Image description

ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে— এমন দাবি একটি ভিডিও ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়েছে। এই বক্তব্যকে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার উদ্ধৃতি বলে দাবি করা হচ্ছে। এ ছাড়া প্রচারিত ভিডিওতে আরও দাবি করা হচ্ছে, নির্বাচনে একটি নির্দিষ্ট দলকে ভোট চুরির মাধ্যমে জেতানোর জন্য ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ রাখার কথা বলা হয়েছে।

এই দাবিতে ফেসবুকে পোস্ট আছে এখানে (আর্কাইভ), এখানে (আর্কাইভ) এবং এখানে (আর্কাইভ) ।

এই দাবিতে Tune Ask23 নামের একটি ফেসবুক পেজে প্রচারিত ভিডিও আজ বুধবার বেলা ৩টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত ১১ লাখ বারের বেশি দেখা হয়েছে। পাশাপাশি প্রায় ১৫ হাজার বার শেয়ার হয়েছে এবং রিয়েকশন পড়েছে ৫৩ হাজারের বেশি।

দাবিটির সত্যাসত্য যাচাইয়ের শুরুতেই প্রচারিত ভিডিওটি পর্যবেক্ষণ করে আজকের পত্রিকার ফেক্টচেক টিম। ভিডিও পর্যবেক্ষণে এতে কিছু অসামঞ্জস্য পরিলক্ষিত হয়।

৪ মিনিট ১৬ সেকেন্ডের ভিডিওতে এক ব্যক্তি দাবি করেন, ‘নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকার কথা কেন আসবে? তাহলে কি একটি নির্দিষ্ট দলকে জেতানোর জন্য এমন কিছু করা হচ্ছে? নাহলে ভোটের দিন হঠাৎ করে “ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে” এমন কথা কেনই বা আসবে, অন্য বিষয় বাদ দিয়ে?’

ভিডিওতে আরও বলা হয়, ‘আমাদের সবাইকে সচেতন থাকতে হবে। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যদি ভালো উদ্দেশ্যে এ কথা বলে থাকেন, তাহলে তা ঠিক আছে; নতুবা বিষয়টি ভালো নয়।’ এ ছাড়া ভিডিওটিতে নির্বাচনের লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড না থাকার অভিযোগও করা হয়।

পরবর্তীতে প্রাসঙ্গিক কি-ওয়ার্ড সার্চে দেশীয় কোনো গণমাধ্যমেও ইন্টারনেট বন্ধের ব্যাপারে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার বক্তব্য মন্তব্য সংবলিত কোনো প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়নি। তবে জাতীয় দৈনিক প্রথম আলোতে ‘নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করলে আইনগত ব্যবস্থা: স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

গত ১ ফেব্রুয়ারি প্রথম আলোতে প্রকাশিত প্রতিবেদনটি থেকে জানা যায়, চট্টগ্রামে নির্বাচনসংক্রান্ত আইনশৃঙ্খলা সভায় স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা লেফটেন্যান্ট জেনারেল (অব.) জাহাঙ্গীর আলম চৌধুরী বলেন, ‘১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ করা যাবে না।’ তিনি বলেন, ‘ইন্টারনেট খোলা রাখা হবে এবং কেউ তা বন্ধ করার চেষ্টা করলে তার বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

প্রচারিত দাবির বিষয়ে আরও অনুসন্ধানে দৈনিক ইত্তেফাকদ্য ডেইলি স্টার বাংলা-সহ আরও কিছু গণমাধ্যমে ‘ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আইনি ব্যবস্থা’ শিরোনামে প্রতিবেদন খুঁজে পাওয়া যায়।

এ ছাড়া বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এখন টিভির ফেসবুক পাতায় একটি ভিডিও খুঁজে পাওয়া যায়। ওই ভিডিওতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টাকে বলতে শোনা যায়, ‘ভোটের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকলে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

একই বক্তব্যে তিনি লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড এবং নির্বাচন চলাকালীন আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়েও কথা বলেন।

সার্বিক পর্যবেক্ষণে স্পষ্ট যে, স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টা ‘নির্বাচনের দিন ইন্টারনেট বন্ধ থাকবে’ এমন কোনো মন্তব্য করেননি। বরং তিনি ভোটের দিন ইন্টারনেট সচল রাখা নিশ্চিত করার দিকটি গুরুত্ব দিয়ে উল্লেখ করেছেন। আর এই কথাটিকেই পরিবর্তন করে বিভ্রান্তি ছড়ানো হচ্ছে।