Image description

বহুল আকাঙ্ক্ষিত আসন্ন সংসদ নির্বাচন ও গণভোট ঘনিয়ে আসছে। একই দিনে অনুষ্ঠেয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট নিয়ে নানা ধরনের জল্পনা-কল্পনা চলছে। চায়ের দোকান থেকে শুরু করে বাজারঘাট, অফিসপাড়া সব জায়গাতেই দেখা যাচ্ছে ভোটের হিসাব-নিকাষ।

আলোচনা থেমে নেই প্রশাসনের কেন্দ্রবিন্দু সচিবালয়েও। কর্মকর্তা-কর্মচারীরা নিত্যদিনের কাজের ফাঁকে সহকর্মীদের সঙ্গে ভোট নিয়ে নানা আলোচনা করছেন। তাদের সাক্ষাতে আসা ঘনিষ্ঠদের সঙ্গেও কেউ কেউ নির্বাচন নিয়ে কথা বলছেন। তাদের আলোচনায় সংসদ নির্বাচনের তুলনায় গণভোট প্রাধান্য পাচ্ছে।

সম্প্রতি সচিবালয়ে বেশ কয়েকজন কর্মকর্তা-কর্মচারীর সঙ্গে ভোটের ভাবনা ও গণভোটের প্রস্তুতি নিয়ে কথা হয় আমার দেশ’র সঙ্গে। এদের কেউ কেউ কথা বলেছেন নাম প্রকাশ না করার শর্তে। কেউ বলেছেন গল্পের ছলে। আবার কেউ আনুষ্ঠানিক মন্তব্যও করেছেন।

শিক্ষা সচিবের একান্ত সচিব মো. রকিবুল হাসান জানান, তার প্রত্যাশা অনুযায়ী নির্বাচন এখনো জমে ওঠেনি। ১৯৯১ সালের নির্বাচনের প্রসঙ্গ স্মরণ করে বলেন, ওই সময়ে ভোটের আগে অনেক উৎসব আমেজ দেখা গিয়েছিল। এবার এখনো তেমনটা দেখা যাচ্ছে না। তবে আশা করছেন, সামনের দিনগুলোতে আরো জমজমাট হবে পরিবেশ।

গণভোট বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, এক প্রার্থীর একটা ব্যানারে দেখলাম নারীর ক্ষমতায়নে ‘হ্যাঁ’ ভোট দিন। তিনি বলেন, বিগত সময় তো আমাদের নারী প্রধানমন্ত্রী ছিলেন। তবে নারীর ক্ষমতায়ন ওইভাবে কি আমরা করতে পেরেছি? আমাদের সমাজে নারীরা পিতার কাছ থেকে ল্যান্ড প্রপার্টি পাওয়ার কথা। এটার সঠিক বন্টন শুরু করতে হবে। মূলে সমস্যা রেখে কখনো নারীর ক্ষমতায়ন আশা করা যায় না।

শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা আনছার আলী বলেন, আমরা প্রত্যেকটা দপ্তরে গণভোটের প্রচারের জন্য চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি। স্কুল-কলেজ ও ভার্সিটিতে গণভোটের প্রচার চালানোর কথা বলা হয়েছে।

তিনি বলেন, দীর্ঘ ১৫ বছর পর ভোট দেব। আমি আশা করি সবাই সুষ্ঠুভাবে ভোটটা যেন দিতে পারি। বিগত নির্বাচনের স্মৃতি উল্লেখ করে তিনি বলেন, ২০২৪ সালের সংসদ নির্বাচনে ঢাকার বাড্ডা এলাকায় আমি সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করেছিলাম। সেখানে সর্বোচ্চ ৬ থেকে ৭ শতাংশ ভোট কাস্ট হয়। পরে জানতে পারি, সেখানে ভোট পড়েছে ৪১ দশমিক ৮ শতাংশ।

