বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আর শুধু মিছিল, মাইকিং কিংবা লিফলেট বিতরণের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচনী প্রচারের বড় অংশ ধীরে ধীরে চলে এসেছে মোবাইল স্ক্রিনে। ফেসবুক, টিকটক এবং ইউটিউবে ভিডিও প্রচার আর হোয়াটসঅ্যাপে ম্যাসেজ ফরোয়ার্ড- এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো যেন এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রচারণার মাধ্যমে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু শিক্ষিত বা শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোন ও সস্তা ইন্টারনেটের কারণে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত দুই শ্রেণির মানুষই নিয়মিত ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ব্যবহার করছে। ফলে রাজনৈতিক বার্তা এখন আর শুধু সভা-সমাবেশ বা সংবাদপত্রের মাধ্যমে নয়, সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত স্ক্রিনে পৌঁছে যাচ্ছে।
বিশ্লেষকদের মতে, সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভিডিও, লাইভ ও সংক্ষিপ্ত কনটেন্টের মাধ্যমে উপস্থাপিত রাজনৈতিক বার্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণে অভ্যস্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট মতামত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে শিক্ষিত ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও, উভয় ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়া রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ও অবস্থান বদলাতে সক্ষম হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। একই সঙ্গে টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মেও লাখ লাখ ব্যবহারকারী নিয়মিত সক্রিয়। অন্যদিকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ, কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত।
একসময় গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক খবর ছড়াত চায়ের দোকান, বাজার বা রাস্তার আলাপে। এখন সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। সকাল থেকে রাত ফেসবুক স্ক্রল, টিকটক ভিডিও কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে অবিরাম। এর ফলে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে অনেক দ্রুত। একটি ভিডিও বা বক্তব্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ চাইলে পছন্দের নেতার বক্তব্য এক ক্লিকেই শেয়ার করতে পারছে। এই ডিজিটাল গতির কারণে নির্বাচন এখন শুধু মাঠের লড়াই নয়, স্ক্রিনের লড়াইও।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে ডা. তাসনিম জারার নাম। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেসবুক লাইভ, ভিডিও ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই লাখো মানুষের আস্থা অর্জন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠের চেয়ে ফেসবুকই ছিল তার প্রধান মাধ্যম। পোস্ট, লাইভ ও ভিডিওর মাধ্যমেই তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছান।
বিশ্লেষকদের মতে, তাসনিম জারার এই উত্থান দেখায় বর্তমানে অনেকেই মাঠে নামার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়ে উঠছেন এবং সেই পরিচিতিই তাদের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসছে।
