Image description

সেবার মান ও গতি বাড়বে, কমবে সেবাপ্রত্যাশীদের ভোগান্তি—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর এমন স্বপ্নই দেখিয়েছিল দেশের স্বাস্থ্য খাত নিয়ে। কিন্তু সরকারের বিদায়বেলায় বিগত দেড় বছরের পরিসংখ্যান মেলাতে গিয়ে দেখা যাচ্ছে, স্বপ্নের ছিটেফোঁটাও বাস্তবায়ন হয়নি। নতুন চিকিৎসক ও নার্স নিয়োগ এবং পদোন্নতি ছাড়া স্বাস্থ্য খাতে উল্লেখযোগ্য কোনো কার্যক্রম নেই অন্তর্বর্তী সরকারের।

 

এমনকি স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের দেওয়া সুপারিশও পরিপূর্ণভাবে বাস্তবায়ন করতে পারেনি উপদেষ্টা নূরজাহান বেগম ও প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী অধ্যাপক সায়েদুর রহমানের নেতৃত্বাধীন স্বাস্থ্য বিভাগ।

 

উল্টো অন্তর্বর্তী সরকারের কয়েকটি সিদ্ধান্তের কারণে স্বাস্থ্য খাতের উন্নয়ন বাধাগ্রস্ত হয়েছে বলে দাবি সংশ্লিষ্টদের। তারা বলছেন, স্বাস্থ্যের ১৪টি খাতে অর্থ বরাদ্দ হয় অপারেশন প্ল্যানের (ওপি) মাধ্যমে। কিন্তু হাসিনা সরকারের পতনের বছর ২০২৪ সালেই ওপি থেকে বেরিয়ে আসে সরকার। এতে স্বাস্থ্যের সব উন্নয়নমূলক কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

 

স্বাস্থ্য খাতের দুরবস্থার কারণে অন্তর্বর্তী সরকারের কঠোর সমালোচনা করে স্বাস্থ্য অধিকার আন্দোলনের চেয়ারম্যান ও বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যাসোসিয়েশনের (বিএমএ) সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব এশিয়া পোস্টকে বলেন, স্বাস্থ্যব্যবস্থা জুলাই বিপ্লবের আগে যেখানে ছিল, এখনো সেখানেই রয়েছে। মাঝখানে কিছু চিকিৎসকের পদোন্নতি হয়েছে। এর বাইরে আর কিছু দেখা যায়নি। দায়িত্বরত যে অজুহাতই দেন না কেন, রাষ্ট্রের নিযুক্ত কর্মকর্তারা যদি ঠিকভাবে তদারকি করেন, বাজেট দেন এবং জনগণকে প্রাধান্য দিয়ে কর্মসূচি বাস্তবায়ন করেন, কিছুটা হলেও পরিবর্তন আসার কথা।

 

 

তবে বিশেষ সহকারী ডা. সায়েদুর রহমান বলছেন ভিন্ন কথা। অস্থায়ী সরকারের গত দেড় বছরে যত চিকিৎসকের পদোন্নতি, সিস্টেমের উন্নতি হয়েছে, তা অতীতে কখনো হয়নি বলে দাবি করেন তিনি।

 

সমস্যা চিহ্নিতে গুরুত্ব, সমাধানে ভাটা

 

অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর স্বাস্থ্য খাতের নানা সমস্যা চিহ্নিত করতে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেয় স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ৮ আগস্ট রাজধানীর মিন্টু রোডের শহীদ আবু সাঈদ কনভেনশন হলে এক সংবাদ সম্মেলনে স্বাস্থ্য খাতের ১০টি বড় সংকট বা ‘রোগ’ শনাক্তের কথা জানান সায়েদুর রহমান। সংকট নিরসনে কী উদ্যোগ নেবেন, সে পরিকল্পনার কথাও ওই সংবাদ সম্মেলনে উল্লেখ করেন তিনি।

 

