বিশ্ববাজারে মার্কিন ডলারের মান গত চার বছরে সর্বনিম্ন স্তরে নেমে এসেছে। এর আগে ডলারের মান কমার বিষয়টি উড়িয়ে দিয়েছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডনাল্ড ট্রাম্প। তবে বাস্তবতা ভিন্ন হওয়ায় উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছেন বিনিয়োগকারীরা। তারা এখন ডলারের পরিবর্তে স্বর্ণ ও সুইস ফ্রাঁ’র মতো প্রাচীন আশ্রয়ের দিকে ঝুঁকছেন। এ খবর দিয়েছে দ্য গার্ডিয়ান।
মঙ্গলবার প্রধান মুদ্রাগুলোর বিপরীতে ডলারের মান ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায়। যা টানা চতুর্থ দিনের পতন। বুধবার সকালে ডলার আরও শূন্য দশমিক ২ শতাংশ পতন হয়েছে।
আইওয়ায় অর্থনৈতিক সাফল্য তুলে ধরতে গিয়ে ট্রাম্প ডলারের দুর্বলতা নিয়ে প্রশ্নের জবাবে বলেন, না, আমি মনে করি এটা দারুণ। তিনি আরও দাবি করেন, ডলারের মূল্য ভালোই আছেÑ ব্যবসা দেখলেই বোঝা যায়।
গত এক বছরে ডলারের মান প্রায় ১০ শতাংশ কমেছে। মঙ্গলবারের পতনটি ছিল গত এপ্রিলের পর একদিনে সবচেয়ে বড় পতন।
ট্রাম্পের শুল্কনীতি, গ্রিনল্যান্ড দখলের হুমকি এবং ইউরোপীয় মিত্রদের ওপর নতুন শুল্ক আরোপের সম্ভাবনার মতো ভূরাজনৈতিক উত্তেজনার কারণে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারির পর ডলারের মান সর্বনিম্ন স্তরে পৌঁছেছে।
ইন্টারঅ্যাকটিভ ব্রোকার্সের বাজার কৌশলবিদ স্টিভ সনিক বলেন, দুর্বল ডলার দুই ধারবিশিষ্ট তলোয়ার। বহুজাতিক কোম্পানির জন্য এটি ভালো, কারণ বিদেশি আয়ের ডলারমূল্য বাড়ে। তবে এতে আমদানিকৃত পণ্যের দাম বাড়ে এবং মূল্যস্ফীতির চাপ তৈরি হতে পারে।
ডলারের পতনে অন্যান্য বৈশ্বিক মুদ্রাও বহু বছরের সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছেছে। সুইস ফ্রাঁ ডলারের বিপরীতে এক দশকের বেশি সময়ের মধ্যে সর্বোচ্চ পর্যায়ে উঠে এসেছে। চলতি বছরে এখন পর্যন্ত ফ্রাঁ ৩ শতাংশ শক্তিশালী হয়েছে। আগের বছর যেখানে বৃদ্ধি ছিল ১৪ শতাংশ।
অন্যদিকে রাজনৈতিক অনিশ্চয়তার আশঙ্কায় নিরাপদ সম্পদ হিসেবে স্বর্ণের দাম রেকর্ড উচ্চতায় উঠেছে। স্বর্ণের দাম বেড়ে আউন্স প্রতি ৫ হাজার ২০০ ডলার ছাড়িয়েছে। সোমবার প্রথমবারের মতো ৫ হাজার ডলার ছোঁয়ার পর এই ঊর্ধ্বগতি আরও ত্বরান্বিত হয়েছে। ট্রাম্পের দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতা গ্রহণের পর গত এক বছরে স্বর্ণের দাম প্রায় ৯০ শতাংশ বেড়েছে।
বিশ্লেষকদের একাংশ মনে করছেন, ফেডারেল রিজার্ভের ওপর প্রেসিডেন্টের চাপ, যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও বাড়তে থাকা ঋণের বোঝার কারণে ডলারের দুর্বলতা আরও বাড়তে পারে।