বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব ও ময়মনসিংহ-১ আসনের প্রার্থী সৈয়দ এমরান সালেহ প্রিন্স বলেছেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বই গণতন্ত্রের শক্তি। বাংলাদেশের মানুষ আজ দিশাহীন নয়—মানুষ দিশা খুঁজে পেয়েছে তারেক রহমানের নেতৃত্বে।
তারেক রহমানের নেতৃত্বেই গণতন্ত্র ফিরবে, দুঃশাসনের অবসান হবে, এবং জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত হবে। তিনি বলেন, ধানের শীষ প্রতীকে ভোটেই জনগণের মুক্তি মিলবে।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে ধোবাউড়া উপজেলার দক্ষিণ মাইজপাড়া ইউনিয়নের চারুয়া পাড়া বাজারে অনুষ্ঠিত নির্বাচনী মিছিলের পর চড়ুয়া পাড়া উচ্চ বিদ্যালয় শহীদ মিনার প্রাঙ্গণে সমাবেশে বক্তব্য রাখতে গিয়ে তিনি বলেন, এই নির্বাচন কোনো ব্যক্তি বা দলের নয়—এটি গণতন্ত্র বনাম দুঃশাসনের লড়াই।
তিনি বলেন, ধানের শীষে একটি ভোট মানেই হবে লুটপাট, দুর্নীতি ও স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে সরাসরি গণরায়।
চারুয়া পাড়া প্রাথমিক বিদ্যালয় থেকে শুরু হয়ে বিশাল এই মিছিলে নেতৃত্ব দেন ময়মনসিংহ-১ আসনে বিএনপি প্রার্থী এমরান সালেহ প্রিন্স। মিছিলটি বাজার প্রদক্ষিণ করে।
তিনি গণভোটে ‘হ্যাঁ’তে সংসদ নির্বাচনের ব্যালটে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দেওয়ার আহবান জানিয়ে বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে তারেক রহমান ঘোষিত রাষ্ট্র মেরামতের ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে একটি জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্র গড়ে তোলা হবে।
এমরান সালেহ প্রিন্স বলেন, ধোবাউড়া ও হালুয়াঘাট দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার। ভাঙাচোরা রাস্তা, ফসল রক্ষা বাঁধের বেহাল অবস্থা, সীমান্ত এলাকার মানুষের নিরাপত্তাহীনতা এবং কৃষিপণ্যের ন্যায্য মূল্য না পাওয়া, নিত্য প্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির যাঁতাকল থেকে মুক্তি, কৃষককে সাবলম্বী, পরিবারে খাদ্য প্রণোদনা, এক কোটি কর্মসংস্থান পেতে ধানের শীষ প্রতীকে ভোট দিতে হবে।
তিনি বলেন, বিএনপি ক্ষমতায় গেলে যোগাযোগ ব্যবস্থার আমূল সংস্কার, হাওর সুরক্ষা, কৃষকের ন্যায্য অধিকার ও সীমান্ত জনপদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে।
তিনি আরো বলেন, বিএনপির নির্বাচনী অঙ্গীকার শুধু কাগজে নয়—কৃষক কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড ও এক কোটি নতুন কর্মসংস্থান বাস্তবায়নের মাধ্যমে মানুষ বাস্তব পরিবর্তন দেখবে।
সন্ধ্যায় তিনি বাঘবেড় ও ঘোষগাঁও ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামে উঠান বৈঠক ও পথসভায় বক্তব্য রাখেন। সেখানে তিনি বলেন, গ্রামের মানুষ আর ভয় পায় না, তারেক রহমানের বাঁশির সুরে মানুষ জেগে উঠেছে। গ্রাম থেকেই এবার গণজাগরণ শুরু হয়েছে।
উঠান বৈঠকে তিনি কঠোর ভাষায় বলেন, আমি এমপি নির্বাচিত হলে আমার নাম বা দলের নাম ব্যবহার করে কেউ অনৈতিক কাজে জড়ালে কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, তারেক রহমানের নেতৃত্বে বিএনপি ক্ষমতায় এলে ধর্ম-বর্ণ-জাতিগোষ্ঠী নির্বিশেষে সকল মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও অধিকার নিশ্চিত করা হবে। বিভাজনের রাজনীতি নয়—ঐক্যের বাংলাদেশই হবে বিএনপির বাংলাদেশ।
এসব কর্মসূচিতে আলহাজ মফিজ উদ্দিন, ধোবাউড়া উপজেলা বিএনপির আহবায়ক অধ্যাপক আযহারুল ইসলাম কাজল, যুগ্ম আহবায়ক মোয়াজ্জেম হোসেন খান লিটন, ফরহাদ রাব্বানী সুমন, আবুল হাশিম, জুয়েল খান, সিরাজুল ইসলাম প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।
এরপর তিনি বাঘবেড় ইউনিয়নের নয়নকান্দি, গোস্তাবলী বাজার, ঘোষগাঁও ইউনিয়নের গলইভাঙ্গা ও এরশাদ বাজার, রায়পুর বাজারে পথসভা ও উঠান বৈঠকে বক্তব্য রাখেন।