সেদিন সায়েদুর রহমান বলেন, ‘মেধা, জ্ঞান ও যোগ্যতা থেকে বঞ্চিত বাংলাদেশের স্বাস্থ্যসেবা। পাশাপাশি অতিরিক্ত কেন্দ্রীভূত স্বাস্থ্যসেবা, বিশেষজ্ঞনির্ভর চিকিৎসা, প্রাথমিক চিকিৎসা উপেক্ষা করে বিশেষজ্ঞের ওপর অতিরিক্ত নির্ভরতা, স্বচ্ছতার অভাব ও দায়মুক্তির সংস্কৃতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের মনোবলহীনতা, চিকিৎসা সামগ্রী, ওষুধ ও চিন্তায় বিদেশনির্ভরতা, রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিকল্পনায় দুর্বলতা, চিকিৎসা শিক্ষায় মানহীনতা, নেতৃত্ব ও ব্যবস্থাপনায় অকার্যকারিতা এবং স্বাস্থ্য বাজেট বরাদ্দ ও ব্যবহারজনিত সমস্যা।’

 

তিনি আরও বলেন, সরকারি ও বেসরকারি উভয় ধরনের মেডিকেল কলেজ মূল্যায়নের আওতায় আনা হবে। যেসব প্রতিষ্ঠান মানসম্পন্ন নয়, সেগুলো বন্ধ কিংবা একীভূত করার পদক্ষেপ নেওয়া হবে।’

 

তিনি সতর্ক করে বলেন, ‘নিম্নমানের কলেজ চালু রাখলে আগামী ৩০ থেকে ৪০ বছর দেশের স্বাস্থ্য খাত ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

 

১৫ হাজার শয্যা ঘাটতি, বাড়েনি একটিও

 

ওই সংবাদ সম্মেলনে সায়েদুর রহমান জানান, সারা দেশে রোগী অনুযায়ী ১৫ হাজারের বেশি শয্যার ঘাটতি রয়েছে। প্রতিদিন প্রায় ১২ থেকে ১৫ হাজার রোগীকে মেঝেতে চিকিৎসা নিতে হচ্ছে। এই সংকট মোকাবিলায় দেশীয় ও আন্তর্জাতিক সহায়তায় শয্যাসংখ্যা বাড়ানোর উদ্যোগের কথা জানান তিনি।

 

শয্যা সংকটে অধিকাংশ রোগীকে ছুটতে হয় বিভাগীয় ও রাজধানীয় ঢাকায়। ভোগান্তি লাঘবে শুধু জনবলের অভাবে অচল ৮১টি স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানে অন্তত এক হাজার শয্যা চালুর উদ্যোগের কথা জানানও সায়েদুর রহমান। কিন্তু সরকারের মেয়াদ শেষ হতে চললেও বাড়েনি একটি শয্যাও।

 

দেড় বছরেও সবল হয়নি তৃণমূলের স্বাস্থ্যসেবা

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স। কাগজে-কলমে ৫০ শয্যার হাসপাতাল লেখা থাকলেও বাস্তবতা বলছে ভিন্ন। ১১ বছর আগে ২০১৩ সালে ৩১ থেকে ৫০ শয্যায় উন্নীত করা হলেও হাসপাতালটিতে ৩১ শয্যার লোকবলও নেই। পর্যাপ্ত জনবল ও প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতির অভাবে খুঁড়িয়ে চলছে প্রান্তিক মানুষের এই ভরসাস্থল।

 

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, ভারতীয় সীমান্তর্বর্তী এ উপজেলায় তিন লাখের বেশি মানুষের বসবাস। দৈনিক ৪০০ থেকে ৫০০ মানুষ চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন হাসপাতালটিতে। উপজেলার রাজিবপুর, রৌমারী ও পার্শ্ববর্তী দেওয়ানগঞ্জ উপজেলার চরাঞ্চলের কয়েকটি ইউনিয়নের মানুষও আসেন স্বাস্থ্যকেন্দ্রটিতে। কিন্তু হাসপাতালটিতে চিকিৎসক বলতে একজন মেডিকেল অফিসার রয়েছেন। প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ রোগী এ হাসপাতালে চিকিৎসাসেবা নিতে আসেন।

 

উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ কর্মকর্তা ডা. রেজাউল ইসলাম জানান, তিনি এবং একজন আবাসিক মেডিকেল অফিসার ছাড়া হাসপাতালে কোনো চিকিৎসক নেই। এ ছাড়া সাত ইউনিয়নের সাবসেন্টারে সাত মেডিকেল অফিসারের মধ্যে একজনও নেই। ফলে চিকিৎসক না থাকায় বিশাল জনগোষ্ঠীর চিকিৎসাসেবা ব্যাহত হচ্ছে।

 

 

জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স
জামালপুরের বকশীগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স

 

এই চিত্র শুধু জামালপুরের এক উপজেলা হাসপাতালের নয়। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যমতে, সারা দেশের হাসপাতালে ১২ হাজার ৯৮০ চিকিৎসকের পদ শূন্য। এর মধ্যে ৪৯২ উপজেলা হাসপাতালে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার চিকিৎসকের ৫৩ শতাংশই খালি। যার সরাসরি প্রভাব পড়ছে সেবায়।

 

সংকট কাটাতে সাড়ে তিন হাজার চিকিৎসক নিয়োগের উদ্যোগ নেওয়া হয়। গত বছরের ২৯ মে ৪৮তম বিশেষ বিসিএসের বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের পর লিখিত ও মৌখিক পরীক্ষার পর ১১ সেপ্টেম্বর চূড়ান্ত ফল প্রকাশ করা হয়। চার মাস পর সরকারের শেষ পর্যায়ে এসে সম্প্রতি গেজেট প্রকাশ হয়েছে।

 

জানতে চাইলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হসপিটাল সার্ভিস ম্যানেজমেন্ট বিভাগের পরিচালক ডা. জয়নাল আবেদীন টিটো এশিয়া পোস্টকে বলেন, ‘স্বাস্থ্য খাতের মূল সমস্যা এখনো নির্ণয় করা হয়নি। সংস্কার কমিশন যে সুপারিশ করেছে, তা দীর্ঘমেয়াদি। যে কোনো মানুষ অল্প সময়ে সেবা চান। উপজেলায় শুধু ডাক্তার নয়, নিম্নপদস্থ কর্মচারীরও তীব্র অভাব রয়েছে৷ দেশের জনসংখ্যা বেড়েছে, কিন্তু জনবল রয়েছে ৪০ বছরের আগের সিস্টেমে। দুই বছর আগের করা জনবলের স্ট্যান্ডার্ড সেটাপ বাস্তবায়ন হলেও সমাধান হতো, কিন্তু এখন পর্যন্ত মন্ত্রণালয় সেটি পাস করেনি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের সিস্টেম অনুযায়ী ওপির দরকার রয়েছে। বর্তমানে স্বাভাবিক রাজস্ব বাজেটে চলছে, অর্থাভাবে বহু সেবা আটকে আছে।’

 

প্রান্তিক স্বাস্থ্যসেবার চিত্র বদলাতে হলে জেলা ও উপজেলা স্বাস্থ্য প্রতিষ্ঠানগুলো নতুন করে পুনর্বিন্যাস করতে হবে বলে জানান এই কর্মকর্তা। জয়নাল আবেদীন বলেন, ‘উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স ও জেলা সদর হাসপাতালগুলোর অবকাঠামো পরিবর্তন করে স্বাস্থ্য কাঠামো অনুযায়ী গড়তে হবে। অবকাঠামো স্বাস্থ্য, নারী, শিশু ও বিশেষ চাহিদাসম্পন্নবান্ধব হতে হবে। যেখানে সেবা মিলবে ওয়ান স্টপ সার্ভিসের মতো দ্রুত। এ জন্য দরকার পর্যাপ্ত জনবল। একই সঙ্গে দরকার প্রয়োজনীয় যন্ত্রপাতি ও নিয়মিত বাজেট বরাদ্দ। এগুলো না হলে যত পরিকল্পনাই করা হোক না কেন, স্বাস্থ্য খাত পরিবর্তন হবে না।’

 

আলোর মুখ দেখেনি শহরাঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক চিকিৎসাকেন্দ্র