এই প্রবণতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচিতির পথ আর একমুখী নয়। আগে যেখানে দলীয় ব্যানারই ছিল প্রধান শক্তি, এখন একটি ফেসবুক পেজ কিংবা ভাইরাল ভিডিওও কাউকে নির্বাচনের আলোচনায় এনে ফেলতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু প্রচারণার জায়গা নয়, এটি তথ্য আদান প্রদান ও জনমত গঠনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। এখানে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি কনটেন্টও প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের সামনে পৌঁছাচ্ছে।
একদিকে এআই প্রযুক্তি দ্রুত ও সহজে তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে এআই নির্ভর ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সত্যতা যাচাইকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় AI বটের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম গণতান্ত্রিক তথ্যপ্রবাহের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এসব বট মানুষের মতো আচরণ করে ভুয়া তথ্য ছড়ায় এবং রাজনৈতিক মতামত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায় যার প্রভাব ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও গুরুতর হতে পারে।
বাংলাদেশেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় AI জেনারেটেড কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ছে।
দ্য ডেইলি স্টার এর এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৯৭টি AI জেনারেটেড রাজনৈতিক পোস্ট শনাক্ত হয়েছে। এসব পোস্ট প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ লাখের বেশি লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার পেয়েছে, যা এ ধরনের কনটেন্টের দ্রুত বিস্তারের চিত্র তুলে ধরে।
ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবহিত করছে, যাতে এসব কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ বা সংশোধন করা যায়।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ অধ্যয়ন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সামিয়া আসাদি বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া একই সঙ্গে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের ভূমিকাই পালন করে। এর প্রভাব নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা সেটিকে কীভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করছে তার ওপর।
তার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। নতুনত্ব ও ইনোভেশনের সুযোগও এখানে বেশি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রার্থী পরিচিতির ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর মার্কেটিং টুল।
তবে তিনি সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফেক নিউজ। খুব দ্রুত ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। ভিডিওভিত্তিক প্রচারণা মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব প্রভাব ফেলছে বলেও তিনি মনে করেন।
বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ভালো না খারাপ তা নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তবে এটুকু স্পষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। মোবাইল স্ক্রিন হয়ে উঠেছে নতুন রাজনৈতিক ময়দান, যেখানে একটি পোস্ট, একটি ভিডিও বা একটি লাইভই বদলে দিতে পারে নির্বাচনী আলোচনার গতিপথ।
