জামালপুরের সরিষাবাড়ীতে দশম শ্রেণির এক ছাত্রীকে গোপনে বিয়ে করার অভিযোগ উঠেছে একই বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষকের বিরুদ্ধে। উপজেলার পোগলদিঘা ইউনিয়নের যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে এ ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় অভিযুক্ত শিক্ষককে অপসারণ ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে ফুঁসে উঠেছেন শিক্ষার্থী ও এলাকাবাসী।
অভিযুক্ত শিক্ষকের নাম মুশফিকুর রহমান লিটন। তিনি সিরাজগঞ্জ জেলার কাজিপুর উপজেলার গুজাবাড়ি গ্রামের তোতা মিয়ার ছেলে এবং এনটিআরসিএ-র মাধ্যমে নিয়োগপ্রাপ্ত যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের আইসিটি শিক্ষক।
বিদ্যালয় ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, ২০২৩ সালে যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ে যোগদানের পর থেকেই লিটনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন সময় ছাত্রীদের উত্ত্যক্ত করার অভিযোগ ওঠে। বিবাহিত ও এক সন্তানের জনক হওয়া সত্ত্বেও সম্প্রতি তিনি একই বিদ্যালয়ের দশম শ্রেণির এক শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কে জড়িয়ে পড়েন এবং লোকচক্ষুর অন্তরালে তাকে গোপনে বিয়ে করেন।
ঘটনাটি জানাজানি হলে এলাকাবাসী ও প্রাক্তন শিক্ষার্থীরা গত ২০ জানুয়ারি বিদ্যালয়ে এসে বিক্ষোভ শুরু করেন। পরিস্থিতি উত্তপ্ত দেখে স্কুল কর্তৃপক্ষ কৌশলে ওই শিক্ষককে বাড়িতে পাঠিয়ে দেয়। এরপর থেকেই তিনি বিদ্যালয়ে অনুপস্থিত রয়েছেন।
দশম শ্রেণির শিক্ষার্থী ইমন হাসান ও সুমন মিয়াসহ অনেকে ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, “আমরা তাঁর সন্তানের মতো। স্ত্রী-সন্তান থাকা সত্ত্বেও তিনি একজন অপ্রাপ্তবয়স্ক শিক্ষার্থীকে বিয়ে করেছেন। আমরা এই শিক্ষকের বিচার চাই এবং তাঁকে আর বিদ্যালয়ে দেখতে চাই না।” বিদ্যালয়ের প্রাক্তন শিক্ষার্থী মুরাদ হাসান ও জীবন মাহমুদও এই ঘটনার তীব্র নিন্দা জানিয়ে দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
ভুক্তভোগী ছাত্রীর নানা আব্দুর রশিদ বলেন, “পরিবারকে না জানিয়ে গোপনে এই বিয়ে করা সামাজিক ও নৈতিকভাবে জঘন্য কাজ। বিয়ের পর মেয়েটিকে সরিষাবাড়ী এলাকায় তাঁর মামা হাফিজুর রহমানের বাসায় রাখা হয়েছে।”
অভিযুক্ত শিক্ষকের প্রথম স্ত্রী কানিজ ফাতেমা অভিযোগ করেন, “ওই শিক্ষার্থীর সঙ্গে অনৈতিক সম্পর্কের প্রতিবাদ করায় আমাকে শারীরিক নির্যাতন করে বাড়ি থেকে বের করে দেওয়া হয়েছে এবং তালাক দেওয়া হয়েছে। আমি আদালতে মামলা করেছি। মামলা চলমান থাকা অবস্থাতেই তিনি অপ্রাপ্তবয়স্ক ওই ছাত্রীকে গোপনে বিয়ে করেছেন।”
তবে অভিযুক্ত শিক্ষক মুশফিকুর রহমান লিটন তাঁর বিরুদ্ধে আনা সব অভিযোগ অস্বীকার করে একে ‘ষড়যন্ত্র’ বলে দাবি করেছেন। তিনি জানান, এলাকাবাসীর চাপের মুখে বর্তমানে তিনি ছুটিতে বাড়িতে অবস্থান করছেন।
যমুনা উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আবুল কালাম আজাদ বলেন, “আমরা আগে বিষয়টি জানতাম না। এলাকাবাসীর অভিযোগের পর তাঁকে আপাতত তিন দিনের ছুটি দেওয়া হয়েছে। বিষয়টি তদন্ত করে উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) ও শিক্ষা অফিসারকে জানানো হবে। অভিযোগ প্রমাণিত হলে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।”
এ বিষয়ে সরিষাবাড়ী উপজেলা নির্বাহী অফিসার তাসনিমুজ্জামান জানান, বিষয়টি তাঁর জানা ছিল না। তবে খোঁজখবর নিয়ে অভিযোগের সত্যতা পাওয়া গেলে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।