 

ঢাকাসহ দেশের অন্যান্য জেলা ও বিভাগীয় শহরগুলোতে প্রায় সাত কোটি মানুষের বসবাস। গ্রামাঞ্চলের মানুষের প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবায় কমিউনিটি ক্লিনিক থাকলেও শহরাঞ্চলের মানুষের সামান্য জ্বর হলেই ছুটতে হয় সেকেন্ডারি হাসপাতাল তথা জেলা সদর হাসপাতাল কিংবা টারশিয়ারি হাসপাতালে। এতে ২০ টাকার চিকিৎসা নিতে গিয়ে চলে যায় হাজার টাকা। পাশাপাশি রোগীদের চাপ বেশি থাকায় মেলে না কাঙ্ক্ষিত চিকিৎসাসেবাও।

 

এ সমস্যা সমাধানে গত বছরের শুরুর দিকে বিভিন্ন শহরে ‘জেনারেল প্র্যাকটিশনার (জিপি) ক্লিনিক’ চালুর উদ্যোগ নেয় অন্তর্বর্তী সরকার। শুরুতে ঢাকা শহরে চালুর পরিকল্পনার কথা জানিয়েছিলেন বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। সে অনুযায়ী গত বছরের অক্টোবরের দিকে বিভাগীয় আটটি শহরে চালুর কথা ছিল। তবে এখন পর্যন্ত একটি ক্লিনিকও দৃশ্যমান হয়নি।

 

আটকে গেছে সরকারি হাসপাতালে মডেল ফার্মেসি চালুর উদ্যোগ

 

সরকারি হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে আসা রোগীদের সহজে ওষুধ প্রাপ্তির লক্ষ্যে সারা দেশে ‘ফার্মেসি নেটওয়ার্ক’ গড়ে তেলার উদ্যোগ নেয় সরকার। প্রাথমিকভাবে সরকারি ৭০০ হাসপাতালে এই ফার্মেসি করা হবে বলে জানান প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী সায়েদুর রহমান। মূলত রোগীদের চিকিৎসা ব্যয় কমিয়ে আনার লক্ষ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়।

 

স্বাস্থ্য অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, দেশের ৪২৯টি উপজেলা হাসপাতাল, ৫৯টি জেলা সদর হাসপাতাল, ৩৫টি সরকারি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং ২১টির মতো বিশেষায়িত হাসপাতালে এসব ফার্মেসি হবে। এসব ফার্মেসি সপ্তাহে সাত দিন ২৪ ঘণ্টা খোলা থাকবে।

 

মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, একাধিক সভা হলেও এখনো কোনো হাসপাতালেই চালু করা সম্ভব হয়নি।

 

ফাইলবন্দি সংস্কার কমিশনের সুপারিশ

 

গত বছরের ৫ মে প্রধান উপদেষ্টার কাছে স্বাস্থ্য খাতের সমস্যা নিরসনে সংস্কার প্রস্তাব জমা দেয় স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশন। ওই সময় যেসব সুপারিশ এখনই বাস্তবায়নযোগ্য তা দ্রুত বাস্তবায়নের উদ্যোগ নিতে নির্দেশ দেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস। কিন্তু সরকারের মেয়াদ ফুরিয়ে এলেও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকা করা ছাড়া বাস্তবায়ন হয়নি আর কোনো সুপারিশ। সম্প্রতি অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের তালিকায় নতুন করে ১৩৫টি ওষুধ যুক্ত করা হয়েছে। বর্তমানে অত্যাবশ্যকীয় ওষুধ ২৯৫টি। এসব ওষুধের দাম বেঁধে দেবে সরকার।

 

যদিও অত্যাবশ্যকীয় ওষুধের দাম নিয়ন্ত্রণ নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে ওষুধ প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলো। ঔষধ শিল্প সমিতি বলছে, ফার্মাসিউটিক্যালস কোম্পানিগুলোর মতামত না নিয়েই তালিকা প্রস্তুত ও দাম বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

 

