২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ছাত্র–জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা ও আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পরপরই বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে ভারতীয় মূলধারার একাধিক সংবাদমাধ্যমে ধারাবাহিকভাবে বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্যভিত্তিক সংবাদ প্রচার শুরু হয়। এসব প্রতিবেদনের সিংহভাগজুড়ে ছিলো বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান সংক্রান্ত প্রচারণা—যা পরবর্তী সময়ে দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো যাচাই করে।
দ্য ডিসেন্ট ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট থেকে ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত বাংলাদেশ ও আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর ওয়েবসাইটে ‘জঙ্গি, ‘উগ্রবাদী’, ‘সন্ত্রাসী’ ইত্যাদি কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন খুঁজে দেখার চেষ্টা করেছে। একইভাবে এসব কি-ওয়ার্ডের ইংরেজি সমার্থক শব্দ—যেমন ‘Militancy’, ‘Terrorism’, ‘Terrorist’ ও ‘Extremist’ ইত্যাদি—ব্যবহার করেও ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদন খুঁজে দেখা হয়েছে।
এক্ষেত্রে বাংলাদেশি তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে Rumor Scanner, Dismislab, BoomBD, Fact Watch ও The Dissent; ভারতীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে যথাক্রমে NewsChecker, Fact Crescendo, Alt News ও AFP Fact Check (Bangladesh)। এছাড়া বাংলাদেশের অন্তর্বর্তী সরকার-চালিত তথ্য যাচাইকারী প্ল্যাটফর্ম CA Press Wing Facts-এর ফেসবুক পেজেও উল্লিখিত কি-ওয়ার্ড ব্যবহার করে প্রতিবেদন খুঁজে দেখা হয়েছে।
এসব তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান মূলত রাজনৈতিক, ধর্মীয়, সাংস্কৃতিকসহ বিভিন্ন ইস্যুতে অপতথ্য ও ভুলতথ্য মোকাবেলায় কাজ করে।
এই প্রক্রিয়ায় দ্য ডিসেন্ট অন্তত ১৯৭টি যাচাই প্রতিবেদন খুঁজে পায়।
বিশ্লেষণের জন্য এসব যাচাই প্রতিবেদনের মধ্য থেকে আমরা ৮টিকে বেছে নিই, যেগুলো শুধুমাত্র ভারতীয় গণমাধ্যমগুলোতে প্রচারিত ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ’ সংশ্লিষ্ট বিভ্রান্তিকর ও মিথ্যা তথ্যভিত্তিক সংবাদকে খণ্ডন করেছে।
এই ৮টি ফ্যাক্টচেক প্রতিবেদনে ১৭টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত মোট ২৩টি সংবাদ ও ভিডিও প্রতিবেদনের উল্লেখ রয়েছে। এসব প্রতিবেদন থেকে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট মোট ৭টি প্রধান দাবি শনাক্ত করা হয়েছে।
দাবিগুলো ছিল—বাংলাদেশ সরকার জেএমবি, হুজি ও হিযবুত তাহরিরসহ নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে; মাহফুজ আলম হিযবুত তাহরিরের সদস্য বা শীর্ষ নেতা; করাচি থেকে চট্টগ্রামে ‘সোয়াত জাহাজে অস্ত্র’ এসেছে; যুক্তরাজ্য জঙ্গি হামলার আশঙ্কায় বাংলাদেশে ভ্রমণ না করার বিশেষ সতর্কতা জারি করেছে; যশোরের একটি মাদ্রাসায় জঙ্গিদের অস্ত্র মহড়া বা ‘জিহাদের ডাক’ দেওয়া হয়েছে; বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি হিযবুত তাহরিরের প্রতিষ্ঠাতা বা শীর্ষ নেতা; এবং ঢাকার রাজপথে পাকিস্তানি সেনা বা পাকিস্তানের সোয়াট (SWAT) বাহিনী টহল দিচ্ছে।
