গাইবান্ধার পাঁচটি সংসদীয় আসনের মধ্যে চারটিতে বিপুল ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াত মনোনীত দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের প্রার্থীরা। একমাত্র গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে হাড্ডাহাড্ডি লড়াই করে মাত্র তিন হাজার ভোট ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন বিএনপির প্রার্থী।
বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) মধ্যরাতে গাইবান্ধা জেলা রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ের ফলাফল কন্ট্রোল রুম থেকে আসনভিত্তিক ফলাফল বেসরকারিভাবে ঘোষণা করা হয়। এর আগে সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয় থেকেও কেন্দ্র থেকে পাওয়া প্রাপ্ত ভোটে বেসরকারিভাবে ফলাফল জানানো হয়েছিল।
ঘোষিত ফল অনুযায়ী, গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে ১ লাখ ২ হাজার ৭২৯ ভোটের ব্যবধানে জয়ী হয়েছেন জামায়াতের মো. মাজেদুর রহমান, গাইবান্ধা-২ সদর আসন থেকে জয়ী হন মো. আব্দুল করিম, গাইবান্ধা-৩ আসনে আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু, গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) আসনে ধানের শীষ প্রতীকের মো. শামীম কায়সার ও গাইবান্ধা-৫ আসনে আব্দুল ওয়ারেছ বিজয়ী হন।
গাইবান্ধা-১ (সুন্দরগঞ্জ) আসনে জামায়াত মনোনীত মো. মাজেদুর রহমান পেয়েছেন ১ লাখ ৪০ হাজার ৭২৬ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী বিএনপির জিয়াউল ইসলাম মোহাম্মাদ আলী পেয়েছেন ৩৭ হাজার ৯৯৭ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন জাতীয় পার্টির (জাপা) মহাসচিব শামীম হায়দার পাটোয়ারী। ৩৩ হাজার ৯৭৬ ভোট পান তিনি। মোট ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ১৯ হাজার। ১২৪টি কেন্দ্রে ভোটগ্রহণের হার ৫৯ দশমিক ৪২ শতাংশ।
গাইবান্ধা-২ (সদর) জামায়াতের মো. আব্দুল করিম পেয়েছেন ১ লাখ ২ হাজার ২৩০ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের আনিচ্ছুজামান খান বাবু পেয়েছেন ৯২ হাজার ৮৯০ ভোট। তৃতীয় হয়েছেন ইসলামি আন্দোলনের মো. আব্দুল মাজেদ; পেয়েছেন ২ হাজার ৩৬৭ ভোট। ভোটগ্রহণের হার ৬০ দশমিক ২৪ শতাংশ।
গাইবান্ধা-৩ (সাদুল্লাপুর-পলাশবাড়ী) জামায়াতের আবুল কাওছার মোহাম্মদ নজরুল ইসলাম লেবু পেয়েছেন ১ লাখ ৬০ হাজার ৫৫২ ভোট। ধানের শীষ প্রতীকের ডা. মইনুল হাসান সাদিক পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ৭০০ ভোট। ভোট ব্যবধানের ২১ হাজার ৮৫২। তৃতীয় হয়েছেন ইসলামি আন্দোলনের এটিএম আওলাদ হোসাইন পলাশ; পেয়েছেন ২ হাজার ৮১৬ ভোট।
গাইবান্ধা-৪ (গোবিন্দগঞ্জ) বিজয়ী হন ধানের শীষ প্রতীকের মো. শামীম কায়সার লিংকন। তিনি পেয়েছেন ১ লাখ ৪১ হাজার ৭১২ ভোট। তার প্রতিদ্বন্দ্বী জামায়াতের ডা. আব্দুর রহিম সরকার পেয়েছেন ১ লাখ ৩৮ হাজার ২০০ ভোট। ভোটের ব্যবধান মাত্র ৩ হাজার ৫১২টি। তৃতীয় হয়েছেন লাঙ্গল প্রতীকের মশিউর রহমান; পেয়েছেন ২ হাজার ৩৩০ ভোট। ভোটার সংখ্যা ৪ লাখ ৬৪ হাজার ৮৭১। ভোটগ্রহণের হার ৬২.৯৪ শতাংশ।
গাইবান্ধা-৫ জামায়াতের আব্দুল ওয়ারেছ পেয়েছেন ৮৭ হাজার ৯১৩ ভোট। তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী ধানের শীষ প্রতীকের ফারুক আলম সরকার পেয়েছেন ৭২ হাজার ৭৪১ ভোট। ভোটের ব্যবধান ১৫ হাজার ১৭২। তৃতীয় হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী নাহিদুজ্জামান নিশাদ, পেয়েছেন মোটরসাইকেল প্রতীকে ৩৭ হাজার ২৩৫ ভোট। মোট ভোটার ২ লাখ ৪৯ হাজার ৪৬২। ভোটগ্রহণের হার ৫৭.৭১ শতাংশ।