স্বাস্থ্য খাত-সংশ্লিষ্ট পর্যবেক্ষক ও বিশেষজ্ঞরা বলছেন, দায়িত্ব নিয়ে কাগজে-কলমে কিছু অগ্রগতি হলেও বাস্তবে সাধারণ মানুষের স্বাস্থ্যসেবায় তেমন কোনো ইতিবাচক পরিবর্তন দেখা যায়নি। সরকারি হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসক ও জনবল সংকট, ওষুধ ও যন্ত্রপাতির অভাব এবং ব্যবস্থাপনার দুর্বলতা আগের মতোই রয়ে গেছে।

 

বিএমএর সাবেক সভাপতি অধ্যাপক ডা. রশিদ-ই মাহবুব বলেন, ‘লোক বাড়ালেই স্বাস্থ্যসেবার মান বেড়ে যাবে, এমনটা নয়। এখানে প্রতিষ্ঠানের মেশিনারিজ, সুযোগ-সুবিধা না বাড়িয়ে অর্থ বাড়লে লাভ নেই। স্বাস্থ্য খাতের সংস্কারের উদ্যোগ এর আগেও ১৯৯০, ২০০০ ও ২০১১ সালে নেওয়া হয়েছিল। বর্তমান সরকারও নিল। নিয়েছে। কিন্তু ফল দেখা যায়নি।’

 

যা বলছে মন্ত্রণালয়

 

স্বাস্থ্যব্যবস্থার উন্নয়নে অন্তর্বর্তী সরকার সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্য) অধ্যাপক সায়েদুর রহমান।

 

এশিয়া পোস্টকে তিনি বলেন, ‘আইন বিষয়ক কিছু পরিবর্তন ছাড়া গত দেড় বছরে অন্য কোনো বিভাগে ৩০০-এর বেশি নিয়োগ, পদোন্নতি হয়নি। আমরা এক লাখ ৬ হাজার কোটি টাকার প্রকল্প থেকে বেরিয়ে এসেছি। হাজার হাজার রিক্রুটমেন্ট হয়েছে। সাড়ে তিন হাজার নার্স ও ১০ হাজার চিকিৎসকের পদোন্নতি দেওয়া হয়েছে। কোথাও কোনো অনিয়মের অভিযোগ ওঠেনি। এক বছরে এত চিকিৎসকের পদোন্নতি অতীতে কখনো হয়নি।’

 

তিনি আরও বলেন, ‘আগে পদায়নে ঘুষ গ্রহণসহ নানা অনিয়ম হতো। আমরা সেই পথও বন্ধ করে দিয়েছি। অটোমেশনের মাধ্যমে সব ধরনের পদায়ন ও বদলি হচ্ছে। আগামীতেও এমনভাবে হবে। ফলে যোগ্যতা দিয়ে পদায়ন, পদোন্নতি হবে, দলীয় প্রভাবে নয়। তবে আমাদের সময়ে যন্ত্রপাতি কেনা, ভবন বানানো সম্ভব নয়।’

 

শয্যা বাড়ানো প্রসঙ্গে অধ্যাপক সায়েদুর রহমান বলেন, ‘শয্যা বাড়াতে গেলে লাগবে ২০ হাজার কোটি টাকা। সরকারের বড় ধরনের চিন্তা ছাড়া এগুলো রাতারাতি করা সম্ভব নয়। একটা ৫০০ শয্যার হাসপাতাল করতেও ৫০০ থেকে ৭০০ কোটি টাকা লাগে। আর সব শয্যা শুধু ঢাকায় করলে হবে না। এটা আমাদের পক্ষে করা এই মুহূর্তে অসম্ভব।’

 

জিপি সেন্টার চালু করতে না পারার বিষয়ে জানতে চাইলে বিশেষ সহকারী বলেন, ‘এটার জন্য যথাসময়ে ফান্ড পাওয়া যায়নি। পরে পাওয়ায় ডিজাইনসহ সবকিছু প্রস্তুত করা হয়েছে। নির্বাচিত সরকার দায়িত্ব নিলে ছয় থেকে এক বছরের মধ্যে করতে পারবে।’