সিরাজুল ইসলাম শাহীন
জুলাই বিপ্লব উত্তর নতুন বাংলাদেশ গড়ার ভিত রচনার প্রত্যয়ে ডঃ ইউনুছ নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকার দায়িত্ব নিয়েছিলেন। প্রধান উপদেষ্টার অঙ্গীকার ছিল ইতিহাসের সেরা নির্বাচন অনুষ্টানের। নানা ভুজবাজির পরও দেশবাসী তাই অধীর আগ্রহে একটি অবাধ ও নিরপেক্ষ ভোট উৎসবের অপেক্ষায়। কিন্তু সার্বিক পরিস্থিতির ক্রমাবনতিতে সচেতন মহল আশায় গুড়েবালি দেখছেন। প্রশ্ন উঠছে ডঃ ইউনুছ কি জাতির সাথে প্রতারনা করছেন ?
বিশেষ করে তফসিল ঘোষণার পর থেকে '' বিএনপি -আলুক্ষেত -কচুক্ষেত '' চক্রের বাড়াবাড়ি সকল সীমা অতিক্রম করে ফেলছে। আমীরে জামায়াতের 'X' একাউন্ট হ্যাকের সাথে বঙ্গভবনের সংশ্লিস্টতা মিলেছে। যেখানকার নিরাপত্তার দায়িত্বে একজন চিহ্নিত সিনিয়র জেনারেল রয়েছেন। সরকারের সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের অজান্তে '' বিডিটুডে '' ব্লক করেছে BTRC, যার DG একই চ্যানেলে পদায়িত হয়েছেন। শেরপুরের ঝিনাইগাতীর দিনব্যাপী ভয়াবহ সংঘর্ষ এবং থানা জামায়াত সেক্রেটারি খুনের ৩দিন অতিবাহিত হলেও প্রশাসন কাউকে গ্রেফতার পর্যন্ত করেনি এখনো। সারাদেশ ব্যাপী বিএনপির সন্ত্রাস অব্যাহত রয়েছে। ডাহা মিথ্যা গুজবের বোমা ফোটাচ্ছেন অবিরাম। জামায়াত নারী কর্মীদের উপর গনহারে হামলা - থ্রেট সকল রেড লাইন ক্রস করছে। এত কিছুর পরও প্রশাসনের রহস্যজনক নীরবতায় তথা প্রশ্রয়ে অন্দর মহলের নির্দেশনা দিবালোকের মত স্পষ্ট হয়ে উঠে।
শহীদ হাদি হত্যাকান্ডে বিশেষ গোষ্ঠীর সংশ্রব ওপেন সিক্রেট, হাদির বিচার প্রার্থীদের প্রতি অমানবিক আচরণ, গাজীপুরের সুরভীর ঘটনায় সেনা উপস্থিতি রহস্যজনক। প্রথম আলো - ডেইলী ষ্টার মামলা নিয়ে দৃষ্টিকটু তৎপরতা, খাম্বা নিয়ে পোস্টদাতাকে তড়িৎ গ্রেফতার অথচ এনসিপি নেত্রী ডাঃ মিতু সহ অন্যদের ক্ষেত্রে উদাসীনতা, প্রার্থী বাছাই সহ নানা বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের লোকচুরি গোটা সরকারি যন্ত্রের একপেশে নীতির পরিচায়ক। স্পষ্টত যা থেকে তৃতীয় বা অদৃশ্য শক্তির ছায়া বা নিয়ন্ত্রণ প্রমাণিত হয়।
ষড়য্ন্ত্রকারী চক্রের ইলেকশান ইঞ্জিনিয়ারিং অলরেডি শুরু হয়ে গেছে, এটা নির্দ্বিধায় বলা যায়। বাইরের নাটাইয়ের টানে হিতাহিত বোধশক্তি হারিয়ে ঘরের শত্রু বিভীষনরা জনতার আজাদীর স্পৃহা দমনে পাগল হয়ে গেছে। ঝুলানো মূলার লোভে বিএনপি হাসিনার মত জনগনের রায়ের তোয়াক্কা করছে না। না হলে, এ মুহূর্তে এত খুন খারাবি আর অন্তত নারীর গায়ে হাত দেয়ার চিন্তা করত না। এরা ২০১৮ ঘটাতে মশগুল হয়ে পড়েছে কারন আলুক্ষেত ও কচুক্ষেতের ২০০৮ থেকে ২০২৪ পর্যন্ত অজস্র অভিজ্ঞতা সঞ্চয়ে আছে।
জাতির কাছে কৃত অঙ্গীকার পূরণে আন্তরিক হলে ডঃ ইউনুস সরকারের কঠোর হাতে এই ঘৃণ্য অপশক্তি ভেঙে দিতে হবে। ডিজিএফআই, এনএসআই, BTRC ডিজিদের সহ অভিযুক্ত ডিরেক্টরস ও অন্য সিনিয়র অফিসারস এবং সাম্প্রতিক ঘটনা সমূহে ব্যর্থ ডিসি এসপি ওসি ইউএনও -দের তাৎক্ষণিক প্রত্যাহার করতে হবে। সেনাপ্রধানের প্রফেশনাল কর্তব্য সরকারকে বিনাবাক্যে সহযোগিতা করা। মিডিয়ার জঘন্য হলুদ অপসাংবাদিকতা রোধ করতে হবে। অস্ত্রবাজ, সন্ত্রাসী ও আসামী গ্রেফতারে জিরো টলারেন্স হতে হবে। নিরপেক্ষ নির্বাচনের পূর্ব শর্ত লেভেল প্লেইয়িং ফিল্ড নিশ্চিত কল্পে এসবে দৃঢ়তার পরিচয় দিতে হবে। তখন যে কোন পরিস্থিতিতে জনতা সরকারের জন্য ঢাল হয়ে দাঁড়াবে।
মাত্র দেড় বছর আগে প্রায় দেড় হাজার সন্তান হারিয়ে, ৪০ হাজারের অধিক পঙ্গুত্ব ও দীর্ঘ সীমাহীন ফ্যাসিবাদী জগদ্দল পাথরে পিষ্ট হওয়া এ জাতির আর পিছনে তাকানোর সুযোগ নেই। যে কোন মূল্যে জুলাই গাদ্দার চক্র প্রতিহত করতে সকল দেশপ্রেমিক নাগরিক বদ্বপরিকর। একটি অবাধ নিরপেক্ষ ও উৎসব মূখর নির্বাচনের প্রশ্নে কোন ছাড় নেই। ডঃ ইউনুছ এখন সিদ্বান্ত নিবেন, তিনি ঠুঠো জগন্নাথ হয়ে কি মীরজাফরের ভাগ্যবরণ করবেন; না বিপ্লবী জনতার কাতারে এসে জর্জ ওয়াশিংটন হয়ে ইতিহাসে অমর থাকবেন।