দীর্ঘদিন ধরেই ব্যবসায়ী মহল ও অর্থনীতিবিদদের একটি বড় অংশ বলে আসছিলেন—একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হলে বাংলাদেশের অর্থনীতিতে গতি ফিরবে, বিনিয়োগ বাড়বে, কর্মসংস্থানের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হবে এবং বাজারে আস্থা পুনরুদ্ধার হবে। বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন হয়েছে। এখন ব্যবসায়ী ও শিল্পোদ্যোক্তাদের দৃষ্টি নতুন সরকারের দিকে—কত দ্রুত নীতিগত স্থিতিশীলতা, আইনশৃঙ্খলা ও জ্বালানি সংকটের সমাধানে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়, সেটিই নির্ধারণ করবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের গতি।
গত প্রায় দেড় বছরের রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের উচ্চ সুদহার এবং জ্বালানি ঘাটতির কারণে দেশে বেসরকারি বিনিয়োগে স্থবিরতা নেমে আসে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি নেমে আসে এক অঙ্কে, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধনেও বড় পতন দেখা যায়। শিল্পোদ্যোক্তাদের মতে, নির্বাচনের মধ্য দিয়ে অন্তত একটি বড় অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে। এখন প্রয়োজন মসৃণ ক্ষমতা হস্তান্তরের পর দ্রুত নীতিগত স্বচ্ছতা ও অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় সম্পৃক্ততা।
শুক্রবার (১৩ ফেব্রুয়ারি) আনুষ্ঠানিক ফলাফল ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন। ঘোষিত ফলাফলে নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পথে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি)।
ঘোষিত ২৯৭ আসনের মধ্যে বিএনপি ও তার জোট পেয়েছে ২১২টি আসন। এর মধ্যে বিএনপি এককভাবে পেয়েছে ২০৯টি আসন। বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় নির্বাচনি ঐক্য পেয়েছে ৭৭টি আসন—যেখানে জামায়াতে ইসলামী এককভাবে পেয়েছে ৬৮টি আসন। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ একটি, স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসন পেয়েছেন। অন্যদের মধ্যে জাতীয় নাগরিক পার্টি ৬টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ২টি, খেলাফত মজলিস ১টি, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি-বিজেপি ১টি, গণসংহতি আন্দোলন ১টি এবং গণঅধিকার পরিষদ ১টি আসন পেয়েছে।
এই ফলাফলে স্পষ্ট সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের সুযোগ পাচ্ছে বিএনপি। ফলে দেশ অচিরেই একটি পূর্ণাঙ্গ নির্বাচিত সরকার পাচ্ছে—যা অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ একটি বার্তা বহন করছে।
আস্থার বার্তা বাজারে
নির্বাচিত সরকার গঠনের সম্ভাবনা বাজারে ইতিবাচক প্রত্যাশা তৈরি করেছে। ব্যবসায়ী নেতাদের মতে, রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা বিনিয়োগ সিদ্ধান্তে বড় ভূমিকা রাখে। দীর্ঘদিন ধরে নীতিগত অনিশ্চয়তা, প্রশাসনিক জটিলতা এবং বৈদেশিক বিনিয়োগে ধীরগতির যে অভিযোগ ছিল, নতুন সরকার তা কাটিয়ে উঠতে উদ্যোগ নেবে— এমন প্রত্যাশা তৈরি হয়েছে।
বিশেষ করে শিল্প খাত, রফতানি খাত ও অবকাঠামো উন্নয়নে গতি ফেরাতে দ্রুত নীতিগত সিদ্ধান্ত আসতে পারে বলে মনে করছেন অর্থনীতিবিদরা। বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কাছেও একটি স্থিতিশীল রাজনৈতিক কাঠামো গুরুত্বপূর্ণ বার্তা দেয়।