পরবর্তীতে উল্লিখিত তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানগুলো এসব দাবির সত্যতা যাচাই করে। যাচাইয়ের ফলাফলে দেখা যায়, সব কটি দাবিই অসত্য, বিভ্রান্তিকর অথবা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত অপপ্রচার।
উক্ত ১৭টি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের ২৩টি সংবাদ ও ভিডিও প্রতিবেদনের প্রথমটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ৭ আগস্ট এবং সর্বশেষটি প্রকাশিত হয় ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর। এই বিশ্লেষণে প্রতীয়মান হয়, ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে ডিসেম্বর পর্যন্ত—বাংলাদেশে গণঅভ্যুত্থানের মুখে আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনা সরকারের পতনের পর টানা পাঁচ মাস ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলো সংঘবদ্ধভাবে ‘বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ’ সংশ্লিষ্ট খবর প্রচার এবং একটি নির্দিষ্ট ন্যারেটিভ প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করেছে। তবে পরবর্তী সময়ে এ ধরনের প্রতিবেদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে আসে।
তবে অপপ্রচারের এই উদ্যোগ পরবর্তী সময়েও সম্পূর্ণরূপে বন্ধ হয়ে যায়নি। ভারতীয় সংবাদমাধ্যম ‘আজ তক বাংলা’র ইউটিউব চ্যানেলে ২০২৫ সালের ফেব্রুয়ারি, মে, সেপ্টেম্বর, নভেম্বর ও ডিসেম্বর মাসে চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে পাকিস্তান ও মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের জাহাজে করে গোপনে বাংলাদেশে অস্ত্র প্রবেশের কমপক্ষে ৫টি ভিন্ন ভিন্ন অভিযোগ সম্বলিত প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়। এছাড়া, ভারতের এইদিন নামের একটি সংবাদমাধ্যম ২০২৫ সালের ২০ ডিসেম্বর শহীদ ওসমান হাদির জানাজার ঘটনায় “বাংলাদেশে ইসলামি চরমপন্থার বিপজ্জনক মুখ উন্মোচিত ! উগ্রপন্থীদের দখলে সংসদ ভবন, উঠছে খিলাফত প্রতিষ্ঠার দাবি” শিরোনামে প্রতিবেদন প্রকাশ করে। এছাড়াও, ২০২৬ সালের ১৭ জানুয়ারি কতকাতা24x7 নামের ভারতীয় সংবাদমাধ্যমে “তাবলিগ জামাতের নাম করে বাংলাদেশে বেলাগাম জঙ্গি অনুপ্রবেশ” শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়।
এই বিশ্লেষণে আরও দেখা যায়, ভারতীয় মিডিয়াগুলো এসব খবর প্রচারের ক্ষেত্রে কখনও একেবারে সূত্রহীন তথ্য, কখনও অজ্ঞাতনামা সূত্র, কখনও বিভিন্ন ব্যক্তির ফেসবুক বা এক্স পোস্টকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে। আবার কখনও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম—বিশেষত ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া অপতথ্য বা ভুলতথ্যকে সূত্র ধরে, কিংবা বাংলাদেশি গণমাধ্যমগুলোর জঙ্গিবাদ সংশ্লিষ্ট পুরোনো খবরকে ভুলভাবে ব্যাখ্যা করে তা সূত্র হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে।
