Image description
 

বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ও ১১ দলীয় জোটের প্রধান ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ৩৬ জুলাই এর আগে গোটা দেশ ছোপ ছোপ রক্তে ভরে গিয়েছিল। ২০০৬ সালের ২৮ অক্টোবর হত্যাযজ্ঞ শুরু করেছি। ফেনীবাসী ছিলেন আরো সন্ত্রাসের রাজ্যে। বংশানুক্রমে সন্ত্রাস। জুলাইজুড়ে আন্দোলন করেছেন। খালেদা জিয়া আধিপত্যবাদকে প্রশ্রয় দেননি। ফেনী জেলার মানুষ মকবুল আহমাদ দূর্দীনে জামায়াতের নেতৃত্ব দিয়েছেন।

 

তিনি আরো বলেন, বিপ্লবের পরপরই সীমান্তের ওপার থেকে তেড়ে আসা পানিতে বাধ ভেঙ্গে ফেনী জেলা সমুদ্রে পরিনত হয়েছে। কুমিল্লা, নোয়াখালী, লক্ষীপুর জেলা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দু:খের সঙ্গী-সাথী হতে তখন এসেছিলাম। ফেনী নদী নিয়ে কথা বলায় আবরার ফাহাদকে জীবন দিতে হয়েছে। দোশের ন্যায্য প্রাপ্যের কথা বলেছিল। আধিপত্যবাদের দোসররা সহ্য করতে পারেনি। মহিপালের ১২ জন শহীদকে শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করতে হবে।

শুক্রবার সকালে ফেনী সরকারি পাইলট হাই স্কুল মাঠের নির্বাচনি জনসভায় তিনি প্রধান অতিথির ভাষন দেন। ১১টার দিকে মঞ্চে উঠলে উপস্থিত নেতাকর্মী ও সমর্থক শ্লোগানের মাধ্যমে তাকে স্বাগত জানান। তিনি হাত নেড়ে নেতা-কর্মীদের শুভেচ্ছার জবাব দেন। জনসভাকে ঘিরে নেতাকর্মীদের মাঝে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা বিরাজ করে।

 

পৌনে ১১টার দিকে আকাশপথে হেলিকপ্টার যোগে ভাষা শহীদ সালাম স্টেডিয়ামে অবতরণ করেন। জনসভায় জেলার প্রত্যন্ত এলাকা থেকে আসা জনসমাগম সামাল দিতে এবং সবাইকে মঞ্চের দৃশ্য দেখানোর জন্য ৫টি এবং বিশাল পর্দায় (এলইডি স্ক্রিন) সভা সমপ্রচার করা হয়।

 

অর্থনীতিতে ফেনীর বিশেষ অবদান রয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ১৮ কোটি মানুষের দেশে কোন জেলা মেডিকেল কলেজ বাদ থাকবেনা। দেশবাসীর সুযোগ পেলে সরকারী মেডিকেল কলেজ হবে। বিশেষায়িত হাসপাতাল হবে। বাঁধের শান্তিপুর্ণ সমাধান করা হবে। মানসম্মত স্টেডিয়াম নাই। প্রবাসীদের রেমিট্যান্স বিপুল আসে। আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন স্টেডিয়াম হবে। ন্যায্যতার ভিত্তিতে সব সমস্যার সমাধান করা হবে।

দাঁড়িপাল্লা-ঈগল প্রতীকে ভোট চেয়ে জামায়াত আমীর বলেন, ১১টি দল একাকার। ঐক্যবদ্ধ বাংলাদেশ এর প্রার্থী। আর কোন মান-অভিমান চলবেনা। আধিপত্যবাদ, মামলা বানিজ্য, চাঁদাবাজির বিরুদ্ধে ভোট তুলে আনতে হবে। স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব রক্ষায় ১১ দলকে বিজয়ী করতে হবে। ১২ তারিখ প্রথম ভোট হবে হ্যাঁ। হ্যাঁ মানে আজাদী। রাজার ঘরে জন্ম হলে রাজা হবেনা, মন্ত্রীর ঘরে মন্ত্র হবেনা। এই সংস্কৃতিকে পাল্টে দিতে হবে। দূর্নীতিকে লাল কার্ড দেখাতে চাই। সবার সমান অধিকার নিশ্চিত করতে চাই। জুলাই যোদ্দাদের সম্মান করুন। সেই সম্মান করলে মাথা গরমের সুযোগ নেই। খবরদার মাদের সম্মান নিয়ে টান দেবেননা, আল্লাহর আরশ কেঁপে উঠবে। মায়োর বেইজ্জতি সহ্য করতে পারবোনা। হাদী, রেজাউল করিম, আবু সাঈদের কী দোষ ছিল? বুকের ভিতর তুমুল ঝড়, বুক পেতোছি গুলি কর। বীরেরা পালায়না, প্রত্যেকটি মায়ের ঘরে বীর জন্ম দিতে চাই। বেকার ভাতা দিতে চাইনা, তাদের মর্যাদা তুলে দিতে চাই। বুকোর দিকে আম্গুল তুলে বলতে হবে আমিই বাংলাদেশ। মাদের মর্যাদা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হবে। মাদের দৃষ্টি পরিবর্তনের বাংলাদেশের দিকে। মায়েদের দোয়া আমাের শক্তি। আস্থার প্রতিদান দিতে লড়ে যাবো ।কওমী মাদরাসা আমাদোর কলিজা। কথায় নয় কাজে প্রমান করবো। যারা ভয় দেখায় তারা মতলববাজ। ন্যায়-ইনসাফের বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যবদ্ধ হয়েছি।

জেলা আমির মুফতি আবদুল হান্নানের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি ছুলেন জামায়াতে ইসলামীর সহকারী সেক্রেটারী আবু তাহের মোহাম্মদ মাছুম, জাগপা সভাপতি রাশেদ প্রধান, শ্রমিক কল্যান ফেডারেশনের সহ-সভাপতি কবির আহমদ, ডাকসু ভিপি সাদিক কায়েম, শ্রমিক কল্যাণের কেন্দ্রীয় সেক্রেটারি আতিকুর রহমান।

জেলা সেক্রেটারী মুহাম্মদ আবদুর রহীমের পরিচালনায় ফেনী-১ আসনের প্রার্থী এসএম কামাল উদ্দিন, ফেনী-২ আসনের প্রার্থী মজিবুর রহমান মঞ্জু, ফেনী-৩ আসনের প্রার্থী ডা. মোহাম্মদ ফখরুদ্দীন মানিক ছাড়াও বক্তব্য রাখেন সাবেক জেলা আমীর অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঞা ও একেএম শামসুদ্দিন, নায়েবে আমীর অধ্যাপক আবু উউসুফ ও মাওলানা মাহমুদুল হক, খেলাফত মজলিসের কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরা সদস্য মোহাম্মদ আলী মিল্লাত, এনসিপির সংগঠক আজিজুর রহমান রিজভী, ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় কার্যকরি পরিষদ সদস্য মাজহারুল ইসলাম, শহর সভাপতি ওমর ফারুক ও জেলা সভাপতি আবু হানিফ হেলাল প্রমুখ বক্তব্য রাখেন।

মুফতি আবদুল হান্নান জানান, এই জনসভা থেকে ডা. শফিকুর রহমান গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক ও রাজনৈতিক দিকনির্দেশনা দেন। এই নির্দেশনার ওপর ভিত্তি করেই তৃণমূলের নেতাকর্মী সহ সর্বস্তরের জনগন আগামী ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের কার্যক্রম পরিচালনা হবে।