বাংলাদেশের রাজনৈতিক বাস্তবতা এখন আর শুধু মিছিল, মাইক কিংবা লিফলেটের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। নির্বাচনী রাজনীতির বড় অংশ ধীরে ধীরে সরে এসেছে মোবাইল স্ক্রিনে। ফেসবুক পোস্ট, টিকটক ভিডিও, ইউটিউব ব্যাখ্যা আর হোয়াটসঅ্যাপ ফরোয়ার্ড এই ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মগুলো এখন নির্বাচনের সবচেয়ে বড় প্রচারণার মাঠে পরিণত হয়েছে।
বর্তমানে সোশ্যাল মিডিয়া শুধু শিক্ষিত বা শহুরে জনগোষ্ঠীর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই। স্মার্টফোন ও সস্তা ইন্টারনেটের কারণে শিক্ষিত ও অশিক্ষিত দুই শ্রেণির মানুষই নিয়মিত ফেসবুক, ইউটিউব ও টিকটক ব্যবহার করছে। ফলে রাজনৈতিক বার্তা এখন আর শুধু সভা সমাবেশ বা সংবাদপত্রের মাধ্যমে নয়, সরাসরি মানুষের ব্যক্তিগত স্ক্রিনে পৌঁছে যাচ্ছে। বিশ্লেষকদের মতে, ভিডিও, লাইভ ও সংক্ষিপ্ত কনটেন্টের মাধ্যমে উপস্থাপিত রাজনৈতিক বার্তা অনেক ক্ষেত্রে মানুষের আবেগ ও দৃষ্টিভঙ্গিতে প্রভাব ফেলছে। বিশেষ করে যারা রাজনৈতিক তথ্য বিশ্লেষণে অভ্যস্ত নন, তাদের ক্ষেত্রে সোশ্যাল মিডিয়ার কনটেন্ট মতামত গঠনে বড় ভূমিকা রাখছে। তবে শিক্ষিত ব্যবহারকারীরা তুলনামূলকভাবে তথ্য যাচাইয়ের চেষ্টা করলেও, উভয় ক্ষেত্রেই সোশ্যাল মিডিয়া রাজনীতির প্রতি আগ্রহ ও অবস্থান বদলাতে সক্ষম হচ্ছে।
গত কয়েক বছরে দেশে সোশ্যাল মিডিয়া ও ইন্টারনেট ব্যবহারকারীর সংখ্যা দ্রুত বেড়েছে। ২০২৫ সালের শেষ দিকে বাংলাদেশে প্রায় ৬ কোটি ৪০ লাখ মানুষ ফেসবুক ব্যবহার করেছে, যা দেশের মোট জনসংখ্যার প্রায় এক তৃতীয়াংশ। একই সঙ্গে টিকটক ও ইউটিউবের মতো প্ল্যাটফর্মেও লাখ লাখ ব্যবহারকারী নিয়মিত সক্রিয়। অন্যদিকে প্রায় ১৩ কোটি মানুষ, অর্থাৎ মোট জনসংখ্যার প্রায় ৭৪ শতাংশ, কোনো না কোনোভাবে ইন্টারনেটের সঙ্গে যুক্ত।
একসময় গ্রামাঞ্চলে রাজনৈতিক খবর ছড়াত চায়ের দোকান, বাজার বা রাস্তার আলাপে। এখন সেই জায়গা দখল করেছে স্মার্টফোনের স্ক্রিন। সকাল থেকে রাত ফেসবুক স্ক্রল, টিকটক ভিডিও কিংবা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপে রাজনৈতিক আলোচনা চলছে অবিরাম।
এর ফলে রাজনৈতিক বার্তা ছড়িয়ে পড়ছে অনেক দ্রুত। একটি ভিডিও বা বক্তব্য মুহূর্তেই হাজারো মানুষের কাছে পৌঁছে যাচ্ছে। কেউ চাইলে পছন্দের নেতার বক্তব্য এক ক্লিকেই শেয়ার করতে পারছে। এই ডিজিটাল গতির কারণে নির্বাচন এখন শুধু মাঠের লড়াই নয়, স্ক্রিনের লড়াইও।
সোশ্যাল মিডিয়া ব্যবহার করে রাজনীতির আলোচনায় উঠে আসার বাস্তব উদাহরণ হিসেবে উঠে আসে ডা. তাসনিম জারার নাম। কোভিড-১৯ মহামারির সময় ফেসবুক লাইভ, ভিডিও ও স্বাস্থ্যবিষয়ক কনটেন্টের মাধ্যমে তিনি অল্প সময়েই লাখো মানুষের আস্থা অর্জন করেন।
পরবর্তী সময়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে নির্বাচনী প্রচারণায় মাঠের চেয়ে ফেসবুকই ছিল তার প্রধান মাধ্যম। পোস্ট, লাইভ ও ভিডিওর মাধ্যমেই তিনি ভোটারদের কাছে পৌঁছান। বিশ্লেষকদের মতে, তাসনিম জারার এই উত্থান দেখায় বর্তমানে অনেকেই মাঠে নামার আগেই সোশ্যাল মিডিয়ায় পরিচিত হয়ে উঠছেন এবং সেই পরিচিতিই তাদের রাজনৈতিক আলোচনার কেন্দ্রে নিয়ে আসছে।