এই বিশ্লেষণের সীমাবদ্ধতা হলো, বিশ্লেষণটি সরাসরি ভারতীয় সংবাদমাধ্যমগুলোর সব প্রতিবেদন বিশ্লেষণ না করে মূলত তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠানের যাচাই করা প্রতিবেদনগুলোর ওপর নির্ভর করে “বাংলাদেশে জঙ্গিবাদ” বিষয়ক প্রধান ৭টি দাবি শনাক্ত করেছে। ফলে, এ প্রতিষ্ঠানগুলোর যাচাইয়ের আওতার বাইরে থাকা বিভ্রান্তিকর বা অপপ্রচারমূলক প্রতিবেদনগুলো এই বিশ্লেষণের বাইরে থেকে যেতে পারে।
নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের ভুয়া দাবি
২০২৪ সালের ৭ আগস্ট ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এই মুহূর্তে ও জি ২৪ ঘণ্টা দাবি করে যে, বাংলাদেশ সরকার জেএমবি, হুজি, হিজবুত তাহরিরসহ একাধিক নিষিদ্ধ জঙ্গি সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে। পরদিন ৮ আগস্ট একই দাবি প্রচার করে বার্তা টুডে। বাংলা ভাষায় প্রকাশিত মোট ৩টি সংবাদে এই দাবি ছড়ানো হয়।
ডিসমিসল্যাব ২০২৪ সালের ১১ আগস্ট প্রকাশিত “নিষিদ্ধ সংগঠন বৈধ হওয়ার ভুয়া দাবি ভারতীয় গণমাধ্যমে” শীর্ষক যাচাই প্রতিবেদনে জানায়, এ দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব এ কে এম টিপু সুলতানের বরাত দিয়ে তারা লেখেন, কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি। অন্তর্বর্তী সরকারের স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ওই দিনই অর্থাৎ ১১ আগস্ট প্রথম দাপ্তরিক কাজ শুরু করেন—এমন বাস্তবতায় এর আগের সময়ে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের প্রশ্নই ওঠে না।
মাহফুজ আলমকে হিযবুত তাহরীরের সদস্য বা নেতা হিসেবে উপস্থাপন
২০২৪ সালের আগস্ট–সেপ্টেম্বরে দ্য ইকোনমিক টাইমস-এ ইংরেজিতে প্রকাশিত দুটি প্রতিবেদনে (১, ২) ভারতীয় সাংবাদিক দীপঞ্জন রায় চৌধুরী সূত্রহীনভাবে মাহফুজ আলমকে হিযবুত তাহরীর–সংশ্লিষ্ট বলে উল্লেখ করেন। একই অভিযোগ পুনরাবৃত্তি হয় দ্য নর্থইস্ট নিউজে প্রকাশিত চন্দন নন্দীর প্রতিবেদন ও মিলেনিয়াম পোস্টে শান্তনু মুখার্জীর কলামে। পরবর্তীতে বিশ্লেষক ব্রহ্ম চেলানির সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম পোস্টকে ‘সূত্র’ হিসেবে ব্যবহার করে রাইসিনা হিলস-এও একই দাবি করা হয়।
এছাড়া ভারতে নির্বাসিত বাংলাদেশি লেখিকা তসলিমা নাসরিনের পোস্টকে সূত্র হিসেবে নিয়ে আনন্দবাজার, হিন্দুস্তান টাইমস বাংলা, আর প্লাস নিউজ ও টিভি৯ বাংলা মাহফুজ আলমকে সরাসরি হিযবুত তাহরীরের নেতা হিসেবে আখ্যা দেয়।
এই দাবিটি ছড়ায় অন্তত ৯টি সংবাদ/কলাম/প্রতিবেদনে, যার মধ্যে ৫টি ইংরেজি ভাষায় প্রকাশিত হয়।
ডিসমিসল্যাবে ৮ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত “মাহফুজ আলমের জঙ্গি সংশ্লিষ্টতার মিথ্যা দাবি যেভাবে ছড়ালো” শীর্ষক প্রতিবেদনে দেখায়, পুরো প্রচারণাটি অনুমান, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্ট ও পুনরাবৃত্ত দাবির ওপর দাঁড়িয়ে আছে; কোনো বিশ্বাসযোগ্য প্রমাণ নেই।
