সিরাজুল ইসলাম শাহীন।
প্রায় দেড়কোটি প্রবাসীর প্রাণের দাবি '' প্রবাসীদের ভোটাধিকার '' প্রথমবারের মত এবার আংশিক হলেও বাস্তবায়িত হচ্ছে। '' POSTAL VOTE BD '' আপস এ রেজিস্ট্রিকৃত ভোটারগন ব্যালট রিসিভ করে মূল্যবান ভোট প্রদান করছেন। '' NID '' বাধ্যতামূলক করায় এ সংক্রান্ত জটিলতায় প্রবাসীদের বড় অংশ গুরুত্বপূর্ণ নাগরিক অধিকার থেকে বঞ্চিত থেকে গেলেন। এছাড়াও ডিজিটাল জটিল প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত না হওয়ায় অনেকেই ভোগান্তির শিকার হয়েছেন। এর সাথে যোগ হয়েছে এই নিয়ে অনাকাঙ্খিত অপরাজনীতি। উদ্বেগ ও ক্ষোভ ধুমায়িত হচ্ছে প্রবাসী বাংলাদেশী মহলে।
''পোস্টাল ব্যালট ডাকাতি '' -র হাস্যকর কথা বলা হচ্ছে। কারচুপির কাল্পনিক অভিযোগে ব্যালট বাতিলের দাবি করা হয়েছে বলে জানা যাচ্ছে। যদিও নির্বাচন কমিশন সচিব এসব আপত্তি ভিত্তিহীন বলে উল্লেখ করে বলেছেন '' POSTAL VOTE BD '' আপস এর প্রক্রিয়ায় কারচুপি অসম্ভব। কারন এতে একজনের ভোট অন্যজন দেয়ার কোন সুযোগ নেই।
প্রবাসে একই ঠিকানায় অনেকের ব্যালট যাওয়া যেখানে খুবই স্বাভাবিক। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্যের বহু জায়গায় বাস্তব কারনে একই পোস্ট বক্স ব্যাবহার করতে হয়েছে। প্রদত্ব ঠিকানায় এক সাথে সব ব্যালট পেয়ে আনন্দে প্রচার করা ভিডিও থেকে ডাকাতির আবিষ্কার করা হয়েছে। কল্পনার জালে বুনা হচ্ছে কারচুপি তথা চুরির গালগল্প। লাখ লাখ প্রবাসী ভোট দাতার বাস্তব অভিজ্ঞতা যেখানে এই প্রক্রিয়ার স্বচ্ছতার সার্টিফিকেট হয়ে থাকছে। সেখানে অহেতুক গোটা প্রবাসী ভোটাধিকার বিতর্কিত করার এই অপপ্রয়াস অপরাজনীতি ছাড়া আর কিছুই নয়।
বিগত প্রায় অর্ধশত বৎসর থেকে ভোটাধিকারের দাবিতে প্রবাসীদের চলমান আন্দোলনের ধারাবাহিকতার অর্জন এইবারের '' POSTAL VOTE BD '' আপস। শুধুমাত্র দলীয় হীন রাজনৈতিক স্বার্থে এইটুকু অর্জন বিতর্কিত করার চেষ্টা কাম্য হতে পারে না। না জেনে বুঝে এর সাথে জড়িয়ে যাওয়াতা, দল ও নেতৃত্বের জন্য দেউলিয়াত্বের চরম বহিঃপ্রকাশ।
পৃথিবীর ১৯৩ টি রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪১ রাষ্ট্রে বর্তমানে প্রবাসীদের ভোটাধিকার রয়েছে। ভাবতে অবাক লাগে বাংলদেশের অর্থনীতির প্রাণ প্রবাহ ''রেমিটেন্স '' এর মালিকানা যে প্রবাসীদের, তাদের এই মৌলিক নাগরিক অধিকার পেতে এতদিন অপেক্ষা করতে হল। অপরদিকে পারিবার, আত্বীয়তা ও বন্ধুত্বের বন্ধনে দেড় কোটি প্রবাসীর সাথে সম্পর্কযুক্ত হয়ে আছেন দেশের অধিকাংশ মানুষ। এ ছাড়া বহুমুখী যোগ্য বিশেষজ্ঞ তৈরিতে প্রবাসীদের অবদান অত্যন্ত তাৎপর্যমন্ডিত। দেশপ্রেমের ন্যূনতম অনুভূতি থাকলে প্রবাসীদের হেয় করার বা বঞ্চিত রাখার কোন চিন্তাও আসার কথা নয়।
৫ অগাস্টের পর থেকে প্রবাসীদের ভোটাধিকার নিয়ে সরব রাজনৈতিক দল ও নেতৃত্বকে প্রবাসীদের সাথে দেশবাসী কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করবে। যারা নীরব বা প্রকারান্তে অসহযোগিতা করেছেন তারা আসলে ইতিহাসের এই গৌরবের অংশ হওয়া থেকে নিজেদের বঞ্চিত করেছেন। তবে ভুল ভেঙে সহযোগিতার হাত প্রসারিত করে এগিয়ে আসলে কৃতিত্ব অর্জনের দ্বার এখনো উম্মুক্ত আছে। কিন্তু এই অর্জন বিনষ্টে তথা সামনের দিনগুলোতে দাবির পূর্ন বাস্তবায়নে বাধা হয়ে দাঁড়ালে জাতির কাঠগড়ায় আসামী হয়ে দাঁড়াতে হবে। আর প্রবাসীরা কিন্তু কাউকে ছেড়ে কথা বলবেন না, এটি নিঃসন্দেহে বলা যায়।