ভূমি উপদেষ্টার তথ্য ও জনসংযোগ কর্মকর্তা মোহাম্মদ গিয়াস উদ্দিন বলেন, অনেক বছর পর এবার আমরা ভোট দিতে যাচ্ছি। প্রায় সবার মাঝে ভোট নিয়ে আলাদা আনন্দ, উৎসাহ ও উদ্দীপনা কাজ করছে। তিনি বলেন, এবার নতুন সংযোজন হচ্ছে হ্যাঁ–না ভোট। দেশের ভালো যেটাতে হবে সেটা আমরা ব্যালটের মাধ্যমে প্রতিফলন ঘটাব।

২০১৮ সালের সংসদ নির্বাচনের বিষয়ে এ কর্মকর্তা বলেন, সে সময়ে আমি ঢাকার কেরানীগঞ্জে একটা কেন্দ্রে প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্ব পালন করি। ভোটের আগের দিন সন্ধ্যায় চার জনের এক দল কেন্দ্রে প্রবেশ করে, অস্ত্রের ভয় দেখিয়ে আমাদের কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয়। পরে রাত ৮ থেকে ১০টার মধ্যে নৌকায় সিল মেরে আমাদের স্বাক্ষর নিয়ে কেন্দ্রের বক্সে রেখে যায়।

এছাড়াও কথা হয় স্থানীয় সরকার মন্ত্রণালয়ের প্রশাসনিক কর্মকর্তা হোসাইন আহমেদের সঙ্গে। তিনি বলেন, আমরা সব বিভাগে গণভোটের প্রচারের চিঠি পাঠিয়ে দিয়েছি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ে গণভোট প্রচার নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মধ্যে ইন্টারনাল মিটিং হয়েছে। আমরা যে যার অবস্থান থেকে গণভোটের প্রচার চালিয়ে যাচ্ছি।

সমাজকল্যাণ মন্ত্রণালয়ের ব্যক্তিগত কর্মকর্তা (প্রশাসন অনুবিভাগ) মোহাম্মদ শাহাদৎ হোসেন বলেন, দীর্ঘদিন ধরে দেশের মানুষ ভোট দিতে পারেনি। এবার নির্বাচনে মানুষ তাদের মতামত ব্যালট পেপারে জানাতে পারবেন।

বিগত ২০১৮ সালের রাতের ভোটের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ওই সময় আমি রাজধানীর লালবাগের এক কেন্দ্রে সহকারী প্রিসাইডিং অফিসারের দায়িত্বে ছিলাম। সেখানে রাত ১০টায় হাজী সেলিমের তিনজন লোক এসে আমার কাছ থেকে ব্যালট পেপার নিয়ে নেয়। তারা প্রায় ভোর ৪টা পর্যন্ত সিল মেরে কেন্দ্র থেকে বের হয়ে যায়।

গণভোটের বিষয়ে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, গণভোট যদি সরকার চাপিয়ে দেয় তাহলে তো এটা আর ভোট হলো না। আমার ভোট আমি দেব, জেনে বুঝে দেব।

সচিবালয়ের এক লিফটম্যান বলেন, গণভোটে হ্যাঁ-না বিষয়ে তিনি কিছু জানেন না। তিনি বলেন, সচিবালয়ে কেউ আমাদের এখনো বলেননি। আমরা এটা (গণভোট) নিয়ে কিছু জানি না। তবে বিল্ডিংগুলোতে বড় বড় ব্যানার দেখেছি।

আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি সংসদ নির্বাচনের দিন জুলাই জাতীয় সনদে লিপিবদ্ধ সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত প্রস্তাবগুলোর ওপর গণভোট অনুষ্ঠিত হবে। এই গণভোটে ভোটারদের মধ্যে ব্যাপক জনসচেতনতা তৈরির লক্ষ্যে নির্বাচনের আগ পর্যন্ত দেশের সব সরকারি দপ্তরে পরিবর্তনের পক্ষে ‘হ্যাঁ’ ভোটের বার্তা সংবলিত ব্যানার প্রদর্শনের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।