Image description

নোয়াখালী-১ আসনের সোনাইমুড়ীতে জামায়াতের এক নারীকর্মীকে হেনস্তার অভিযোগ উঠেছে মোশারেফ হোসেন নামে এক বিএনপি নেতার বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় বৃহস্পতিবার (২৯ জানুয়ারি) রাতে প্রতিবাদ জানিয়ে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগও দেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন জামায়াতের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ।

অভিযোগের বিষয়ে জামায়াতের প্রার্থী মো. ছাইফ উল্যাহ দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে, বৃহস্পতিবার সকালে সোনাইমুড়ী ৮ নম্বর ওয়ার্ডে প্রচারকালীন সময়ে দাঁড়িপাল্লার এক নারীকর্মীর ওপর সহযোগীদের নিয়ে হামলা চালিয়ে হেনস্তা করেন ওই ওয়ার্ড বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মোশারেফ হোসেন। তিনি বিজয়নগর গ্রামের মৃত ছেরাজুল হকের ছেলে।

তিনি বলেন, হেনস্তার ভিডিওটি পরে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে। নারীদের হেনস্তা করার ঘটনাটি উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বলে আমরা মনে করি। এর মাধ্যমে দাড়িপাল্লা প্রতীকের পক্ষে ভোট কার্যক্রমে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করার চেষ্টা করা হচ্ছে। নির্বাচন একটি গণতান্ত্রিক অধিকার—এখানে যেমন পুরুষরা ভোট দেবেন, তেমনি নারীরাও ভোট দেবেন। কিন্তু তারা বারবার প্রমাণ করেছে যে জনগণ তাদের পক্ষে নেই, সে কারণেই এখন আমাদের নারী কর্মীদের লক্ষ্য করে বাধা দেওয়া হচ্ছে।

ছাইফ উল্যাহ বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে বলতে চাই, আমাদের পক্ষ থেকে কখনোই কাউকে ভোট দিতে বাধা দেওয়া হয়নি। আমাদের কোনো জনশক্তি বা কোনো কর্মী কখনো তাদের নারী কর্মী কিংবা সমর্থকদের কাজে বাধা দেয়নি। আমাদের নারী কর্মীরা মাঠে কাজ করছেন, ছাত্ররা কাজ করছেন, শ্রমিকরা কাজ করছেন, যুবকরাও কাজ করছেন। বিভিন্ন পেশার ভাইয়েরাও দাড়িপাল্লার পক্ষে মাঠে সক্রিয়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।

তিনি আরও বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাদের কার্যক্রমে বাধা দেওয়া হচ্ছে এবং এটি নির্বাচন আচরণবিধির সুস্পষ্ট লঙ্ঘন। এ কারণে আমরা এর প্রতিকার কামনা করছি। বিষয়টি ইতোমধ্যে মৌখিকভাবে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং লিখিত অভিযোগও দেওয়া হবে। আমরা এর বিচার চাই। আমরা চাই, একটি সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ পরিবেশ বজায় থাকুক এবং সবাই যেন কোনো ধরনের বাধা ছাড়াই নির্বিঘ্নে ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারে।’

ফেসবুকে ছড়িয়ে পড়া এক মিনিট ১৩ সেকেন্ডের একটি ভিডিওতে দেখা যায়, বিএনপি নেতা মোশারেফ হোসেন এক নারীকে কোরআন নিয়ে প্রচারণার জন্য শাসাচ্ছেন। এসময় ওই নেতার পাশে থাকা লোকজনও নারীকে নানান কটু কথা বলতে শোনা যায়।

অভিযুক্ত বিএনপি নেতা মোশারেফ হোসেন বলেন, আমি কাউকে হেনস্তা করিনি। তবে একজন নারী আমার ওয়ার্ডে কোরআন হাতে নিয়ে একজন প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণা করায় তাকে এ ধরনের কাজ থেকে বিরত থাকতে বলেছি। তখন পথচারী কেউ ভিডিও করে তা ফেসবুকে দিয়েছে।

এ বিষয়ে সোনাইমুড়ী পৌরসভা অংশের সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা ও চাটখিল উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা বিমলেন্দু কিশোর পাল দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ভিডিওটি ভাইরালের কোন ধরনের ঘটনায় কোনো অভিযোগ আমি এখনো পাইনি। পেলে তদন্ত করে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

অন্যদিকে সোনাইমুড়ী উপজেলা নির্বাচন কর্মকর্তা মো. আবু তালেব দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা সুষ্ঠু নির্বাচন করতে সব ধরনের ব্যবস্থা নিয়েছি। যদি কোন ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে থাকে তাহলে কেউ অভিযোগ করলে সাথে সাথে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’