Image description

ঝিনাইদহের শৈলকুপায় একটি মাদরাসায় রাতের আঁধারে নাইটগার্ড নিয়োগ পরীক্ষা নিচ্ছিল কর্তৃপক্ষ। পরে এলাকাবাসীর বাধায় তা ভুণ্ডুল হয়ে যায়। এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে মাদরাসার সুপার, সভাপতি ও মাদরাসা শিক্ষা অধিদপ্তরের ডিজির প্রতিনিধি এক নারী কর্মকর্তাকে অবরুদ্ধ করে স্থানীয়রা।

শুক্রবার (১৬ জানুয়ারি) রাত সাড়ে ৮টার দিকে উপজেলার পুটিমারি আউলিয়া মাদরাসায় এ ঘটনা ঘটে।

স্থানীয়দের অভিযোগ, নিয়ম বহির্ভূতভাবে রাতের আঁধারে ওই মাদরাসায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। বিষয়টি জানতে পেরে আশপাশের গ্রামের শত শত মানুষ মাদরাসা প্রাঙ্গণে গিয়ে পরীক্ষা নিতে বাধা দেন। সে সময় নিয়োগ পরীক্ষায় জড়িত সংশ্লিষ্টদের অবরুদ্ধ করে রাখেন তাঁরা।

অবশ্য মাদরাসা সুপার রুহুল আমিন দাবি করেছেন, ‘নিয়ম মেনেই পরীক্ষা নেওয়া হচ্ছিল। নিয়োগ পরীক্ষায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল ১২ জনের। এলাকাবাসী বাধা দেওয়ায় পরীক্ষা স্থগিত হয়েছে।’

তবে সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, হাজিরা খাতায় সই করেছেন মাত্র ১০ জন পরীক্ষার্থী। আর পরীক্ষা কেন্দ্রে পাওয়া যায় মাত্র ৩ জন পরীক্ষার্থীকে।

স্থানীয় বাসিন্দা নাজমুল হোসেন বলেন, ‘সন্ধ্যার দিকে একটি সাদা রঙের প্রাইভেট কারে করে ডিজির প্রতিনিধি পরিচয়ে এক নারী কর্মকর্তা মাদরাসায় আসেন। এ সময় তাঁর সঙ্গে তাঁর মেয়ে, বোন ও নাতিও ছিলেন। রাতের বেলায় নিয়োগ পরীক্ষা নেওয়ায় এলাকাবাসীর মধ্যে সন্দেহ ও তীব্র ক্ষোভের সৃষ্টি হয়। পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।’

মাদরাসার সুপার রুহুল আমিন বলেন, ‘ডিজির প্রতিনিধি দেরিতে আসায় পরীক্ষাও দেরিতে শুরু হয়। সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে তাঁরা পরীক্ষার খাতা ও কাগজপত্র তৈরি করছিলেন। সে সময় স্থানীয়রা এসে বাধা দিলে পরীক্ষা বন্ধ হয়ে যায়।’

এ ব্যাপারে শৈলকুপা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) হুমায়ুন কবির মোল্লা বলেন, ‘খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে যায়। পরিস্থিতি উত্তপ্ত হয়ে উঠলে মাদরাসা সুপার ও ডিজির প্রতিনিধি পরিচয় দেওয়া নারী কর্মকর্তাকে উদ্ধার করে শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কার্যালয়ে নিয়ে আসা হয়।’

শৈলকুপা উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মাহফুজুর রহমান অবশ্য ভিন্ন কথা বলছেন। তিনি বলেন, ‘শুক্রবার বিকেল ৩টার দিকে নিয়োগ পরীক্ষার সময় নির্ধারণ ছিল। কিন্তু মাদরাসাটির অবস্থান চিনতে না পারায় ওই ডিজির প্রতিনিধি আসতে দেরি হয়। পরে সাড়ে ৪টার দিকে নিয়োগ পরীক্ষা শুরু হয়। কিছু স্থানীয় মানুষ এসে তাঁদের নিয়োগ প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করেছেন।’

তিনি বলেন, ‘ডিজির প্রতিনিধি যিনি ছিলেন তার সিদ্ধান্ত অনুযায়ী নিয়োগ পরীক্ষা স্থগিত করা হয়েছে। নিয়োগ পরীক্ষাটি পরবর্তীতে ওই মাদরাসায় না হয়ে উপজেলায় হবে। বর্তমানে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আছে।’