Image description

ঢাকা মহানগর পুলিশের তেজগাঁও বিভাগের অতিরিক্ত উপ-পুলিশ কমিশনার (এডিসি) জুয়েল রানা বলেছেন, ভোটকেন্দ্রে বিশৃঙ্খলা বা ব্যালট বাক্সে হাত দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কেউ বিশৃঙ্খলা সৃষ্টির চেষ্টা করলে তাকে ‘রাষ্ট্রীয় শত্রু’ হিসেবে গণ্য করে আইনে বর্ণিত সর্বোচ্চ কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। 

তিনি বলেন, ‘ব্যালট বক্স তো অনেক দূরের বিষয়—ব্যালট বক্স পর্যন্ত পৌঁছাতে পারবে কি না সেটাই প্রশ্ন। এখানে আর্মি আছে, পুলিশ আছে, র‍্যাব আছে, বিজিবি আছে, আনসার আছে। সবার হাতে আধুনিক ও দামি অস্ত্র আছে, একে-৪৭ থাকবে। ব্যালট বক্সে হাত দিলে হাতই থাকবে না। বিশৃঙ্খলাকারীদের সর্বোচ্চ কঠোর হস্তে দমন করা হবে।’

মঙ্গলবার (১০ ফেব্রুয়ারি) এক নিরাপত্তা সংক্রান্ত ব্রিফিংয়ে এডিসি জুয়েল রানা এসব কথা বলেন। 

তিনি বলেন, প্রচারণা চালানোর জন্য যত ধরনের আইনি সহযোগিতা প্রয়োজন ছিল, পুলিশ তা নিশ্চিত করেছে। ‘আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, সেটা রেখেছি। প্রত্যেক প্রার্থীকে সমান গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেছি। তাদের ভিআইপি ব্যক্তি হিসেবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রত্যেক প্রার্থীর সঙ্গে প্রতিটি মুহূর্তে পুলিশ ছিল—ডানে-বামে পুলিশ। একদম ভিআইপি নিরাপত্তায়, সুন্দর পরিবেশে তারা সর্বোচ্চ প্রচারণা চালিয়েছেন,’ বলেন তিনি।

তিনি উল্লেখ করেন, ঢাকা-১৩ আসনে প্রচার-প্রচারণা দেশের শীর্ষে অবস্থান করলেও কোথাও কোনো বিশৃঙ্খলা, হানাহানি, ভাঙচুর বা সংঘর্ষ হয়নি। ‘আমরা যে ওয়াদা করেছিলাম, এখন পর্যন্ত তা রক্ষা করতে পেরেছি,’ যোগ করেন তিনি।

এডিসি জুয়েল বলেন, ভোটের আর মাত্র দুই দিন বাকি—‘আগামীকাল একদিন, এরপর ১২ তারিখ ভোটের দিন। আমরা আমাদের ওয়াদা পূরণের দ্বারপ্রান্তে। ইনশাআল্লাহ ১২ তারিখে জনগণের দীর্ঘদিনের হারিয়ে যাওয়া ভোটাধিকার সুন্দরভাবে তাদের হাতে বুঝিয়ে দেওয়া হবে। জনগণের দ্বারা নির্বাচিত সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার মাধ্যমে আমরা আমাদের দায়িত্ব পূর্ণভাবে বুঝিয়ে দিতে পারব।’

তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, ম্যাজিস্ট্রেট, রিটার্নিং কর্মকর্তা—সবাই জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে তৎপর। ‘সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকা ব্যয় হচ্ছে শুধুমাত্র জনগণের ভোটাধিকার বুঝিয়ে দিতে। তাই সাধারণ ভোটারদের প্রতি বিনীত অনুরোধ—আপনারা দলে দলে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে আসবেন। এটি আপনাদের গণতান্ত্রিক অধিকার, একই সঙ্গে দায়িত্ব। এই দায়িত্ব পালনই রাষ্ট্রে আপনাদের সম্মান বাড়ায়,’ বলেন তিনি।

