অবাধ চলাচলের কারণে আমার আশেপাশের অনেক কৃষকের সবজির ক্ষেত নষ্ট হয়। ফলে তারা মাঝেমধ্যে আমাকে নালিশ দিত। গতকাল (শনিবার) আমি রাগান্বিত হয়ে কয়েকজন তরুণ-তরুণীকে ফুল ছিঁড়তে এবং আমার পার্শ্ববর্তী কৃষকদের সবজি ক্ষেত নষ্ট না করার জন্য বলেছিলাম। কিন্তু সকালে (রবিবার) এসে দেখি আমার ক্ষেতের সবগুলো গাছ কেটে দেওয়া হয়েছে।

একই এলাকার কৃষক শওকত আলী ও বিপ্লব বিশ্বাস বলেন, জমিতে বীজ বপনের পর থেকে গাছে ফুল আসা পর্যন্ত নুরুল ইসলাম অনেক পরিশ্রম করেছেন। ফুলগুলো আর কয়েকদিন পরেই সংগ্রহ করার কথা ছিল। কিন্তু রাতের আঁধারে কে বা কারা সবগুলো গাছ কেটে দিয়েছে। যারা এমন ক্ষতি করেছে, তাদের উদ্দেশ্যে বুঝতে পারছি না। আমরা এ ঘটনার সাথে জড়িতদের খুঁজে বের করে আইনের আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি এবং কৃষি অফিসকে ক্ষতিগ্রস্ত নুরুল ইসলামের পাশে দাঁড়ানোর আহ্বান জানাচ্ছি।

সাতকানিয়া উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মো. মনিরুজ্জামান বলেন, 'বাজালিয়া ইউনিয়নে দায়িত্বপ্রাপ্ত আমাদের একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ক্ষেতটি পরিদর্শন করেছেন। আমরা ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকের পাশে থাকব এবং পুনরায় প্রণোদনা দিব। এ ছাড়াও তাকে সংশ্লিষ্ট প্রশাসনের নিকট এ বিষয়ে একটি লিখিত অভিযোগ দায়েরের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।'