করাচি থেকে চট্টগ্রামে ‘সোয়াত জাহাজে অস্ত্র’ আসার ভুয়া দাবি
২০২৪ সালের ১৩ নভেম্বর করাচি থেকে চট্টগ্রাম বন্দরে একটি জাহাজ ভেড়াকে কেন্দ্র করে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম রিপাবলিক বাংলা ২০২৪ সালের ১৫ নভেম্বর বাংলা ভাষায় প্রকাশিত একটি ভিডিও প্রতিবেদনে দাবি করে, জাহাজটির নাম ‘সোয়াত’ এবং এতে করে অস্ত্র এসেছে। একইসঙ্গে পরেরদিন ১৬ নভেম্বর আরেকটি ভিডিও প্রতিবেদনে তারা দাবি করে, ওই জাহাজে ৬৫ জন পাকিস্তানিও এসেছে।
তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান ফ্যাক্ট ওয়াচ ১৭ নভেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত “করাচী থেকে চট্টগ্রাম আসা জাহাজটির নাম সোয়াত নয়, অস্ত্র আসার দাবিও মিথ্যা” শীর্ষক যাচাই প্রতিবেদনে জানায়, এসব দাবি সম্পূর্ণ মিথ্যা। যাচাই অনুযায়ী, জাহাজটির প্রকৃত নাম এমভি ইউয়ান জিয়াং ফা ঝাং (MV YUAN XIANG FA ZHAN) এবং এতে অস্ত্র নয়—শিল্পের কাঁচামাল ও ভোগ্যপণ্য এসেছে। চট্টগ্রাম কাস্টমস ও গণমাধ্যমের তথ্যের বরাত দিয়ে তারা লেখেন, জাহাজে ছিল সোডা অ্যাশ, ডলোমাইট, চুনাপাথর, ফ্যাব্রিকসসহ বিভিন্ন শিল্পপণ্য। ফলে জাহাজটির নাম ‘সোয়াত’ এবং অস্ত্র আসার প্রচারণা উদ্দেশ্যপ্রণোদিত গুজব হিসেবে চিহ্নিত হয়।
যুক্তরাজ্যের ভ্রমণ উপদেশ নিয়ে বিভ্রান্তিকর প্রচার
২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যুক্তরাজ্যের জারি করা একটি নিয়মিত ‘ট্রাভেল অ্যাডভাইজরি’কে কেন্দ্র করে বাংলাদেশে ‘জঙ্গি হামলার আশঙ্কা’ দেখিয়ে ভীতি ছড়ানো হয়।
সংবাদ প্রতিদিন, এই সময় অনলাইন, আজ তক বাংলা, বর্তমান পত্রিকা এবং রিপাবলিক বাংলা (ইউটিউব)—৪ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত মোট ৫টি বাংলা সংবাদ প্রতিবেদনে দাবি করা হয় যে, জঙ্গি হামলার আশঙ্কার কারণে ব্রিটেন বাংলাদেশে ভ্রমণ না করার নির্দেশ দিয়েছে। সংবাদ প্রতিদিনের প্রতিবেদনে লেখা হয়েছে, “মৌলবাদীদের তাণ্ডবে জ্বলছে গোটা বাংলাদেশ।”
রিউমার স্ক্যানার ২০২৪ সালের ১০ ডিসেম্বর প্রকাশিত যাচাই প্রতিবেদনে জানায়, এই সতর্কতা কেবল বাংলাদেশের জন্য নয়; ভারতসহ বহু দেশের ক্ষেত্রেই দীর্ঘদিন ধরে একই ধরনের পরামর্শ বহাল রয়েছে। বাংলাদেশকে আলাদা করে ‘জঙ্গি ঝুঁকিপূর্ণ দেশ’ হিসেবে উপস্থাপন করা বিভ্রান্তিকর।
যশোরের মাদ্রাসার অভিনয়কে ‘জঙ্গি মহড়া’ বানানো
২০২৪ সালের ১৮ ও ১৯ ডিসেম্বর যথাক্রমে রিপাবলিক বাংলা ও টিভি৯ বাংলা যশোরের জামিয়া ইসলামিয়া মাদ্রাসার একটি বার্ষিক অনুষ্ঠানের অভিনয়ের ভিডিওকে ‘জঙ্গিদের অস্ত্র হাতে সভা’ ও ‘জিহাদের ডাক’ হিসেবে প্রচার করে।
রিউমার স্ক্যানার “যশোরে মাদ্রাসার বার্ষিক অনুষ্ঠানে অভিনয়ের ভিডিও বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের উত্থান দাবিতে প্রচার” শিরোনামে ১৯ ডিসেম্বর ২০২৪ তারিখে প্রকাশিত যাচাই প্রতিবেদনে জানায়, ভিডিওটি ছিল ‘যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা’।
