বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল ও কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইদ্রিসকে উদ্ধৃত করে পৃথক দুইটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে। সেগুলো তাদের নিজস্ব বক্তব্য দাবি করে প্রচার করা হচ্ছে। তবে প্রকৃতপক্ষে তারা ভিন্ন একটি রাজনৈতিক দলের কর্মকাণ্ডের সমালোচনার প্রেক্ষাপটে এসব কথা উদাহরণ বা উদ্ধৃতি হিসেবে উল্লেখ করেন। বক্তব্যের আগের ও পরের অংশ কাটছাঁট করে নির্দিষ্ট কয়েক সেকেন্ডের অংশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রচার করা হচ্ছে। এক প্রতিবেদনে বিষয়গুলো স্পষ্ট করেছে ফ্যাক্ট চেক বা তথ্য যাচাই সংস্থা রিউমার স্ক্যানার।
হাবিব উন নবী খান সোহেলকে উদ্ধৃত করে প্রচারিত একটি ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতরা প্রয়োজনমতো এসে বায়তুল মোকাররমে পূজা দিতে পারবে।’
বিএনপির এই যুগ্ম মহাসচিবের পুরো বক্তব্যটি নিজেদের ফেসবুক পেজে গত ১৬ জানুয়ারি প্রচার করেছিল বায়ান্ন টিভি। এই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর মিল রয়েছে। ভিডিওটির ৫ মিনিট ৬ সেকেন্ডে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘এরা সুযোগ পেলে এমনও কথা বলবে, এমনও ফতোয়া দেবে যে মুসল্লিরা প্রয়োজনে ঢাকেশ্বরী মন্দিরে গিয়ে নামাজ পড়তে পারবে এবং ঢাকেশ্বরী মন্দিরের পুরোহিতরা প্রয়োজনে এসে বায়তুল মোকাররমে পূজা দিতে পারবে…।’
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের সঙ্গে রাশিয়ার রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
এই বক্তব্যের আগে হাবিব উন নবী বলেন, ‘আপনারা সবাই সজাগ থাকবেন। একটি গোষ্ঠী তাদের বিষাক্ত দাঁত ও হিংস্র নখ লুকিয়ে রেখে ভিন্ন ভিন্ন জায়গায় ভিন্ন ভিন্ন কথা বলছে। কখনো মুসলমানদের সভায় গিয়ে বলে তারা বেহেশতের ব্যবস্থা করে দেবে আবার অন্য ধর্মের মানুষদের কাছে গিয়ে বলে আমরা কোনো শরিয়া আইন চালু করব না। তাদের লক্ষ্য একটাই যেকোনোভাবে ক্ষমতায় গিয়ে নিজেদের আসল চেহারা জনগণের সামনে তুলে ধরা। কিন্তু সেই ভয়ংকর চেহারা এই জাতি আর দেখতে চায় না। ইনশাআল্লাহ ভোটের মাধ্যমেই জাতি তাদের প্রত্যাখ্যান করবে।’

প্রতিবেদনে রিউমার স্ক্যানার বলেছে, ‘অর্থাৎ, হাবিব উন নবী খান সোহেলের বক্তব্যটিও তার নিজস্ব অভিমত নয়। বরং, অন্য একটি রাজনৈতিক দলের সমালোচনা করতে গিয়ে তিনি কথাগুলো বলেন। তবে বক্তব্যের ওই অংশের আগের ও পরের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট অংশটি কেটে নিয়ে সেটিকে তার উদ্ধৃতি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।’
অন্যদিকে, কুমিল্লার নাঙ্গলকোট উপজেলা বিএনপি নেতা মিয়া মোহাম্মদ ইদ্রিসকে উদ্ধৃত করে ছড়ানো এক ভিডিওতে তাকে বলতে শোনা যায়, ‘রোজা, নামাজ, হজ, যাকাত কিছু লাগবে না। ধানের শীষে ভোট দিলেই বেহেশতে যেতে পারবেন।’
মিয়া ইদ্রিসের পুরো বক্তব্যটি নিজের ফেসবুক পেজে দিয়েছিল ‘Tazu Miazi’ নামের একটি আইডি। ওই ফেসবুক পেজটির পরিচিতিতে উল্লেখ রয়েছে, তিনি এশিয়ান টিভি ও জাতীয় দৈনিক সকালের সময়-এর প্রতিনিধি। সেই ভিডিওটির সঙ্গে আলোচিত দাবিতে ছড়ানো ভিডিওর মিল রয়েছে। ভিডিওটির ৬ মিনিট ১৫ সেকেন্ডে মাইক্রোফোন হাতে বক্তা মোহাম্মদ ইদ্রিস বলেন, ‘ঐদিন তাদের বড় এক নেতা বক্তব্য রাখছে কি—রোজা, নামাজ, হজ, যাকাত কিচ্ছু লাগবে না, ধানের শীষে ভোট দিলে বেহেশতে যাইতে পারবেন। আরে… দাঁড়িপাল্লায় ভোট দিলে বেহেশতে যাইতে পারবেন। নাউজুবিল্লাহ বলেন সবাই। এই কথাটা যারা বলে এরাও জাহান্নামী, আর যারা যদি বিশ্বাস করে তারাও জাহান্নামী হবে।’
রিউমার স্ক্যানার প্রতিবেদনে বলেছে, ‘তার (মিয়া ইদ্রিস) বক্তব্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, সমালোচনার প্রেক্ষাপটে কথা বলতে গিয়ে তিনি প্রথমে অনিচ্ছাকৃতভাবে ‘ধানের শীষ’ উল্লেখ করলেও সঙ্গে সঙ্গেই তা সংশোধন করে ‘দাঁড়িপাল্লা’ বলেন। অর্থাৎ, বক্তব্যের ওই অংশের আগের ও পরের প্রেক্ষাপট বাদ দিয়ে কেবল নির্দিষ্ট অংশটি কেটে নিয়ে সেটিকে তার উদ্ধৃতি হিসেবে প্রচার করা হচ্ছে।