Image description

টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নারী সহকর্মীদের ওয়াশরুম ও অপারেশন থিয়েটারের (ওটি) ড্রেস চেঞ্জিং রুমে গোপন ক্যামেরা রেখে ছবি ও ভিডিও ধারণের অভিযোগ উঠেছে এক ইন্টার্ন চিকিৎসকের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় সদর মডেল থানায় একটি মামলা দায়ের করে তাকে পুলিশের হাতে সোপর্দ করেছে হাসপাতাল প্রশাসন। সোমবার (২৬ জানুয়ারি) হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। আটক ইন্টার্ন চিকিৎসকের নাম ডা. রায়হান কবির ইমন।

ইন্টার্ন চিকিৎসকদের অভিযোগ, ইন্টার্ন চিকিৎসক ডা. রায়হান কবির ইমন অনেকদিন ধরে হাসপাতালের চিকিৎসকদের ওয়াশরুম থেকে নিয়ে অপারেশন থিয়েটারের চেঞ্জিং রুমসহ বিভিন্ন স্থানে গোপন ক্যামেরা সেট করে রাখত। আজ পরিচালকের কক্ষে তাকে আটক করা হলে সে ৮ থেকে ১০ জনের ভিডিও থাকার কথা স্বীকার করে। তবে তার এই দাবি মিথ্যা। শুধু ব্যাচমেট কিংবা সিনিয়র-জুনিয়রই নয়, সিনিয়র শিক্ষকরাও রেহাই পাননি তার এই কাণ্ড থেকে।

নারী ইন্টার্ন চিকিৎসকরা বলছেন, আমরা সবাই ভয়ে আছি, কারণ ওয়াশরুমগুলো আমরাও ব্যবহার করেছি। আমাদেরও ভিডিও থাকতে পারে তার কাছে। এজন্যে আমরা প্রত্যেকটা মেয়ে আতঙ্কে আছি।

তারা জানান, গত ২৩ জানুয়ারি প্রথমবার তার এক ব্যাচমেট বিষয়টি ধরে ফেললে সে ক্যামেরা ভেঙে ফেলে। পরে গত দুই দিন ধরে বিষয়টি অস্বীকার করে আসছিল। তা ছাড়া তার বিরুদ্ধে কোনো প্রমান পাওয়া যাচ্ছিল না। পরে আজ সোমবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের কাছে সে বিষয়টি স্বীকার করে। তাদের অভিযোগ, কর্তৃপক্ষ বিষয়টিকে খুব হালকাভাবে দেখছে। ‘বিকৃত মস্তিষ্কের’ এই চিকিৎসকের উপযুক্ত শাস্তি চান তার সহকর্মীরা।

জানতে চাইলে টাঙ্গাইল মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিচালক ডা. মো. নজরুল ইসলাম দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, এক ইন্টার্ন চিকিৎসক কিছু গোপন ছবি তুলেছে। আমরা বিষয়টি জানতে পেরে তদন্ত করেছি। তাকে দোষী পাওয়া গেছে। আমরা একটা মামলা রুজু করেছি। ছেলেটাকেও আইনের হাতে সোপর্দ করা হয়েছে।

এ বিষয়ে টাঙ্গাইল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রুহুল আমিনের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।