চাচাকে বাবা পরিচয় দিয়ে মুক্তিযোদ্ধা কোটায় চাকরি নেওয়া জ্যেষ্ঠ সহকারী সচিব কামাল হোসেনকে এবার সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা করেছে সরকার। গতকাল রোববার জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা করা হয়।
গত ২৮ জানুয়ারি জালিয়াতির অভিযোগে তাকে গ্রেপ্তার ও কারাগারে পাঠানো হয়েছিল। গ্রেপ্তারের আগে তিনি চাঁপাইনবাবগঞ্জের নাচোলের উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পদে কর্মরত ছিলেন। সে সময় তার বিরুদ্ধে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) মামলা করেছিল। এ ঘটনায় তাকে ওএসডি করা হয় জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ে।
রোববার জারি করা প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, ‘সরকারি চাকরি আইন, ২০১৮’ এর ৩৯(২) ধারা অনুযায়ী মো. কামাল হোসেনকে ২৮ জানুয়ারি থেকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হলো। সাময়িক বরখাস্তকালে তিনি বিধি অনুযায়ী খোরপোষ ভাতা প্রাপ্য হবেন বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ২৬ ডিসেম্বর কামাল হোসেনের বিরুদ্ধে জালিয়াতির অভিযোগে দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়, ঢাকা–১–এর উপসহকারী পরিচালক মো. মনজুরুল ইসলাম মিন্টুর করা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
মামলার বিবরণীতে বলা হয়, মুক্তিযোদ্ধা কোটার সুবিধা নিতে কামাল হোসেন তার প্রকৃত বাবা মো. আবুল কাশেম ও মা মোছা. হাবীয়া খাতুনের পরিবর্তে নিজের চাচা বীর মুক্তিযোদ্ধা মো. আহসান হাবীব ও চাচি মোছা. সানোয়ারা খাতুনকে বাবা-মা হিসেবে দেখান। এই ভুয়া পরিচয়ের মাধ্যমে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তিসহ ৩৫তম বিসিএস পরীক্ষায় মুক্তিযোদ্ধা সন্তানের কোটায় প্রশাসন ক্যাডারে সুপারিশপ্রাপ্ত হয়ে চাকরি লাভ করেন।