রাজধানীতে বর্তমানে সক্রিয় রয়েছে প্রায় সাড়ে চারশো ভাড়াটে খুনি; যাদের মাধ্যমে ঘটানো হচ্ছে একের পর এক টার্গেট কিলিং। মূলত বিদেশে অবস্থান করা ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসী হত্যার সুপারি দিয়ে এসব শুটার ভাড়া করছে। সবচেয়ে বেশি ভাড়াটে খুনি রয়েছে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মতিঝিল বিভাগে; দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ওয়ারী বিভাগে।
রাজধানীতে ঘটছে একের পর এক টার্গেট কিলিং; আর এসব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহার করা হচ্ছে ভাড়াটে খুনিদের। একের পর এক এমন হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় ভাড়াটে খুনি আতঙ্কে সারাদেশ। এসব হত্যাকাণ্ডে ব্যবহৃত শুটারদের শনাক্ত করতে গিয়ে সময় সংবাদের হাতে আসে ডিএমপির একটি তালিকা, যেখানে কোন এলাকায় কারা ভাড়াটে খুনি হিসেবে কাজ করে, তার বিস্তারিত উল্লেখ রয়েছে।
ডিএমপির ওই তালিকা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, ঢাকা মহানগরীর আটটি অপরাধ বিভাগের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভাড়াটে খুনি মতিঝিলে; যার সংখ্যা শতাধিক। এরপর ওয়ারী বিভাগে ৭৩ জন। তেজগাঁও ও মিরপুর বিভাগে রয়েছে যথাক্রমে ৬১ ও ৬০ জন করে। বাকিরা অন্য বিভাগে। থানার হিসাবে সবচেয়ে বেশি ভাড়াটে খুনি রয়েছে মতিঝিল থানায়; ১০৬ জন। এরপর পল্লবী থানায় ৪২ জন এবং অপরাধপ্রবণ এলাকা হিসেবে পরিচিত মোহাম্মদপুরে রয়েছে ৩৯ জন শুটার।
শুটারদের অপরাধের ইতিহাস পর্যালোচনায় দেখা যায়, সবচেয়ে বেশি মামলা রয়েছে ভাষানটেক এলাকার সন্ত্রাসী রুপচানের বিরুদ্ধে; ৪৩টি। একই এলাকার সন্ত্রাসী বাবুলের বিরুদ্ধে রয়েছে ৩৪টি মামলা। এছাড়া শীর্ষ সন্ত্রাসী শাহাদাত ও কিলার আব্বাসের নামে রয়েছে ৩০টি করে মামলা। তালিকাভুক্ত অর্ধশতাধিক অপরাধীর বিরুদ্ধে মামলা সংখ্যা ১০টির বেশি।
গোয়েন্দা তথ্য অনুযায়ী, এসব ভাড়াটে খুনির বেশিরভাগের সঙ্গেই রাজধানীর ১৩ জন শীর্ষ সন্ত্রাসীর যোগসাজশ রয়েছে। বিদেশে বসে তারাই বিভিন্ন অপরাধের নির্দেশ দিচ্ছে। ডিএমপি বলছে, তালিকাভুক্তদের বড় একটি অংশ আত্মগোপনে থাকায় তাদের গ্রেফতার করতে সময় লাগছে।
ডিএমপির মুখপাত্র মুহাম্মদ তালেবুর রহমান বলেন, প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা হিসেবে চিহ্নিত ও অভ্যাসগত অপরাধীরা যেন এলাকায় কোনো ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড চালাতে না পারে, সে বিষয়ে পুলিশ তৎপর রয়েছে। সব ঘটনাই পরিকল্পিত নয়, তবে যেগুলো পরিকল্পিত এবং সেসবের পেছনে যারা জড়িত রয়েছে, তাদের আইনের আওতায় আনা হচ্ছে।
তবে অপরাধ ও নিরাপত্তা বিশ্লেষকেরা বলছেন, নির্বাচনের আগে ভাড়াটে খুনিদের সক্রিয়তা নিরাপত্তার জন্য হুমকি। তাই আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে অপরাধীদের আইনের আওতায় আনতে হবেঅ
সমাজ ও অপরাধ বিশ্লেষক ড. তৌহিদুল হক বলেন, এ ধরনের ঘটনা আবার ঘটলে বা ঘটার মতো পরিস্থিতি তৈরি হলে জনগণ, ভোটার, কর্মী ও প্রার্থী-সবার মধ্যেই উদ্বেগ ও ভয় কাজ করবে। এতে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি পুরোপুরি স্বাভাবিক করার পথে ঝুঁকি ও চ্যালেঞ্জ তৈরি হবে। এসব চ্যালেঞ্জ দ্রুত দায়িত্বশীলতা ও সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে মোকাবিলা করার প্রয়োজন রয়েছে।
নিরাপত্তা বিশ্লেষক এয়ার কমোডর (অব.) ইশফাক ইলাহী চৌধুরী বলেন, নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করতে এবং নির্বাচন ব্যবস্থাকে দুর্বল করতে দেশি ও বিদেশি নানা শক্তি সক্রিয় হতে পারে। হাতে যে সময় রয়েছে, সে সময়ের মধ্যে সংশ্লিষ্ট বাহিনী ও কর্মকর্তাদের পর্যাপ্ত প্রশিক্ষণ ও ব্রিফিং দেয়া জরুরি।
এদিকে, ভাড়াটে খুনিদের তৎপরতা রোধে গোয়েন্দা নজরদারি বাড়িয়েছে ডিএমপি।