আগামীকাল বৃহস্পতিবার (১২ ফেব্রুয়ারি) অনুষ্ঠিত হতে যাওয়া ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রকাশিত এক জনমত জরিপে বড় ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) জোট। আজ বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) রাজধানীর বনানীতে এক সংবাদ সম্মেলনে যৌথভাবে এই সমীক্ষার ফলাফল প্রকাশ করে গবেষণা প্রতিষ্ঠান সেন্টার ফর সোশ্যাল ইনসাইট (সিএসআই) এবং লন্ডনের সাপ্তাহিক সুরমা।
৬৪ হাজার ৮৯০ ভোটারের মতামতের ভিত্তিতে প্রকাশিত এই জরিপ বলছে, নির্বাচনে বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ১৭১টি আসনে এগিয়ে আছে। আর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন জোট এগিয়ে আছে ৩৫টিতে। এ ছাড়া অন্যান্য দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ৭টি আসনে এগিয়ে আছে।
তবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে ৮৬টি আসনে। যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে বলে সমীক্ষায় বলা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়েছে, ১০ লাখেরও বেশি তথ্য-উপাদান (ডেটা পয়েন্ট) বিশ্লেষণ করে এই প্রতিবেদনটি তৈরি করা হয়েছে। এতে দেখা যায়, আসন্ন ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে দেশের ৮১ শতাংশ ভোটারের মধ্যে অভাবনীয় উৎসাহ কাজ করছে।
জরিপ অনুযায়ী, বিএনপি জোট ১৭১ থেকে ২২২টি আসন পেয়ে সরকার গঠনের দৌড়ে স্পষ্ট ব্যবধানে এগিয়ে রয়েছে। বিপরীতে, জামায়াত জোট তাদের রাজনৈতিক ইতিহাসের সর্বোচ্চ আসন পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি করেছে।
তবে সমীক্ষায় বলা হয়েছে, দেশের অন্তত ৮৬টি আসনে দুই পক্ষের মধ্যে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনা রয়েছে, যা নির্বাচনের চূড়ান্ত ফলে বড় প্রভাব ফেলতে পারে।
এবারের নির্বাচনের সবচেয়ে ইতিবাচক দিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে প্রতিযোগিতার পরিবেশকে।
জরিপে অংশগ্রহণকারীদের মধ্যে ৯২ শতাংশ ভোটার মনে করছেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ ভূমিকা পালন করছে এবং সব দলের জন্য একটি ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ বা সমান সুযোগ বিদ্যমান রয়েছে। এছাড়া ভোটারদের মধ্যে বিগত সময়ের তুলনায় নির্বাচনী ভীতি অনেকটাই কমেছে বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জারিপ সংশ্লিষ্টরা জানান, শহর ও গ্রাম—উভয় অঞ্চলেই সাধারণ মানুষ এবং পেশাজীবীদের মাঝে ভোট দেওয়ার ব্যাপারে ব্যাপক আগ্রহ দেখা গেছে। তবে ভোট-পরবর্তী পরিস্থিতি বা স্থিতিশীলতা নিয়ে সাধারণ মানুষের মনে এখনো কিছুটা সংশয় ও অনিশ্চয়তা রয়ে গেছে।
সিএসআই অফিসে আয়োজিত এই সংবাদ সম্মেলনে প্রতিষ্ঠানটির কো-অর্ডিনেটর ফজলুল কাদের উপাত্ত উপস্থাপন করেন এবং সাপ্তাহিক সুরমা সম্পাদক শামসুল আলম লিটন সঞ্চালনা ও ফলাফল ব্যাখ্যা করেন। এ সময় বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমের প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।