ব্যবসায়ী মহলের সার্বিক প্রত্যাশা—সরকার গঠনের পর দ্রুত কার্যকর নীতিগত সিদ্ধান্ত, কাঠামোগত সংস্কার ও ব্যক্তি খাতের সঙ্গে নিবিড় অংশীদারত্বের মাধ্যমে অর্থনীতিকে ইতিবাচক ধারায় ফেরানো।
নির্বাচিত সরকার একটি দেশের রাজনৈতিক, সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ—এমন মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রফতানিকারক সমিতির সাবেক পরিচালক মহিউদ্দিন রুবেল।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘একটি গণতান্ত্রিক দেশে গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সরকার গঠিত হলে ব্যবসা-বাণিজ্যের জন্য স্বাভাবিকভাবেই একটি ইতিবাচক পরিবেশ তৈরি হয়। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়ীরা এমন একটি পরিবেশের প্রত্যাশা করছিলেন, যেখানে নীতিগত ধারাবাহিকতা, আইনের শাসন ও প্রশাসনিক স্বচ্ছতা নিশ্চিত থাকবে।’’
মহিউদ্দিন রুবেল বলেন, “আমরা এখন শুধু কিছুটা নয়, বরং স্পষ্টভাবেই আশাবাদী। এতদিন যে স্থবিরতা বা অনিশ্চয়তা কিছু ক্ষেত্রে ছিল—বিশেষ করে বিনিয়োগ, ব্যবসা-বাণিজ্য ও আইনশৃঙ্খলার ক্ষেত্রে—সেগুলোর উন্নতি হবে বলে আমরা মনে করি। বিনিয়োগকারীরা অনেকটা অপেক্ষার মধ্যে ছিলেন। এখন সেই স্থবিরতা কাটবে এবং ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে নতুন গতি আসবে।”
তিনি আরও বলেন, ‘‘সঠিক শাসনব্যবস্থা, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ, আইনের সুশাসন এবং দীর্ঘমেয়াদি কাঠামোগত নীতি বাস্তবায়ন করা গেলে অর্থনীতিকে এগিয়ে নেওয়ার ক্ষেত্রে কোনও বাধা থাকবে না।’’
“আমাদের দক্ষ জনবল আছে, উদ্যোক্তাদের মানসিকতা আছে, এবং প্রবৃদ্ধির ক্ষুধাও আছে। যদি নীতিগুলো কাঠামোগতভাবে ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনার আলোকে বাস্তবায়ন করা হয়, তাহলে আগের অবস্থানে ফিরে যাওয়া তো সম্ভবই, বরং তার চেয়েও ভালো অবস্থানে পৌঁছানো যাবে,” বলেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘‘ব্যবসায়ী সমাজ কেবল আশ্বাস নয়, তারা চায় নিশ্চয়তা, কার্যকর অংশীদারিত্ব এবং একটি সুস্পষ্ট ভবিষ্যৎ দিকনির্দেশনা।’’
তিনি উল্লেখ করেন, বৈশ্বিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতিযোগিতা সক্ষমতা বাড়াতে হলে নীতিগত ধারাবাহিকতা, সরবরাহ চেইনের স্থিতিশীলতা এবং বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা জরুরি। তবে নতুন নেতৃত্ব ব্যবসা ও সরবরাহ ব্যবস্থার চাহিদা অনুধাবন করবে—এমন আশাবাদও ব্যক্ত করেন তিনি।
ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেছেন, বর্তমানে দেশের ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রধান তিন প্রতিবন্ধকতা হলো আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির দুর্বলতা, ব্যাংক খাতের অস্থিরতা এবং জ্বালানি সংকট। এসব সমস্যার দ্রুত ও কার্যকর সমাধান দেখতে চান ব্যবসায়ীরা।
তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচিত সরকারের কাছে ব্যবসায়ী মহলের প্রত্যাশা—তারা যেন উদ্যোক্তাদের সমস্যাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে বিবেচনা করেন। এ লক্ষ্যে ডিসিসিআই ইতোমধ্যে একটি শ্বেতপত্র প্রণয়ন করেছে, যা নতুন সরকারের কাছে উপস্থাপন করা হবে।’’
তাসকীন আহমেদের মতে, তাৎক্ষণিক সংকটের পাশাপাশি লজিস্টিক ব্যবস্থার দুর্বলতা, এনবিআরে দুর্নীতি, কর ও ভ্যাট সংক্রান্ত জটিলতা এবং অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা দীর্ঘদিনের কাঠামোগত সমস্যা। টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে নতুন সরকারকে এসব ইস্যুতেও সমন্বিত ও দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নিতে হবে।
