নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান ও উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক সাইদুর রহমান ভুঁইয়ার সঙ্গে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমানের বাগবিতণ্ডার ঘটনা ঘটেছে। এ সংক্রান্ত একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, শনিবার বিকেলে কলমাকান্দা উপজেলার লেংগুরা বাজারে ইউএনও মাসুদুর রহমান ও সহকারী কমিশনার (ভূমি) মাহমুদুল হাসান ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করেন। এ সময় অবৈধভাবে স্থাপনা নির্মাণের অভিযোগে পারভেজ ও বকুল নামের দুই ব্যক্তির বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়।
অভিযানের সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত হন লেংগুরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া। এ নিয়ে ইউএনও ও চেয়ারম্যানের মধ্যে বাগবিতণ্ডার সৃষ্টি হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, চেয়ারম্যান ইউএনওকে উদ্দেশ করে বলেন, ‘কী করছেন এইটা? বলেন আমাকে।’ জবাবে ম্যাজিস্ট্রেট বলেন, ‘আমি ম্যাজিস্ট্রেট, মোবাইল কোর্ট আগে শেষ হোক।’ তখন চেয়ারম্যান বলেন, ‘আমার ইউনিয়ন এটা। আমি এই ইউনিয়নের চেয়ারম্যান। আপনি মোবাইল কোর্ট করলে আমার সঙ্গে কথা বললে ভালো হতো।’ এ সময় ম্যাজিস্ট্রেট প্রশ্ন করেন, ‘কোন আইনে?’ উত্তরে চেয়ারম্যান বলেন, ‘চেয়ারম্যানের আইনে আছে।’
এ বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যান সাইদুর রহমান ভুঁইয়া বলেন, ‘আমি এই এলাকার নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি। জনগণের প্রতিনিধি হিসেবে কী হচ্ছে তা জানার অধিকার আমার আছে। কিন্তু প্রশাসনের পক্ষ থেকে আমাকে কোনো তথ্য জানানো হয়নি। এমনকি একজন মানুষ হিসেবেও আমাকে মূল্যায়ন করা হয়নি।’
তিনি আরও অভিযোগ করেন, যাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে, তাদের আগে কোনো নোটিশ দেওয়া হয়নি। সব কাজেরই নিয়ম-কানুন রয়েছে। তিনি দাবি করেন, ইউএনও ভিন্ন মতাবলম্বীদের দমনে প্রশাসনিক ক্ষমতার অপব্যবহার করছেন।
অন্যদিকে উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট মাসুদুর রহমান বলেন, ‘ইউনিয়ন পরিষদ চেয়ারম্যানের অনুমতি নিয়ে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করতে হবে—এমন কোনো বিধান আইনে নেই।’
এর আগে শনিবার স্বতন্ত্র প্রার্থী রুমিন ফারহানার বিরুদ্ধে নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেটের সঙ্গে অসৌজন্যমূলক আচরণের অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় ভ্রাম্যমাণ আদালত তার নির্বাচনি প্রচারণা বন্ধ করে দেয়।