Image description

বিচ্ছেদের পর ময়মনসিংহ আদালতে ডিভোর্সের মামলায় হাজির হয়ে এক মা স্পষ্ট ভাষায় জানালেন, ‘এ বাচ্চা আমি চাই না, আমার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে’। মায়ের এমন বক্তব্যে মুহূর্তেই স্তব্ধ হয়ে যান আদালতে উপস্থিত বিচারকসহ সংশ্লিষ্ট সবাই। এ সন্তানকে ঘিরে এক হৃদয়বিদারক ঘটনা নাড়িয়ে দিয়েছে সবাইকে।

ময়মনসিংহ জেলার একটি পরিবারে পারিবারিক কলহের জেরে স্বামী-স্ত্রীর বিচ্ছেদের ঘটনাটি ঘটে। তাদের প্রথম সন্তানের বয়স তখন চার বছর। বিচ্ছেদের আগেই জন্ম নেয় আরেকটি সন্তান, যার বয়স মাত্র ৯০ দিন। বিচ্ছেদের পর সন্তানের হেফাজত নিয়ে আদালতে হাজির হন মা।

আদালতে নবজাতক সন্তানকে নিজের কাছে রাখতে তিনি অপারগতা প্রকাশ করেন। তার ভাষায়, আমার জীবনের একটা ভবিষ্যৎ আছে। এই বাচ্চা নিলে আমার জীবন শেষ হয়ে যাবে।

মা : আমার সংসারে যখন আমি নাই, তো আমি বাচ্চা নিয়া কী করমু? এইডা আপনে আমারে বুঝাইয়া কন।

আদালত : তাই বলে ৩ মাসের বাচ্চা দিয়ে দিবেন?

 

মা : দিয়ে দেব।

আদালত : তিন মাসের বাচ্চা উনি পালতে পারবে?

মা : না পাললে আমার দেখার বিষয় না।

আদালত : এটা কোনো কথা হইলো, আপনি অন্তত দুই বছর পইলা দেন।

মা : না না না, দুই মাসও রাখতে পারব না। আমার একটা ভবিষ্যৎ আছে। আমার সংসার যেহেতু আমার হাতে নাই, আমার তো ভবিষ্যৎ আছে না? শেষমেষ স্পষ্ট ভাষায় জানান, তিনি মুক্ত হতে চান।

মায়ের বক্তব্য শুনে স্তব্ধ হয়ে যায় আদালত। তিনি জানান, এ সন্তান নিলে তার ভবিষ্যৎ নষ্ট হয়ে যাবে। তিনি নিজের জীবন গড়তে চান, নতুন করে শুরু করতে চান সবকিছু। এই সন্তানের বিষয়ে তিনি আর কিছু জানেন না।

আদালত ও জেলা লিগ্যাল এইড অফিসার বারবার অন্তত দুই বছর পর্যন্ত শিশুটিকে মায়ের কাছে রাখার অনুরোধ জানালেও মা সোজাসাপ্টা বলেন, এই সন্তানের বিষয়ে আমি কিছুই জানি না।

শিশুটির ভবিষ্যৎ, মানবিকতা এবং মাতৃত্বের দায়িত্ব নিয়ে দীর্ঘ সময় ধরে বোঝানোর চেষ্টা করা হয়। কিন্তু মায়ের চোখে সন্তানের চেয়ে বড় হয়ে ওঠে নিজের ভবিষ্যৎ। বিষয়টি শুনে আদালত কক্ষে নেমে আসে নীরবতা।

শেষ পর্যন্ত বিচারক কঠোর অবস্থান নেন। সন্তানের কল্যাণের কথা বিবেচনা করে শিশুটিকে মায়ের কাছেই রাখতে বাধ্য করা হয়। পাশাপাশি সন্তানের মাসিক ভরণপোষণ বাড়ানোর নির্দেশ দেওয়া হয়, যা বাবা বিনা আপত্তিতে মেনে নেন।