ঢাকা-১৭ আসনের সংসদ সদস্য প্রার্থী ডা. এসএম খালিদুজ্জামানের অনুমোদনহীন বিদেশি ডিগ্রি ব্যবহার নিয়ে বাংলাদেশ মেডিকেল অ্যান্ড ডেন্টাল কাউন্সিলের (বিএমডিসি) শোকজ করার ঘটনায় উদ্বেগ ও প্রতিবাদ জানিয়েছে জামায়াতপন্থী চিকিৎসকদের সংগঠন ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম (এনডিএফ)। ডা. খালিদুজ্জামান এই সংগঠনের ঢাকা মহানগর উত্তর শাখার সভাপতি। সংগঠনটি বলছে, সময়, প্রেক্ষাপট ও উপস্থাপনার দিক থেকে শোকজটি অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ।
আজ মঙ্গলবার (২০ জানুয়ারি) এনডিএফ সভাপতি অধ্যাপক ডা. মো. নজরুল ইসলাম ও জেনারেল সেক্রেটারি অধ্যাপক ডা. মাহমুদ হোসেন বকাউল স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এসব কথা বলা হয়। বিবৃতিতে চিকিৎসক নেতারা বলেন, এই উদ্যোগটি সময়, প্রেক্ষাপট ও উপস্থাপনার দিক থেকে অত্যন্ত প্রশ্নবিদ্ধ এবং এর মাধ্যমে চিকিৎসক সমাজকে অযাচিতভাবে হেয় করার অপচেষ্টা লক্ষ্য করা যাচ্ছে।
তারা বলেন, বিদেশে উচ্চতর শিক্ষা ও বিশেষায়িত প্রশিক্ষণ গ্রহণ করা কোনো অপরাধ নয়; বরং এটি চিকিৎসা বিজ্ঞানের স্বাভাবিক ও বৈশ্বিক একটি ধারা। উন্নত বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে অর্জিত জ্ঞান, দক্ষতা ও অভিজ্ঞতা দেশের মানুষের সেবায় কাজে লাগানো একজন চিকিৎসকের পেশাগত দায়িত্ব। সেক্ষেত্রে কোনো চিকিৎসকের বিরুদ্ধে এ ধরনের অভিযোগ উত্থাপনের আগে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের উচিত ছিল পূর্ণাঙ্গ যাচাই, নীতিগত স্বচ্ছতা এবং ন্যায়বিচারের ন্যূনতম মানদণ্ড নিশ্চিত করা।
ন্যাশনাল ডক্টরস ফোরাম দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে, চলমান নির্বাচনী বাস্তবতায় এ ধরনের শোকজ নোটিশ কেবল একটি প্রশাসনিক বিষয় নয়; বরং এটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ সময়ে একজন চিকিৎসক প্রার্থীর বিরুদ্ধে এমন পদক্ষেপ জনমনে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে এবং স্বাধীন মত প্রকাশ ও পেশাগত স্বাধীনতাকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
চিকিৎসক নেতারা বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানাতে চাই, কোনো নিয়ন্ত্রক সংস্থার যদি কোনো প্রশ্ন বা আপত্তি থাকে, তা অবশ্যই আইন ও বিধিমালার আলোকে, নিরপেক্ষ ও মর্যাদাপূর্ণ প্রক্রিয়ায় নিষ্পত্তি হওয়া উচিত। কিন্তু একতরফাভাবে শোকজ জারি করে গণমাধ্যমে বিষয়টি ছড়িয়ে দেওয়া, সংশ্লিষ্ট ব্যক্তির সামাজিক ও পেশাগত সম্মান ক্ষুণ্ন করার শামিল, যা কোনোভাবেই গ্রহণযোগ্য নয়।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, আমরা দেশের সকল চিকিৎসক, পেশাজীবী সংগঠন এবং সচেতন নাগরিকদের প্রতি আহ্বান জানাই— চিকিৎসক সমাজের বিরুদ্ধে যেকোনো অন্যায়, হয়রানি ও বৈষম্যমূলক আচরণের বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধভাবে প্রতিবাদ গড়ে তুলুন। চিকিৎসকদের ভয় দেখিয়ে বা সম্মানহানি করে কখনোই জনস্বাস্থ্য কিংবা গণতান্ত্রিক পরিবেশ রক্ষা করা সম্ভব নয়।