Image description

‘শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস (সেবা) বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না।’ বিএনপি কেন্দ্রীয় সাবেক সহ-আন্তর্জাতিকবিষয়ক সম্পাদক ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনে নির্বাচিত স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার বক্তব্য দাবি করে একাধিক ফটোকার্ড সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো হচ্ছে। প্রচারিত কয়েকটি পোস্ট দেখুন এখানেএখানে এবং এখানে

 

তবে এশিয়া পোস্টের যাচাইয়ে দেখা গেছে তার বক্তব্যটি বিভ্রান্তিকরভাবে প্রচার করা হচ্ছে।

 

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে প্রচারিত এ সম্পর্কিত একটি ফটোকার্ডে দেখা যায়, পলাতক স্বৈরাচারী প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও রুমিন ফারহানার ছবি ব্যবহার করা কার্ডের উপরের দিকে লেখা হয়েছে, ‘শেখ হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস (সেবা) বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না।’

 

‘ভয়েজ বাংলা নিউজ’ নামে একটি ফেসবুক পেজে ফটোকার্ডটিতে সূত্র হিসেবে গোলাম মওলা রনির ফেসবুক পোস্টের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। তবে সেখানে এ ধরনের কোনো পোস্ট পাওয়া যায়নি।

 
 

 

অন্যদিকে প্রচারিত দাবিতে অন্তত ৫ ধরনের ফটোকার্ড ফেসবুকে ছড়াতে দেখা গেছে। তবে ‘আজকের কণ্ঠ’ নামে আওয়ামী লীগের একটি গুজব পেজ থেকে ফটোকার্ডটি সর্বপ্রথম পোস্ট করা হয়। সর্বশেষ এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত ওই পেজের পোস্টটিতে ৫৩ হাজারের বেশি প্রতিক্রিয়ার পাশাপাশি ৩ হাজারের বেশিবার পোস্টটি শেয়ার করা হয়েছে। এ ছাড়া সেখানে ২ হাজারের বেশি নেটিজেন মন্তব্য করেছেন, যাদের বেশিরভাগই দাবিটি বিশ্বাস করেছেন।

 

তবে সম্পর্কিত কী-ওয়ার্ড সার্চ করে দেখা গেছে, গত বছরের (২০২৫) ২২ জানুয়ারি ঢাকায় বাংলা একাডেমি অডিটরিয়ামে ‘আগামীর রাজনীতি: সমাজ ও রাষ্ট্রব্যবস্থা’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে ব্যারিস্টার রুমিন ফারহানার একটি বক্তব্য পাওয়া যায়। এতে অংশ নিয়ে তিনি বলেন, ‘ভারতের সঙ্গে যে সম্পর্ক গত ১৫ বছরে ছিল, সেটাকে কোনো কূটনীতির ভাষায় ব্যাখ্যা করতে পারবেন না। এটার একটা সাদামাটা বাংলা এক্সপ্রেশন হচ্ছে, হাসিনার তরফ থেকে শর্ত ছিল একটা, আমাকে ক্ষমতায় রাখতে হবে। ভোটে রাখবা, না বিনা ভোটে রাখবা, না কীভাবে রাখবা সেটা তোমরা জানো। তার বিনিময়ে তোমরা যা চাও, যেভাবে চাও এবং যেটা না চাও কিন্তু আমার মনে হয় যে, এটা দিলে তোমরা খুশি হবা, তোমাদের ভালো হবে তার সব আমি দেব।’

 

তার সম্পূর্ণ বক্তব্যটি দেখুন এখানে এবং এখানে

 

এ সময় বক্তব্যের একপর্যায়ে তাকে বলতে দেখা যায়, ‘আমরা যদি মনে করি যে, ভারত তার অবস্থান পরিবর্তন করবে। ভারত এখন বিএনপির সঙ্গে খুবই চমৎকার কথা বলছে বা বিএনপির ব্যাপারে ভালো ভালো বিশেষণ দিয়ে তারা আলাপ চালাচ্ছে। তার মানে এই নয় যে, তারা আওয়ামী লীগের ওপরে বাংলাদেশে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলকে তাদের বন্ধুর মতো বা বন্ধুত্বের জায়গায় জায়গা দেবে। কারণ ভারত খুব ভালো করেই জানে হাসিনার চেয়ে ভালো সার্ভিস বিশ্বাস করেন আল্লাহর কসম বাংলাদেশে কেউ দিতে পারবে না। মানে হাসিনার যেই সার্ভিস অ মাই গড। এ রকম সার্ভিস মানে এটা সম্ভব নয় বাংলাদেশের পলিটিকস করে; বাংলাদেশ কেন পৃথিবীর কোনো দেশের পলিটিকস করে আপনি আরেকটা দেশকে এই সার্ভিস দিতে পারবেন না। বাট হাসিনা এই সার্ভিস দিয়েছে।’