বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর প্রতিনিধি দলের সঙ্গে বৈঠক করেছে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপ।
রোববার (৮ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টালে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে জামায়াত দাবি করেছে, নির্বাচনকালীন প্রার্থীর নির্বাচনী অফিস, বাসা ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে। দলটির আশঙ্কা, প্রতিপক্ষ পক্ষগুলো চিহ্নিত সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপ্রীতিকর ঘটনা ও হামলা ঘটাতে পারে। এ অবস্থায় নির্বাচনে ‘লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড’ নিশ্চিত করা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন এবং অবৈধ অস্ত্র ও পেশিশক্তির ব্যবহার বন্ধ করা জরুরি বলে মত দিয়েছে জামায়াত।
জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা আবদুল হালিমের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলে ছিলেন ড. যুবায়ের আহমেদ, ব্যারিস্টার সাইফ উদ্দিন খালেদ, জামায়াতে ইসলামীর মহিলা বিভাগের সেক্রেটারি নূরুন্নিসা সিদ্দিকা এবং ড্যাফোডিল ইউনিভার্সিটির শিক্ষক ইঞ্জিনিয়ার মারদিয়া মমতাজ।
বৈঠকের শুরুতে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের পক্ষ থেকে মাওলানা আবদুল হালিম কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলকে শুভেচ্ছা জানান।
বৈঠকে জামায়াত প্রতিনিধি দল বর্তমান নির্বাচন পরিস্থিতি তুলে ধরে বলেন, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সরকার ও নির্বাচন কমিশনকে সর্বতোভাবে সহযোগিতা করে যাচ্ছে। কিন্তু উদ্বেগের সঙ্গে লক্ষ্য করা যাচ্ছে যে, অনেক জায়গায় প্রচারণার সময় জামায়াতের নেতাকর্মীরা একটি বড় দলের বাধার সম্মুখীন হচ্ছেন। বিশেষ করে নারী কর্মীরা নানাভাবে হেনস্তার শিকার হচ্ছেন। বারবার নারী ভোটকর্মীদের ওপর হামলা, শারীরিক নির্যাতন ও মোবাইল কেড়ে নেওয়ার মতো ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া অসংখ্য জায়গায় কর্মীদের ওপর নির্যাতন, ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করা হয়েছে।
তারা আরও বলেন, নির্বাচনকালীন প্রার্থীর অফিস, বাসভবন ও কর্মীদের নিরাপত্তা ঝুঁকি রয়েছে বলে আমাদের কাছে প্রতীয়মান হচ্ছে। আমরা মনে করছি, আমাদের প্রতিপক্ষ দাগি সন্ত্রাসীদের মাধ্যমে অপ্রীতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি ও হামলার শঙ্কা রয়েছে। তাই সুষ্ঠু নির্বাচনের স্বার্থে লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করা এবং আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে আরও তৎপর হওয়া প্রয়োজন।
উল্লেখ্য, আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠিতব্য ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট পর্যবেক্ষণের জন্য ঘানার সাবেক রাষ্ট্রপতি নানা আকুফো-আদ্দোর নেতৃত্বে কমনওয়েলথ অবজারভার গ্রুপের প্রতিনিধি দলটি বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছে।
কমনওয়েলথ প্রতিনিধি দলটি বাংলাদেশের নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল এবং অন্যান্য অংশীজনদের সঙ্গে বৈঠক করে নির্বাচন প্রক্রিয়া, আইনের শাসন ও নিরপেক্ষতা নিয়ে মতবিনিময় করছে। সুষ্ঠু নির্বাচন পর্যবেক্ষণ, স্বচ্ছতা নিশ্চিত করা এবং একটি স্বাধীন মূল্যায়ন প্রদান করাই এই টিমের মূল লক্ষ্য।