Image description

নির্বাচন দিয়ে দেশের মূল সংকটের সমাধান হবে না বলে মন্তব্য করেছেন কবি ও ভাবুক ফরহাদ মজহার। তিনি বলেন, ‘সংসদে সার্বভৌমত্ব একটি বোগাস ধারণা। জনগণকে লুট করার জন্যই সংসদে আইন প্রণয়ন করা হয়েছে। দুর্নীতিকে বৈধতা দিতে সংসদ ব্যবহার করা হয়েছে।’

বুধবার (২৮ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় চট্টগ্রাম প্রেস ক্লাবের ভিআইপি লাউঞ্জে গণঅভ্যুত্থান সুরক্ষা মঞ্চ আয়োজিত গ্যাস, বিদ্যুৎ ও বিশুদ্ধ পানি সংকট বিষয়ক আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি। অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই গণঅভ্যুত্থানে নিহতদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘সংসদে এমন সব আইন হয়েছে, যেগুলো সরাসরি দুর্নীতি করার জন্য। এটা কীভাবে আইন হয়? এই প্রথম বাংলাদেশে দেখলাম—আইন প্রণয়ন করেই লুট করা হচ্ছে। এটা প্রথাগত লুট নয়, এটা নীতিধারাভিত্তিক লুট। তিনি প্রশ্ন তোলেন, যখন সংসদই লুটের হাতিয়ার হয়ে ওঠে, তখন আবার কেন নির্বাচন করে সেই সংসদে যেতে হবে।’

বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন সরকারপ্রধান ড. মো. ইউনুসকে উদ্দেশ করে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘আপনি যখন ক্ষমতায় এলেন, তখন তো এই দুর্নীতির আইনগুলো দেখেছেন। আপনি যদি বলেন আগের চুক্তিগুলো বৈধ, তাহলে আপনিও তো সেই দুর্নীতির অংশ। তাহলে আদানির দালাল কে?’ তিনি বলেন, ‘বাংলাদেশে বড় বড় দুর্নীতির সঙ্গে যারা জড়িত, আমলাতন্ত্রকে তাদের জায়গায় রেখেই সেনাবাহিনীকে ‘লেফট–রাইট’ করা হয়েছে।’

সেনাবাহিনী প্রসঙ্গে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘সেনাবাহিনী অপরাধ করেছে, এ বিষয়ে কোনো সন্দেহ নেই। তাদের বিচার হতে হবে। সেনা আইনে বিচার করা যেত, কিন্তু কেন করা হয়নি?’

তিনি প্রশ্ন তোলেন জুলাই গণঅভ্যুত্থানে গুলি চালানো, গুম-খুন এবং ‘আয়না ঘর’-এর মতো ঘটনার বিচার না করে কেন দ্রুত নির্বাচন দিতে চাওয়া হচ্ছে। ‘কারা রক্ষা পাবে এই নির্বাচনের মাধ্যমে—আদানিকে, দুর্নীতিবাজ আমলাদের?’

ভারতীয় শিল্পগোষ্ঠী আদানি গ্রুপের প্রসঙ্গ টেনে ফরহাদ মজহার বলেন, ‘অনেক দল ভারতীয় আধিপত্যবিরোধী কথা বলে, কিন্তু আদানির নাম নেয় না। ইশতিহার থেকে আদানি উধাও হয়ে যায় কেন?’

তিনি অভিযোগ করেন, ‘আদানির সঙ্গে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি চুক্তির মাধ্যমে প্রতিবছর বিলিয়ন ডলার পরিশোধ করা হচ্ছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে কয়লা এনে ভারতের আদানির মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপাদন করে বাংলাদেশে আনা হচ্ছে। বিদ্যুতের দাম দেওয়া হচ্ছে ইউনিট প্রতি ১৪ টাকা।’ তিনি মিরসরাই ইপিজেড, ফেনী নদীর ওপর সেতু নির্মাণ এবং কৌশলগত নিরাপত্তা ঝুঁকি নিয়েও উদ্বেগ প্রকাশ করেন।

ফরহাদ মজহার বলেন, ‘বর্তমান সরকার জুলাই যোদ্ধাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে প্রতিষ্ঠিত হলেও তাদের যথাযথ সম্মান ও সুরক্ষা দিতে পারেনি। গণঅভ্যুত্থান শেষ হয়নি, আমরা মাঠও ছাড়িনি।