দেশে ভূমিকম্প অনুভূত হয়েছে। ভারতের ন্যাশনাল সেন্টার অব সিসমোলজি (এনসিএস) জানিয়েছে, ভূমিকম্পটি স্থানীয় সময় রোববার (১ ফেব্রুয়ারি) ভোর ৪টার দিকে আঘাত হানে।
ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে বাংলাদেশ। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এ প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিষয়ক সংস্থা ভলকানো ডিসকভারি জানিয়েছে, রোববার ভোরে বাংলাদেশে হালকা মাত্রার এ ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। স্থানীয় সময় ভোর ৪টা ২ মিনিটে (জিএমটি+৬) সিলেট বিভাগের সিলেট শহর থেকে প্রায় ২১ কিলোমিটার দূরে ভূমিকম্পটির কেন্দ্রস্থল ছিল। ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল তুলনামূলকভাবে অগভীর—প্রায় ২০ কিলোমিটার (১২ মাইল)।
এনসিএস জানিয়েছে, ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ২০ কিলোমিটার গভীরে। এর অবস্থান নির্ণয় করা হয়েছে ২৪.৮৫ ডিগ্রি উত্তর অক্ষাংশ এবং ৯২.০৭ ডিগ্রি পূর্ব দ্রাঘিমাংশে।
তবে ভূমিকম্পটি হালকা হওয়ায় কোথাও কম্পন অনুভূত হওয়ার বা কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি। কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়নি এবং এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের তথ্যও পাওয়া যায়নি।
ভূতাত্ত্বিকভাবে বাংলাদেশ একটি ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে অবস্থিত। দেশটি ভারতীয়, ইউরেশীয় ও বার্মা—এই তিনটি সক্রিয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থান করছে। ভারতীয় প্লেট প্রতি বছর প্রায় ৬ সেন্টিমিটার গতিতে উত্তর-পূর্ব দিকে অগ্রসর হচ্ছে, অন্যদিকে ইউরেশীয় প্লেট উত্তর দিকে প্রায় ২ সেন্টিমিটার গতিতে সরে যাচ্ছে। এ প্লেটগুলোর চলাচলের কারণে বাংলাদেশে ভূমিকম্পের ঝুঁকি তুলনামূলকভাবে বেশি।
বাংলাদেশের আশপাশে বগুড়া ফল্ট, ত্রিপুরা ফল্ট, শিলং মালভূমি, ডাউকি ফল্ট ও আসাম ফল্টসহ একাধিক সক্রিয় চ্যুতি রেখা রয়েছে। এসব বিবেচনায় দেশটিকে ১৩টি ভূমিকম্পপ্রবণ অঞ্চলে ভাগ করা হয়েছে। এর মধ্যে চট্টগ্রাম, পার্বত্য চট্টগ্রাম ও সিলেটের জৈন্তাপুর অঞ্চলকে সর্বোচ্চ ঝুঁকিপূর্ণ হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
এদিকে রাজধানী ঢাকা বিশ্বের অন্যতম জনবহুল শহর। প্রতি বর্গকিলোমিটারে ৩০ হাজারের বেশি মানুষের বসবাসের কারণে ঢাকাকে বিশ্বের ২০টি সবচেয়ে ভূমিকম্প-ঝুঁকিপূর্ণ শহরের একটি হিসেবে বিবেচনা করা হয়। রাজধানীতে ২১ লাখ ৪৫ হাজার ভবনের মধ্যে ৯৫ ভাগ অনুমোদিত নকশার বাইরে এবং অনেক ভবন জাতীয় ভবন নির্মাণ কোড (বিএনবিসি) অনুসরণ না করেই তৈরি।