বয়স্ক ভোটারদের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘বাসায় যদি বৃদ্ধ মা-বাবা বা অন্য বয়স্ক ভোটার থাকেন, দয়া করে তাদের সঙ্গে নিয়ে আসবেন।’ মা-বোনদের প্রতিও আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘এই অধিকার অবহেলা করবেন না। দলে দলে ভোটকেন্দ্রে আসুন, হারিয়ে যাওয়া ক্ষমতা ফিরিয়ে নিন।’

অতীতে ভোটকেন্দ্রে ভীতি প্রদর্শন, জাল ভোট বা অন্যের ভোট দেওয়ার চেষ্টার ঘটনা ঘটেছে উল্লেখ করে এডিসি জুয়েল বলেন, এবার সে সুযোগ নেই। ‘ইতোমধ্যে ২৪ ঘণ্টা লাইভ মনিটরিংয়ের ব্যবস্থা করা হয়েছে। ভিডিও রেকর্ডিং হবে। কেউ অভিযোগ করলে ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া যাবে। আর্মি, পুলিশ, র‍্যাব, বিজিবি, এপিবিএন, আনসার—লক্ষ লক্ষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য মাঠে থাকবে। সাদা পোশাকে গোয়েন্দা সংস্থার সদস্যরাও থাকবে, ক্যামেরাসহ। নির্বাচন কমিশন কেন্দ্রের বাইরে মোবাইল ফোন ব্যবহারের অনুমতিও দিয়েছে। সবকিছু রেকর্ডেড থাকবে,’ বলেন তিনি।

তিনি প্রশ্ন রাখেন, ‘এত নিরাপত্তার মধ্যে কে বিশৃঙ্খলা করতে আসবে? আহাম্মক ছাড়া কেউ আসবে কি? আহাম্মকের শাস্তি যা হয়, তাই হবে।’ তিনি জানান, আনসার বাহিনীর প্রধানসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী কঠোর ভাষায় সতর্কবার্তা দিয়েছে। ‘আইনে যেভাবে বলা আছে, বিশৃঙ্খলাকারীদের সর্বোচ্চ কঠোর হস্তে দমন করা হবে। তাদের উদ্দেশ্য যদি রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থাকে হুমকির মধ্যে ফেলা হয়, তবে তাকে রাষ্ট্রীয় শত্রু হিসেবে গণ্য করা হবে এবং আইনে বর্ণিত কঠিন থেকে কঠোরতর ব্যবস্থা নেওয়া হবে। বাংলাদেশে তা একটি উদাহরণ হয়ে থাকবে,’ বলেন তিনি।

গোয়েন্দা নজরদারির বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আপনারা শুধু আইসবার্গের উপরের এক ভাগ দেখেন। বাকি দশ ভাগ আমরা গোপনে কাজ করি। সব প্রস্তুতি নেওয়া আছে। কেউ সাহসই পাবে না।’ তিনি পুনরায় বলেন, ‘ব্যালট বাক্স পর্যন্ত পৌঁছানোই কঠিন। ব্যালট বাক্স চোখেই দেখতে পারবে না যারা চুরি বা বিশৃঙ্খলার উদ্দেশ্যে যাবে। ব্যালট বাক্স দেখবে শুধু বৈধ ভোটাররা, যারা স্লিপ নিয়ে সুন্দরভাবে ভোট দিতে যাবে। আমরা শতভাগ প্রস্তুত।’

ভোটের দিনকে উৎসবমুখর আখ্যা দিয়ে তিনি বলেন, ‘ঈদের আমেজে ভোটকেন্দ্রে আসুন। যেমন ঈদের দিনে বাসায় গেলে আপ্যায়ন করা হয়, তেমন পরিবেশ তৈরি করা হয়েছে। ১২ তারিখ একটি উৎসবের মতো হবে।’ তিনি দাবি করেন, বাসস্ট্যান্ডগুলোতে ইতোমধ্যে ভিড় বেড়েছে, ভাড়া বেড়েছে—মানুষ নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গিয়ে ভোট দিতে যাচ্ছে। ‘এটা আমাদের জন্য বড় গুড সাইন। জনগণ তাদের কাঙ্ক্ষিত ক্ষমতা ফেরত নিতে যাচ্ছে। এটা প্রমাণ করে আমরা সফল এবং আমরা পারি,’ বলেন এডিসি জুয়েল রানা।