Image description

আর মাত্র দু’সপ্তাহ পরেই দেশে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে। নির্বাচনের পর নতুন সরকার গঠিত হবে এবং এর সঙ্গে ড. মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারেরও ইতি ঘটবে। অর্থাৎ সরকারের উপদেষ্টারা আর থাকছেন না। মনে করা হচ্ছে, নতুন সরকার গঠিত হওয়ার পর প্রশাসনেও ব্যাপক পরিবর্তন হবে। সেই প্রেক্ষাপটে শীর্ষ দুর্নীতিবাজ সচিব মো. রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর স্থানীয় সরকার বিভাগে বহাল থাকার সুযোগ নেই বললেই চলে। রেজাউল মাকছুদ নিজেও এটা জানেন। আর তাই শেষ মুহূর্তে বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন আখের গুছিয়ে নেওয়ার ধান্দায়। এ ক্ষেত্রে তিনি কোনো রকমের নিয়ম-নীতিরও তোয়াক্কা করছেন না। মন্ত্রণালয়ের অধীনস্থ দপ্তরসমুহে ঘুষ বাণিজ্য, টেন্ডারবাণিজ্য, ব্ল্যাকমেইলিং, চাঁদাবাণিজ্যসহ এমন কোনো অপকর্ম নেই যা তিনি করছেন না। সবচেয়ে অবাক ব্যাপার হলো, ঘুষের লোভে নির্বাচন কমিশনের নির্দেশও মানছেন না সচিব জাহেদী।

গত ১২ ডিসেম্বর জাতীয় নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। আইন অনুযায়ী সেই থেকে মাঠ পর্যায়ের সরকারি কর্মকর্তারা নির্বাচন কমিশনের অধীনে। মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের বদলি, পদোন্নতি, পদায়ন- প্রভৃতি চাকরি সংক্রান্ত কোনো কিছুই কমিশনের অনুমতি ছাড়া সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় বা দপ্তর-অধিদপ্তর করতে পারবে না। নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে এ ব্যাপারে স্পষ্টভাবে লিখিত নির্দেশও জারি করা হয়েছে। মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের মাধ্যমে ওই নির্দেশের কপি সরকারের প্রত্যেকটি মন্ত্রণালয় ও দপ্তর-অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু আইন-কানুন এবং নির্বাচন কমিশনের নির্দেশের কোনো রকম তোয়াক্কা না করেই স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের অধীন দপ্তরসমূহের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের ব্যাপকভাবে পদোন্নতির উদ্যোগ নিয়েছেন সচিব রেজাউল করিম জাহেদী। এর মাধ্যমে তিনি হাতিয়ে নিচ্ছেন কোটি কোটি টাকা।

জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের সহকারী প্রকৌশলী থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী পদে এবং নির্বাহী প্রকৌশলী থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির ব্যাপক তোড়জোড় চলছে এখন। গত এক সপ্তায় এ বিষয়ে সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদীর সভাপতিত্বে বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির অন্তত দুটি সভা অনুষ্ঠিত হয়ে গেছে। মাঠ পর্যায়ের সহকারী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্বাহী প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির জন্য ডিপিসির সভা করা হয় গত ২৫ জানুয়ারি। এরপরে সর্বশেষ অনুষ্ঠিত হয় ২৮ জানুয়রি বুধবার নির্বাহী প্রকৌশলী পর্যায়ের কর্মকর্তাদের তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতির সভা। যদিও আইনত এইসব কর্মকর্তারা এখন নির্বাচন কমিশনের অধীনে নিয়োজিত আছেন। সচিব জাহেদী ছাড়াও এই অবৈধ পদোন্নতিতে সরাসরি জড়িত রয়েছেন জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়াল।

অধিদপ্তর সূত্রে জানা গেছে, জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরে ১৫টি তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলীর পদ আছে যার সবকটি শূন্য প্রায় ৪ বছর ধরে। এই পদ পূরণের জন্য অধিদপ্তর থেকে ২৮ জন নির্বাহী প্রকৌশলীর প্রস্তাব প্রেরণ করা হয় প্রায় ৬ মাস পূর্বে। এছাড়াও ৭৭টি নির্বাহী প্রকৌশলীর পদের মধ্যে ১৭টি পদ শূন্য রয়েছে যার বিপরীতে ৪১ জন সহকারী প্রকৌশলীর প্রস্তাব প্রেরণ করা হয়। কিন্তু এতোদিন পরে এখন শেষ মুহূর্তে নির্বাচনী আইন লঙ্ঘন করে তড়িঘড়িভাবে পদোন্নতির উদ্যোগ কেন নেওয়া হলো, এ নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। খোদ মন্ত্রণালয়েই এ নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। কিন্তু সচিব কোনো কিছুরই তোয়াক্কা করছেন না। নিয়ম অনুযায়ী পানি সরবরাহ অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংক্রান্ত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বর্তমানে এই অনুবিভাগের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান। কিন্তু তাকে এই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটিতেই রাখা হয়নি, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করায়। আইন-কানুন লঙ্ঘন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির উদ্যোগের বিষয়ে সচিব জাহেদী উপদেষ্টার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। তবে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আদৌ এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন কিনা, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, শুধুমাত্র ঘুষের লোভেই সচিব জাহেদী এমন বেপরোয়া হয়ে উঠেছেন। সহকারী প্রকৌশলী পদ থেকে নির্বাহী প্রকৌশলী এবং নির্বাহী প্রকৌশলী পদ থেকে তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী পদে পদোন্নতি- উভয় ডিপিসি সভারই কার্যবিবরণী গোপন রাখা হয়েছে। কার্যবিবরণী গোপন রেখেই আর্থিক লেনদেনের কাজগুলো সম্পন্ন করা হচ্ছে। প্রতিটি পদোন্নতির বিপরীতে বড় অংকের আর্থিক লেনেদন চলছে বলে সূত্র নিশ্চিত করেছে।

সূত্রমতে, আর্থিক লেনদেনের কাজগুলো সম্পন্ন হচ্ছে সচিব রেজাউল মাকছুদ জাহেদী ও প্রধান প্রকৌশলী মো. আব্দুল আউয়ালের নির্ধারিত সিন্ডিকেটের মাধ্যমে। এর অন্যতম হলেন মন্ত্রণালয়ের পানি সরবরাহ-১ শাখার উপসচিব মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম। এছাড়া জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরেরও কয়েকজন প্রকৌশলী এই সিন্ডিকেটে রয়েছেন। সিন্ডিকেটটি জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের বিভিন্ন প্রকল্পে ঘুষ লেনদেন, টেন্ডারবাজি এবং চাঁদাবাজিতেও জড়িত রয়েছে।

নিয়ম অনুযায়ী পানি সরবরাহ অনুবিভাগের দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর সংক্রান্ত বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটির গুরুত্বপূর্ণ সদস্য। বর্তমানে এই অনুবিভাগের দায়িত্বে আছেন অতিরিক্ত সচিব সুরাইয়া আক্তার জাহান। কিন্তু তাকে এই বিভাগীয় পদোন্নতি কমিটিতেই রাখা হয়নি, তিনি নির্বাচন কমিশনের নিষেধাজ্ঞার কথা মৌখিকভাবে উল্লেখ করায়। আইন-কানুন লঙ্ঘন করে জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের এই পদোন্নতির উদ্যোগের বিষয়ে সচিব জাহেদী উপদেষ্টার অনুমতি নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তাদের। তবে উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান আদৌ এ বিষয়ে অনুমতি দিয়েছেন কিনা, মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা নিশ্চিত নন।

শীর্ষনিউজ