এছাড়া ভারতীয় তথ্য যাচাইকারী প্রতিষ্ঠান নিউজচেকারেও এ সংক্রান্ত একটি যাচাই প্রতিবেদন পাওয়া যায় যেখানে ‘ফ্যাক্ট’ হিসেবে লেখা হয়েছে, “যশোরের মাদ্রাসার ভিডিয়োর কোনও জঙ্গি গোষ্ঠীর নয়। বরং সেটি যেমন খুশি তেমন সাজো প্রতিযোগিতা’র একটি অংশ।”
স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনিকে ‘হিযবুত তাহরীর প্রতিষ্ঠাতা’ বানানোর চেষ্টা
২০২৪ সালের ২৫ ডিসেম্বর ফার্স্টপোস্ট-এর ইউটিউব চ্যানেলে পালকি শর্মার একটি ইংরেজি প্রতিবেদনে দাবি করা হয়, বাংলাদেশ হিযবুত তাহরীরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্যকে স্বরাষ্ট্রসচিব করেছে।
২০২৫ সালের ৫ জানুয়ারি সরকারি CA Press Wing Facts ফেসবুক পোস্টে জানায়, হিযবুত তাহরীর নেতা নাসিম গনি ও বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রসচিব নাসিমুল গনি এক ব্যক্তি নন। স্বরাষ্ট্রসচিব একজন বাংলাদেশি সিভিল সার্ভেন্ট; তার সঙ্গে কোনো নিষিদ্ধ সংগঠনের সম্পৃক্ততার প্রশ্নই ওঠে না।
ঢাকায় পাকিস্তানি সেনা টহলের গুজব
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়ানো একটি ভিডিওকে ঢাকার রাজপথের দৃশ্য দাবি করে আজ তক বাংলা ২০২৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর একটি ভিডিও প্রতিবেদন প্রকাশ করে। সেখানে বলা হয়, পাকিস্তানের পাঞ্জাবভিত্তিক সোয়াট (SWAT) বাহিনীর সদস্যরা ঢাকায় টহল দিচ্ছে।
রিউমার স্ক্যানার “Fake News on Indian Media: Pakistani Forces Aren’t Patrolling in Bangladesh” শিরোনামের যাচাই প্রতিবেদনে ৩১ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে জানায়, ভিডিওতে দেখা ইউনিটটি পাকিস্তানি বাহিনী নয়; বরং বাংলাদেশ পুলিশের ক্রাইসিস রেসপন্স টিম (CRT)। ইউনিফর্ম, পতাকা, স্থান ও আগের সংবাদ ফুটেজ—সব প্রমাণেই বিষয়টি নিশ্চিত হয়।
সামাজিক মাধ্যমে অপপ্রচার
এছাড়া, ভারতীয় সংবাদমাধ্যমের পাশাপাশি ভারত থেকে পরিচালিত সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে বাংলাদেশকে কেন্দ্র করে জঙ্গিবাদ ও উগ্রবাদ নিয়ে অপপ্রচার চালানো হয়েছে।
২০২৫ সালের ১৯ ডিসেম্বর ভারতভিত্তিক এক্স অ্যাকাউন্টে যুক্তরাষ্ট্রের উত্তর ক্যারোলিনায় ‘সেসনা ৫৫০’ বিমান দুর্ঘটনায় পাইলটকে “বাংলাদেশি উগ্র ইসলামপন্থী” এবং জামায়াত ও AQIS সংশ্লিষ্ট বলে দাবি করা হয়। কিন্তু একই বছরের ২৩ ডিসেম্বর CA Press Wing Facts সিএনএনসহ আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের তথ্য উদ্ধৃত করে এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, বিমানটির যাত্রীদের মধ্যে কোনো বাংলাদেশি ছিলো না এবং উগ্রবাদী সংযোগের দাবিও সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন।
এছাড়া ২০২৪ সালের ২৪ ডিসেম্বর ঢাকার মগবাজার ফ্লাইওভারের নিচে ককটেল বিস্ফোরণে এক পথচারী নিহত হওয়ার ঘটনায় ভারত থেকে পরিচালিত এক্স অ্যাকাউন্টে “ইসলামপন্থী” ও “জামায়াতি উগ্রবাদীরা” জড়িত বলে দাবি করা হয়। তবে ২৫ ডিসেম্বর ২০২৫ তারিখে প্রকাশিত দ্য ডিসেন্টের যাচাই প্রতিবেদনে দেখা দেখা যায়, এ ঘটনায় ইসলামপন্থী বা জামায়াত সংশ্লিষ্ট কারও সম্পৃক্ততার কোনো প্রমাণ বাংলাদেশি কোনো কর্তৃপক্ষ দেয়নি।
দ্য ডিসেন্ট