ডাঃ এস এম খালিদুজ্জামান । এর সম্পর্কে কিছু না লিখে পারলাম না। যারা বিভিন্নভাবে তার সম্পর্কে লেখালেখি করছেন, চিকিৎসা জগতে তার অবদান সম্পর্কে আপনার কতটুকু জানা আছে সেটা একটু হিসাব করে নিন। আমার দুই বছরের জুনিয়র ডাঃ খালেদুজ্জামান। তিনি এমব্রায়োলজির উপরে যে ডিগ্রি অর্জন করেছেন 2016- 17 এই সময়ে এরকম degree তার পূর্বে কেউ করেনি। এমব্রায়োলজি এই বিষয়টা সম্পর্কে আমরা কতটুকু জানি। ইনফার্টিলিটি চিকিৎসার সাথে এই সাবজেক্টটি ওতপ্রোতভাবে জড়িত। বাংলাদেশে যারা ইনফার্টিলিটির চিকিৎসা করেন তারা জানেন এই সাবজেক্ট এর গুরুত্ব কতটুকু। বাংলাদেশে যেসকল এমব্রায়োলজিস্ট দের সহযোগিতা নেন তারা মূলত প্রশিক্ষণ করেই কাজ করতো। তিনি একমাত্র ব্যক্তি তৎকালীন সময়ে বাহিরে থেকে এই উচ্চতর ডিগ্রি রেসিডেন্সিয়ালি অবস্থান করে সম্পূর্ণ করেছেন যেটাকে আমরা বলি পূর্ণকালীন। তার অবদান যেমন রয়েছে অ্যাপোলো হাসপাতালে একই সাথে এভার কেয়ার হাসপাতালে। তেমনি তার অবদান কিন্তু রয়েছে বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রথম টেস্টটিউব বেবিতে। তার অবদান রয়েছে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রথম টেস্টটিউব বেবি তে। এই জায়গাগুলো যারা জানেন না তাদের জ্ঞাতার্থেই আজকে লিখছি। খালিদুজ্জামান পাশ করার পর থেকেই একজন দৃঢ়প্রতিজ্ঞ এমব্রায়োলজিস্ট হওয়ার স্বপ্ন নিয়ে তার যাত্রা শুরু করে এভার কেয়ারে। এই যাত্রা শুরু করার পূর্বে সে আমার সাথে কথা বলে তার ক্যারিয়ার বিষয়ে এবং পরামর্শ চায়। আমি নির্দ্বিধায় তাকে বলেছি বাংলাদেশে এই সাবজেক্টটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ এবং সময়ের দাবি। এটা নিয়ে কাজ করলে ভবিষ্যতে খুব দ্রুত সফল হওয়া সম্ভব। তারি ধারাবাহিকতায় তার আজকের এই সফল জীবন।
এবার আসি বিএমডিসির স্বীকৃতি নিয়ে। বিএমডিসি বাংলাদেশে অর্জিত ডিগ্রী গুলোকে সাধারণত স্বীকৃতি দেয়। এর বাইরে যে সকল ডিগ্রি রয়েছে সেগুলোর স্বীকৃতি প্রয়োজন শুধুমাত্র বাংলাদেশি সরকারি পর্যায়ে প্রমোশন এবং পদোন্নতির জন্য। এছাড়া বহু বিষয় রয়েছে যাদের বিএমডিসির স্বীকৃতি নেই বা যে সকল চিকিৎসক এই ব্যাপারে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেছে তারা মনে করেন না যে বিএমডিসির স্বীকৃতি প্রয়োজন আছে। কারন তাদের কাজের ক্ষেত্রে সাথে এটার প্রয়োজনীয়তা নেই। যেমন আমার ডিগ্রী এনেস্থেসিয়ার উপরে। আমি যে বিশেষজ্ঞ হিসেবে পরিচিত সেটা হচ্ছে পেইন মেডিসিন অথবা বলা যায় ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন। এটা মূলত ফেলোসিপ প্রশিক্ষণ নিয়েই করতে হয়। বাংলাদেশে এ বিষয়ে কোন ফেলোশিপ ছিল না যখন থেকে আমরা কাজ শুরু করেছি। এখন শুধুমাত্র মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে ফেলোশিপ চালু হয়েছে এক বছরের। সুতরাং এ বিষয়টা নিয়ে কাজ করতে হলে আলাদা ডিগ্রি বা বিএমডিসি স্বীকৃতি কোন কিছুই প্রয়োজন নেই।। বিএমডিসি কিন্তু রয়েল কলেজ থেকে প্রদত্ত ডিগ্রী এফআরসিপি বা এফআরসিএস এর স্বীকৃতি ও প্রদান করে না। আলাদাভাবে আবেদন করে জানাতে হয়। তাতে যারা এফআরসিপি ও এফআরসিএস বা আরো উচ্চতর ডিগ্রি করেছেন তাদের কি কিছু যায় আসে? কিছুই যায় আসে না। যদি তারা প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করে তাহলে তাদের এ বিষয়ে কোনই কিছু যায় আসে না বা তাদের প্রয়োজন নেই বিএমডিসির স্বীকৃতি। কারণ যিনি এমবিবিএস পাস করেছেন তিনি বাংলাদেশে সকল ধরনের চিকিৎসা জগতে কাজ করার জন্য ফিট এবং যোগ্য। খালেদুজ্জামান যেহেতু শুরু থেকেই প্রাইভেট প্রতিষ্ঠানে কাজ করেছেন। সুতরাং তার এই বিষয়ে যেই প্রতিষ্ঠান তাকে নিয়োগ দিয়েছে তারা ভালো করেই জানেন তার দক্ষতা এবং যোগ্যতা হিসাবে। এটার জন্য বিএমডিসির দ্বারস্থ হওয়ার বিশেষ কোনো প্রয়োজন ছিল না আগেও এখনো নেই। সুতরাং যারা এই গত কালকে থেকে এ বিষয়টা নিয়ে অনেক বেশি লেখালেখি করছেন তাদের জ্ঞাতার্থে বলছি আপনারা বিষয়গুলো জানুন না জেনে অন্ধভাবে কারো পা চাটার চেষ্টা করবেন না। যে কারণে আজকে বিএমডিসি এই নোটিশ দিয়েছে সেটাও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। এটা করে আপনাদের দৈন্যতার পরিচয় দিলেন এবং একই সাথে ডাঃ খালিদুজ্জামানকে অনেক উপরে উঠিয়ে দিলেন। কারণ খালেদুজ্জামান সম্পর্কে জনগণ জানত সে ঢাকা সতেরো আসনের জামাত মনোনীত প্রার্থী। কিন্তু আজকে জানল সে কোন বিষয়ের উপরে বাংলাদেশে বিশেষজ্ঞতা অর্জন করেছেন এবং কোথা থেকে অর্জন করেছেন এবং তার বাংলাদেশে অবদান কতটুকু। এর জন্য আপনারাই ভূমিকা পালন করেছেন। সে অর্থে আপনাদেরকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।
ডাঃ মোঃ আহাদ হোসেন
এমবিবিএস, বিসিএস, এমডি
এফ আই পি এম ( ইন্টারভেনশনাল পেইন মেডিসিন)
সহকারী অধ্যাপক ও ব্যথা বিশেষজ্ঞ
ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল