Image description

দেশের বর্তমান সামাজিক ও প্রশাসনিক বাস্তবতায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা মুহাম্মদ ফাওজুল কবির খান। তিনি বলেন, আমরা উটপাখির মতো বালিতে মাথা গুঁজে আছি। মনে করছি কিছুই হবে না, কিন্তু অন্ধ হলে প্রলয় বন্ধ থাকে না।

তিনি আরও বলেন, সুতরাং আমাদের সামনে দুটি পথ— হয় আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্য কাজ করতে হবে, না হলে প্রলয়ের জন্য অপেক্ষা করতে হবে। আমি আশা করি, আমরা আমাদের ভাগ্য পরিবর্তনের জন্যই কাজ করব।

মঙ্গলবার (২৭ জানুয়ারি) তেজগাঁওয়ের বিআরটিসি প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে বিআরটিএ আয়োজিত পেশাজীবী পরিবহন গাড়িচালক/শ্রমিকদের দক্ষতা ও শব্দদূষণ বিষয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিমূলক প্রশিক্ষণ কার্যক্রমের উদ্বোধন অনুষ্ঠানে এসব কথা বলেন ফাওজুল কবির খান।

উপদেষ্টা বলেন, উন্নয়নের নামে দেশ কার্যত পেছনের দিকে যাত্রা করছে। পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ, নগরীর বসবাসযোগ্যতা— সব সূচকেই বাংলাদেশ খারাপ অবস্থানে রয়েছে। সব খারাপ ইন্ডিকেটরে আমরা শেষের দিক থেকে প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছি।

সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিন মানুষের মৃত্যুকে নিজের সবচেয়ে বড় গ্লানির জায়গা বলে উল্লেখ করেন তিনি। ফাওজুল কবির খান বলেন, আমার সবচেয়ে বড় গ্লানির জায়গা হচ্ছে— যখনই দেখি সড়কে একজন মানুষ মারা গেছে। সড়ক দুর্ঘটনায় প্রতিদিনই মানুষ মারা পড়ছে আর এটা বছর বছর বাড়ছেই। আমরা কিছুই করতে পারছি না। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই আমি চেষ্টা করে যাচ্ছি এটা কি কোনোভাবে কমানো যায়, কিছু করা যায় কি না। এটিই আমার সবচেয়ে বড় পরিকল্পনা।

 

আমলাতন্ত্রকে দেশের অগ্রগতির বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত করে উপদেষ্টা বলেন, আমি যত কিছুই করার চেষ্টা করেছি, সবকিছুই সামনে আসছে। এই যে সড়ক সংক্রান্ত নীতিমালাগুলো (স্ক্যাপ নীতিমালা) –এই নীতিমালার জন্য কতদিন ধরে আমি নিজে বসে ব্ল্যাকবোর্ডে দাঁড়িয়ে উপস্থিত সবাইকে বুঝিয়ে বলেছি, এটা করতে হবে, ওটা করতে হবে। কিন্তু এখনো হচ্ছে না। কারণ তারা পরিবর্তন চান না। তারা চান তাদের সুযোগ-সুবিধা, পে-স্কেল বাড়াতে, দুর্নীতির সুযোগ বাড়াতে। কিন্তু সাধারণ মানুষ মরলেও সেটা নিয়ে তাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।

তিনি বলেন, চালকদের শাস্তির জন্য বড় বড় আইন আছে। কিন্তু চালককে যদি শেখানো না হয়, তাহলে শুধু শাস্তি দিয়ে শাস্তি দেওয়ার অধিকার আপনি কোথায় পাবেন? আগে তো বলতে হবে— এইভাবে গাড়ি চালাতে হয়, এটা অপরাধ, এটা করা যাবে, ওটা করা যাবে না।

ফাওজুল কবির খান বলেন, দায়িত্ব নিয়ে এখানে এসে আমি যা দেখলাম, তা হলো— ড্রাইভিং লাইসেন্স দেওয়ার জন্য আমাদের দেশে একটি কমিটি আছে। পৃথিবীর কোথাও এ ধরনের নিয়ম নেই, কিন্তু আমাদের দেশে আছে। যাই হোক, আমরা সেই নিয়ম পরিবর্তন করে নতুন বিধি চালু করতে যাচ্ছি। সেখানে মূল জোর দেওয়া হবে প্রশিক্ষণের ওপর। জোর দেওয়া হবে ড্রাইভারের গাড়ি চালানোর দক্ষতার ওপর। জোর দেওয়া হবে ড্রাইভারের শারীরিক সক্ষমতার ওপর— তিনি ঠিকভাবে দেখতে পান কি না, এসব বিষয়সহ অন্যান্য সব প্রয়োজনীয় দিকের ওপর।

রাস্তায় হর্ন দেওয়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাইরের দেশ মানুষ এখন এমন পর্যায়ে গেছে যে, হর্ন দেওয়াকেও অপমান মনে করে। আপনি পেছন থেকে একজন ড্রাইভার আরেকজন ড্রাইভারকে হর্ন দিলে সেটাকে সে অপমান হিসেবে নেয়। পৃথিবী একদিকে এগোচ্ছে, আর আমরা যাচ্ছি আরেক দিকে। উন্নয়নের নামে আমরা সবাই পেছনের দিকে যাত্রা করছি। আপনি যেটা বললেন– সব খারাপ সূচকেই আমরা খারাপ অবস্থানে। পরিবেশ দূষণ, বায়ু দূষণ, নগরীর বসবাসযোগ্যতা– সবকিছুতেই আমরা শেষের দিক থেকে প্রথম হওয়ার প্রতিযোগিতায় নেমেছি।

অনুষ্ঠানে আরও উপস্থিত ছিলেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, সড়ক পরিবহন ও সেতু মন্ত্রণালয়ের নিয়োজিত প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী শেখ মইনউদ্দিন, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, বিআরটিএ চেয়ারম্যান আবু মমতাজ সাদ উদ্দিন আহমেদ, বিআরটিসি চেয়ারম্যান আব্দুল লতিফ মোল্লা, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন শ্রমিক ফেডারেশনের সভাপতি আব্দুর রহিম বক্স দুদু, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির মহাসচিব মো. সাইফুল আলম প্রমুখ।