দেশের অভ্যন্তরে নগদ অর্থ বহনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পক্ষ থেকে কোনো নির্দিষ্ট সীমা নির্ধারণ করা হয়নি বলে জানিয়েছেন বাংলাদেশ ব্যাংকের মুখপাত্র আরিফ হোসেন খান। তিনি বলেন, অর্থের উৎস বৈধ হলে ব্যক্তিগত প্রয়োজনে যে কেউ প্রয়োজনমতো নগদ অর্থ বহন করতে পারেন।
বুধবার (১১ ফেব্রুয়ারি) গণমাধ্যমে দেওয়া বক্তব্যে তিনি এ তথ্য জানান।
একই বক্তব্য দিয়েছেন নির্বাচন কমিশন (ইসি) সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ। তিনি বলেন, ভোটের সময়ও নগদ অর্থ বহনে নির্দিষ্ট কোনো সীমা নেই। তবে অর্থের উৎস ও ব্যবহার বৈধ হতে হবে। যদি ভোটে প্রভাব বিস্তারের অভিযোগ ওঠে, তাহলে বিষয়টি ‘নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি’ তদন্ত করবে।
এর আগে বুধবার দুপুরে সৈয়দপুর বিমানবন্দর থেকে ঠাকুরগাঁও জেলা জামায়াতের আমির বেলাল উদ্দিনকে নগদ ৭৪ লাখ টাকাসহ আটক করে পুলিশ। বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, তার কাছ থেকে উদ্ধার হওয়া টাকার পরিমাণ ৭৪ লাখ।
আটকের পর অসুস্থ হয়ে পড়লে তাকে প্রথমে রংপুর সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) এবং পরে রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের আইসিইউতে ভর্তি করা হয়।
আটকের পর প্রকাশিত এক ভিডিও বার্তায় বেলাল উদ্দিন দাবি করেন, তার কাছে অর্ধকোটি টাকার বেশি ছিল, যা তার গার্মেন্টস ব্যবসার লেনদেনের অর্থ।
হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালক গ্রুপ ক্যাপ্টেন এস এম রাগীব সামাদ গণমাধ্যমকে বলেন, কাস্টমসের অনাপত্তিপত্র নিয়েই তিনি টাকা বহন করছিলেন। দেশের অভ্যন্তরীণ রুটে নগদ অর্থ পরিবহনে আইনগত কোনো সীমা নেই।
নীলফামারীর পুলিশ সুপার শেখ জাহিদুল ইসলাম বলেন, আটক ব্যক্তি প্রাথমিকভাবে অর্ধকোটির বেশি টাকার কথা জানিয়েছেন। আনুষ্ঠানিক গণনা শেষে সঠিক পরিমাণ জানানো হবে। টাকার উৎস ও বহনের কারণ খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
কাস্টমস কর্মকর্তারা জানান, আন্তর্জাতিক রুটে বৈদেশিক মুদ্রা বা নির্দিষ্ট অঙ্কের অর্থ বহনের ক্ষেত্রে বিধিনিষেধ রয়েছে। তবে দেশের ভেতরে নগদ অর্থ পরিবহনে সরাসরি কোনো সীমা নির্ধারিত নয়। সন্দেহজনক লেনদেনের ক্ষেত্রে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হয়।
আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর একটি সূত্র জানায়, দেশের ভেতরে অর্থ পরিবহন বৈধ হলেও উৎস ও ব্যবহারের স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের দায়িত্ব। অভিযোগ প্রমাণিত হলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে