ব্যালট পেপারে অনিয়ম ও বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র সংসদ নির্বাচনে একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব বিস্তারের প্রতিবাদে নির্বাচন কমিশন কার্যালয়ের সামনে অবস্থান নেওয়া ছাত্রদলের একটি প্রতিনিধি দল নির্বাচন কমিশনের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সঙ্গে আলোচনা করতে ইসিতে গেছে।
রোববার (১৮ জানুয়ারি) বিকেল ৫টায় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিবের নেতৃত্বে পাঁচ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল ইসিতে যায়।
এর আগে ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, নির্বাচন কমিশনের পক্ষ থেকে আমাদের আলোচনায় বসার আমন্ত্রণ জানানো হয়েছে। আমরা তাদের আমন্ত্রণ গ্রহণ করেছি। আমাদের প্রতিনিধি দলের কয়েকজন সদস্য তাদের সঙ্গে আলোচনায় বসব। তার আগে আমাদের নিজেদের মধ্যে আলোচনা করছি।
এর আগে বেলা ১১টায় নির্বাচন কার্যালয়ের সামনে পূর্বনির্ধারিত ‘নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি’ পালন করতে এসে বসে পড়েন ছাত্রদল নেতাকর্মীরা।
সরেজমিনে ঘুরে দেখা যায়, রাজধানীর আগারগাঁও নির্বাচন কমিশনের প্রধান কার্যালয়ের সামনে ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় নেতারা, ঢাকা মহানগর উত্তর, ঢাকা মহানগর দক্ষিণসহ প্রতিটি থানা থেকে নেতাকর্মীরা ঘেরাও কর্মসূচিতে অংশ নিয়েছেন। এতে সহস্রাধিক নেতাকর্মী উপস্থিত হন।
নির্বাচন ভবনের সামনের সড়কে দেওয়া পুলিশের ব্যারিকেডের সামনে ও বিপরীত পাশের সড়কে অবস্থান নেন তারা। এ ছাড়া খণ্ড খণ্ডভাবে কয়েকটি গ্রুপ সড়কে ঘুরে ঘুরে স্লোগান দিতে দেখা গেছে।
সরেজমিনে আরও দেখা যায়, নির্বাচন কমিশনের সামনের সড়কে বসে পড়ার কারণে এই সড়ক দিয়ে যান চলাচল বন্ধ রয়েছে। পথচারীদের বিকল্প পথে চলাচল করতে হচ্ছে।
এদিন বেলা ১১টার আগে নির্বাচন কমিশন কার্যালয় ঘেরাও কর্মসূচি বাস্তবায়ন করতে নির্বাচন কমিশন ভবনের সামনে আসেন কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব ও সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দীন নাছির।
সকালে কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সভাপতি রাকিবুল ইসলাম রাকিব বলেন, আমরা অনানুষ্ঠানিকভাবে গতকাল সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে, নির্বাচন কমিশন ঘেরাও করবে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল। এখানে অনেকগুলো ইস্যু রয়েছে। ব্যালট পেপার ইস্যু রয়েছে। এছাড়াও একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠীর প্রভাব-প্রতিপত্তি ইতোমধ্যে দেখা গেছে। তারা দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে বেশ জোরপূর্বকভাবে কিছু সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করেছে।
তিনি বলেন, একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী সরাসরি এখানে এসে সিইসি হোক কিংবা যারা নির্বাচন কমিশনার রয়েছে তাদের সঙ্গে প্রতিনিয়ত সাক্ষাৎ করে। তাদের অবাধ বিচরণ রয়েছে। সচিবালয় বলেন, এই নির্বাচন কমিশন বলেন, সব জায়গায় গিয়ে তারা প্রভাব-প্রতিপত্তি বিস্তার করছে।
তিনি আরও বলেন, আমরা আজ জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে এসেছি। যদি এই জবরদস্তিমূলক সিদ্ধান্ত এবং বিশেষ গোষ্ঠীর প্রভাব বন্ধ না হয়, তবে আরও কঠোর কর্মসূচি ঘোষণা করা হবে।
ছাত্রদলের ৩ অভিযোগ হচ্ছে—
১. পোস্টাল ব্যালট সংক্রান্ত বিষয়ে নির্বাচন কমিশন পক্ষপাতদুষ্ট ও প্রশ্নবিদ্ধ সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যা নির্বাচন প্রক্রিয়ার নিরপেক্ষতা নিয়ে গুরুতর সংশয় সৃষ্টি করেছে।
২. বিশেষ একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠীর চাপের মুখে দায়িত্বশীল ও যৌক্তিক সিদ্ধান্তের পরিবর্তে হঠকারী ও অদূরদর্শী সিদ্ধান্ত গ্রহণ করছে ইসি, যা কমিশনের স্বাধীনতা ও পেশাদারিত্বকে প্রশ্নবিদ্ধ করে।
৩. বিশেষ রাজনৈতিক দলের প্রত্যক্ষ প্রভাব ও হস্তক্ষেপে শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ নির্বাচন বিষয়ে ইসি নজিরবিহীন ও বিতর্কিত প্রজ্ঞাপন জারি করেছে, যা বিশ্ববিদ্যালয়ের গণতান্ত্রিক চর্চার জন্য অশনিসংকেত।