এই প্রবণতা প্রমাণ করে, বাংলাদেশে রাজনৈতিক পরিচিতির পথ আর একমুখী নয়। আগে যেখানে দলীয় ব্যানারই ছিল প্রধান শক্তি, এখন একটি ফেসবুক পেজ কিংবা ভাইরাল ভিডিওও কাউকে নির্বাচনের আলোচনায় এনে ফেলতে পারে।
সোশ্যাল মিডিয়া এখন শুধু প্রচারণার জায়গা নয়, এটি তথ্য আদান প্রদান ও জনমত গঠনের সবচেয়ে বড় প্ল্যাটফর্ম। এখানে সরকার, প্রতিষ্ঠান ও নাগরিকদের পাশাপাশি কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) দ্বারা তৈরি কনটেন্টও প্রতিদিন কোটি কোটি মানুষের সামনে পৌঁছাচ্ছে। একদিকে এআই প্রযুক্তি দ্রুত ও সহজে তথ্য তৈরি ও ছড়িয়ে দেওয়ার সুযোগ তৈরি করছে, অন্যদিকে এআই নির্ভর ভুয়া ও বিভ্রান্তিকর কনটেন্ট সত্যতা যাচাইকে আরও কঠিন করে তুলছে।
বিশ্বজুড়ে বিশ্লেষকরা সতর্ক করছেন, সোশ্যাল মিডিয়ায় সক্রিয় এআই বটের স্বয়ংক্রিয় কার্যক্রম গণতান্ত্রিক তথ্যপ্রবাহের জন্য হুমকি হয়ে উঠছে। এসব বট মানুষের মতো আচরণ করে ভুয়া তথ্য ছড়ায় এবং রাজনৈতিক মতামত প্রভাবিত করার চেষ্টা চালায় যার প্রভাব ভবিষ্যতের নির্বাচনগুলোতে আরও গুরুতর হতে পারে।
বাংলাদেশেও নির্বাচনকে কেন্দ্র করে সোশ্যাল মিডিয়ায় এআই জেনারেটেড কনটেন্টের সংখ্যা বাড়ছে।
সংবাদমাধ্যম দ্য ডেইলি স্টারের এক অনুসন্ধানে দেখা গেছে, ২০২৫ সালের ডিসেম্বর থেকে ২০২৬ সালের জানুয়ারি পর্যন্ত অন্তত ৯৭টি এআই জেনারেটেড রাজনৈতিক পোস্ট শনাক্ত হয়েছে। এসব পোস্ট প্রথম ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই ১৬ লাখের বেশি লাইক, মন্তব্য ও শেয়ার পেয়েছে, যা এ ধরনের কনটেন্টের দ্রুত বিস্তারের চিত্র তুলে ধরে।
ভুয়া ও ক্ষতিকর কনটেন্ট ঠেকাতে বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রক সংস্থা (বিটিআরসি) এবং জাতীয় সাইবার নিরাপত্তা এজেন্সি নিয়মিতভাবে সংশ্লিষ্ট সোশ্যাল মিডিয়া প্ল্যাটফর্মগুলোকে অবহিত করছে, যাতে এসব কনটেন্ট দ্রুত অপসারণ বা সংশোধন করা যায়।
বিশ্লেষকদের মতে, সোশ্যাল মিডিয়া ভালো না খারাপ তা নির্ভর করে এর ব্যবহারকারীদের সচেতনতা ও দায়িত্বশীলতার ওপর। তবে এটুকু স্পষ্ট বাংলাদেশের রাজনীতি এখন আর শুধু মাঠে সীমাবদ্ধ নয়। মোবাইল স্ক্রিন হয়ে উঠেছে নতুন রাজনৈতিক ময়দান, যেখানে একটি পোস্ট, একটি ভিডিও বা একটি লাইভই বদলে দিতে পারে নির্বাচনী আলোচনার গতিপথ।
স্ট্যামফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় বাংলাদেশের সাংবাদিকতা ও গণযোগাযোগ অধ্যয়ন বিভাগের অ্যাসিস্ট্যান্ট প্রফেসর সামিয়া আসাদি আরটিএনএনকে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়া একইসঙ্গে ইতিবাচক ও নেতিবাচক দুই ধরনের ভূমিকাই পালন করে। এর প্রভাব নির্ভর করে ব্যবহারকারীরা সেটিকে কীভাবে গ্রহণ ও ব্যবহার করছে তার ওপর।
তার মতে, সোশ্যাল মিডিয়া এমন একটি শক্তিশালী মাধ্যম, যার মাধ্যমে যেকোনো সময় ও যেকোনো স্থান থেকে মানুষের কাছে পৌঁছানো সম্ভব। নতুনত্ব ও ইনোভেশনের সুযোগও এখানে বেশি, বিশেষ করে রাজনৈতিক বার্তা বা প্রার্থী পরিচিতির ক্ষেত্রে এটি একটি কার্যকর মার্কেটিং টুল।
তবে প্রফেসর সামিয়া সতর্ক করে বলেন, সোশ্যাল মিডিয়ার সবচেয়ে বড় সমস্যা হলো ফেক (ভুয়া) নিউজ। খুব দ্রুত ভুয়া তথ্য ছড়িয়ে পড়ায় প্রকৃত ও নির্ভরযোগ্য সংবাদ শনাক্ত করা অনেক সময় কঠিন হয়ে যায়। ভিডিওভিত্তিক প্রচারণা মানুষের মতামত ও সিদ্ধান্ত গ্রহণে বাস্তব প্রভাব ফেলছে।