দেশে দীর্ঘমেয়াদি উচ্চ মূল্যস্ফীতির চাপ এখনো বিরাজ করছে। ২০২৪ সালের আগস্টে অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব গ্রহণের সময় মূল্যস্ফীতির হার ছিল ১১ শতাংশের ঘরে। তা নিয়ন্ত্রণে আনার জন্য বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে উন্নীত করে এবং এর প্রভাবে ব্যাংক ঋণের সুদহার প্রায় ১৫ শতাংশে স্থিত হয়।
তবে গত দেড় বছরে বাজারে মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে সরকার উল্লেখযোগ্য সাফল্য দেখাতে পারেনি। সর্বশেষ জানুয়ারিতে মূল্যস্ফীতির হার দাঁড়িয়েছে ৮.৫৮ শতাংশে এবং অক্টোবরের পর থেকে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা ধরে রেখেছে। অন্তর্বর্তী সরকার অবশ্য আশা করেছিল, মূল্যস্ফীতি ৬.৫ শতাংশে নামিয়ে আনা সম্ভব হবে।
ব্যবসায়ীদের মতে, এই চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় এবং অর্থনীতিকে গতিশীল করতে হলে নতুন সরকারের সঙ্গে বেসরকারি খাতের নিবিড় সমন্বয় অপরিহার্য। তারা আশা করছেন, সরকারি নীতি ও ব্যবসায়ীদের অংশগ্রহণ একসাথে কাজে লাগালে মূল্যস্ফীতির চাপ কমিয়ে দেশের অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডকে পুনরায় গতিশীল করা সম্ভব হবে।
বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানের প্রত্যাশা
নতুন সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হবে—বিনিয়োগ প্রবাহ বাড়ানো, কর্মসংস্থান সৃষ্টি এবং মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে আনা। নির্বাচনী ইশতেহারে অর্থনৈতিক সংস্কার, ব্যবসাবান্ধব নীতি এবং কর্মসংস্থানমুখী শিল্পায়নের প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে। ফলে আগামী বাজেট ও নীতিগত ঘোষণায় সেই প্রতিশ্রুতির প্রতিফলন দেখতে চায় ব্যবসায়ী মহল।
ব্যাংকিং খাতে সংস্কার, রাজস্ব ব্যবস্থাপনায় স্বচ্ছতা এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণ— এই তিনটি খাতকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে অর্থনীতি দ্রুত গতিশীল হতে পারে বলে মত বিশ্লেষকদের।
এ বেসরকারি গবেষণা সংস্থা সেন্টার ফর পলিসি ডায়লগের (সিপিডি) সম্মানীয় ফেলো ড. মোস্তাফিজুর রহমান বলেছেন, দীর্ঘদিন নির্বাচিত সরকার না থাকায় দেশে বিনিয়োগ কার্যক্রমে স্থবিরতা দেখা দেয়। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি কমছিল, মূলধনি যন্ত্রপাতি (ক্যাপিটাল মেশিনারিজ) আমদানি হ্রাস পাচ্ছিল এবং শিল্পায়নের গতি মন্থর হয়ে উৎপাদনও কমে যাচ্ছিল। এর ফলে কর্মসংস্থানের ওপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
বাংলা ট্রিবিউনকে তিনি বলেন, ‘‘নির্বাচনের মাধ্যমে একটি নির্বাচিত সরকার গঠিত হওয়ায় ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তাদের মধ্যে আস্থা ফিরবে বলে আশা করা যায়। রাজনৈতিক অনিশ্চয়তা কাটার ফলে অন্তত একটি গুরুত্বপূর্ণ অনিশ্চয়তার অবসান হয়েছে— যা অর্থনীতির জন্য ইতিবাচক সংকেত। এতে ধীরে ধীরে ব্যবসা-বাণিজ্যের গতি বাড়তে পারে এবং জিডিপি প্রবৃদ্ধিও ঊর্ধ্বমুখী হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘‘কেবল নির্বাচিত সরকার গঠিত হলেই স্বয়ংক্রিয়ভাবে বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পাবে— এমনটি মনে করার সুযোগ নেই। নতুন সরকারকে বিদ্যমান কাঠামোগত সমস্যাগুলো গভীরভাবে অনুধাবন করে কার্যকর নীতি ও সংস্কারমূলক পদক্ষেপ নিতে হবে। ব্যবসা সহজীকরণ, ঘুষ-দুর্নীতি ও অপ্রয়োজনীয় ব্যয় কমানোসহ বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নত করার উদ্যোগ জরুরি।’’
ড. মোস্তাফিজুর রহমানের মতে, দেশের ব্যবসায়ীদের মধ্যে আস্থা বৃদ্ধি পেলে দেশীয় বিনিয়োগ বাড়বে। একইসঙ্গে প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ (এফডিআই) আকর্ষণেও ইতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে।
ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দুই দশকের শাসনামলের পর দেশের ব্যাংক খাত অভূতপূর্ব চ্যালেঞ্জের মুখে পড়েছে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের বিভিন্ন নিরীক্ষা অনুযায়ী এই খাত থেকে ৫ লাখ কোটি টাকারও বেশি সম্পদ লুণ্ঠিত হয়েছে। খেলাপি ঋণের হার প্রায় ৩৫ শতাংশে পৌঁছেছে এবং সরকারি-বেসরকারি অর্ধেকের বেশি ব্যাংক এখন অনিয়ম ও দুর্নীতির বোঝা বহন করছে। গ্রাহকদের অর্থ ফেরত দিতে ব্যর্থতা এবং শাসন ব্যবস্থার ঘাটতি মোকাবিলা করতে অন্তর্বর্তী সরকার শরিয়াহভিত্তিক পাঁচটি ব্যাংক একীভূত করে একটি ব্যাঙ্কে রূপান্তরের উদ্যোগ চূড়ান্ত করেছে। এর প্রভাব দেশের অর্থনীতিতে গভীরভাবে পড়েছে।
মিউচুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংকের (এমটিবি) ব্যবস্থাপনা পরিচালক সৈয়দ মাহবুবুর রহমান বলেন, “নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে পরিবর্তন আনার চেষ্টা করবে আশা করি। কিন্তু বাস্তবতা হলো, ব্যাংক খাতে এখনও শৃঙ্খলা ফেরেনি, ব্যাংকিং আইনের সংশোধনও হয়নি। তিনি বলেন পরিস্থিতি কঠিন হলেও নতুন সরকারের সদিচ্ছা থাকলে কিছু করা সম্ভব।’’
তিনি উল্লেখ করেন, এনার্জি খাতে এখনও ১৪-১৮ হাজার কোটি টাকা বকেয়া রয়েছে। সরকার এ টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হলে রমজানে বিদ্যুৎ সংকট তৈরি হতে পারে, এমনকি গ্রীষ্মেও বিদ্যুৎ অনিশ্চিত হয়ে যেতে পারে। শুধু ব্যাংক খাত নয়, সব খাত মিলিয়ে পরিস্থিতি দেখতে হবে।
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে বিনিয়োগ পরিস্থিতিও একেবারে নাজুক পর্যায়ে নেমে গেছে। বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি মাত্র ৬ শতাংশে সীমিত ছিল। গত ১৮ মাস ধরে দেশী ও বিদেশি বিনিয়োগের খরার প্রভাবে কর্মসংস্থান সংকুচিত হয়েছে, নতুন চাকরির সুযোগ সীমিত এবং অনেক শিল্প-কারখানা সাময়িকভাবে বন্ধ ছিল। বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪-২৫ অর্থবছরে দেশী-বিদেশী বিনিয়োগ প্রস্তাব নিবন্ধন কমেছে ৫৮ শতাংশ, প্রকৃত বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ৫৭ শতাংশ, আর নতুন বিদেশী বিনিয়োগ কমেছে ১৬ শতাংশ।
সামনের দিনগুলো
নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নতুন সরকারের জন্য নীতিগত সিদ্ধান্ত গ্রহণ সহজ করবে। তবে একই সঙ্গে প্রত্যাশার চাপও বাড়বে। বাজারে আস্থা ফিরিয়ে আনা, বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ শক্তিশালী করা, বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করা এবং কর্মসংস্থান বৃদ্ধি—এসব ক্ষেত্রে দ্রুত ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে হবে।
রাজনৈতিক স্থিতিশীলতার এই নতুন অধ্যায় অর্থনীতিতে গতি ফেরানোর সুযোগ তৈরি করেছে। এখন নজর থাকবে—নতুন সরকার কত দ্রুত এবং কতটা কার্যকরভাবে সেই সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে পারে।