Image description

ত্রয়োদশ সংসদ নির্বাচন সামনে রেখে ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের খসড়া তালিকা প্রস্তুতের কাজ শেষ করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এ তালিকাকে কেন্দ্র করে সরকারি ও স্বায়ত্তশাসিত প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের মধ্যে বিচিত্র ও বিপরীতমুখী পরিস্থিতি দেখা যাচ্ছে। একদিকে তালিকায় নাম আসা কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশ ব্যক্তিগত ও পারিপার্শ্বিক কারণ দেখিয়ে অব্যাহতি চাইছেন, অন্যদিকে যোগ্য হওয়ার পরও নাম না আসায় অনেক কর্মকর্তা ক্ষোভ প্রকাশ করে অন্তর্ভুক্তির জন্য তদবির চালাচ্ছেন। নাম বাদ দেওয়া ও অন্তর্ভুক্তির পর চূড়ান্ত প্যানেলভুক্ত ভোটগ্রহণ কর্মকর্তাদের আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে নির্বাচনি প্রশিক্ষণ শুরু করবে সাংবিধানিক সংস্থা ইসি।

ইসি সূত্রে জানা গেছে, এবারের নির্বাচনে কয়েক লাখ ভোটগ্রহণ কর্মকর্তার প্রয়োজন হবে। বিশাল এ কর্মযজ্ঞ সামাল দিতে শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও ব্যাংকসহ বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নিয়ে খসড়া প্যানেল তৈরি করা হয়েছে। তবে এ তালিকা প্রকাশের পরপরই ইসিতে জমা পড়ছে শত শত অব্যাহতির আবেদন।

তালিকায় নাম থাকা কর্মকর্তাদের বড় একটি অংশের মধ্যে নির্বাচন নিয়ে এক ধরনের ভীতি ও অনীহা কাজ করছে। বিশেষ করে মাঠপর্যায়ের শিক্ষক এবং ব্যাংক কর্মকর্তারা দায়িত্ব থেকে মুক্তি পেতে বিভিন্ন অজুহাত দাঁড় করাচ্ছেন। অব্যাহতিপ্রত্যাশীদের আবেদনে উঠে এসেছে অসুস্থতা, পারিবারিক সংকট কিংবা ছোট শিশুর দেখাশোনার মতো বিষয়। তবে পর্দার আড়ালে বড় কারণ হিসেবে কাজ করছে নির্বাচনের দিন কেন্দ্রগুলোয় সম্ভাব্য বিশৃঙ্খলা ও সহিংসতার ভয়।

রাজধানীর একটি সরকারি প্রতিষ্ঠানের কর্মচারী শারমিন ফেরদৌস পোলিং অফিসার হিসেবে মনোনীত হওয়ার পর প্রশিক্ষণের ঠিক আগে অসুস্থতার কারণ দেখিয়ে নাম বাদ দেওয়ার আবেদন করেছেন। একই পথে হেঁটেছেন খিলগাঁও এলাকার সহকারী শিক্ষক তসলিম ও ডেমরা এলাকার ব্যাংক কর্মকর্তা লাবনী। ময়মনসিংহের এক কর্মকর্তা তার শিশুসন্তানের দোহাই দিয়ে পরিচিতদের মাধ্যমে ইসিতে জোর তদবির চালাচ্ছেন, যেন তাকে এ দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়। শুধু এর মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, সারা দেশে এ ধরনের আবেদন সহস্রাধিক।

বিপরীত চিত্রও কম নয়। অনেক অভিজ্ঞ কর্মকর্তা অভিযোগ করেছেন, যোগ্য ও দক্ষ হওয়া সত্ত্বেও রহস্যজনকভাবে তাদের নাম খসড়া তালিকা থেকে বাদ পড়েছে।

তাদের দাবি, স্থানীয় প্রশাসনের পছন্দ-অপছন্দ কিংবা রাজনৈতিক পক্ষপাতিত্বের কারণে অনেক দক্ষ প্রিসাইডিং ও পোলিং অফিসারকে এবার প্যানেলে রাখা হয়নি। রেহেনার মতো অনেক কর্মকর্তা একে ‘রাষ্ট্রীয় বড় দায়িত্ব’ হিসেবে অভিহিত করে সরাসরি নির্বাচনে কাজ করার ইচ্ছা প্রকাশ করেছেন। তারা মনে করছেন, অভিজ্ঞদের বাদ দিয়ে নতুন বা নির্দিষ্ট বলয়ের লোকদের নিয়োগ দেওয়া হলে নির্বাচনের স্বচ্ছতা বিঘ্নিত হতে পারে।

আইনে বলা আছে, কোনো কর্মকর্তা যদি অসুস্থতা বা যুক্তিসংগত কোনো কারণ ছাড়া দায়িত্ব নিতে অস্বীকার করেন, তবে সেটিও শাস্তিমূলক অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হয়।

এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশনের ঊর্ধ্বতন এক কর্মকর্তা জানান, ভোটগ্রহণ কর্মকর্তা নিয়োগের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট নীতিমালা কঠোরভাবে অনুসরণ করা হচ্ছে। তিনি বলেন, যারা প্রকৃত ও যৌক্তিক কারণে দায়িত্ব পালনে অক্ষম, তাদের বিষয়টি আমরা গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছি। তবে যথাযথ কারণ ছাড়া দায়িত্বে অবহেলা বা ফাঁকি দেওয়ার চেষ্টা করলে কঠোর প্রশাসনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

ইসি কর্মকর্তারা আরো জানান, যারা যোগ্য হওয়ার পরও তালিকায় বাদ পড়েছেন, তাদের তথ্য পুনরায় যাচাই করার সুযোগ এখনো রয়েছে। চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশের আগে কর্মকর্তাদের প্রতিটি অভিযোগ ও আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে খতিয়ে দেখে একটি নিরপেক্ষ ও শক্তিশালী প্যানেল নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে।

এদিকে, নির্বাচনি দায়িত্বে নিয়োজিত কোনো ব্যক্তি যদি প্রার্থীর পক্ষে বা বিপক্ষে প্রভাব বিস্তার করেন অথবা বেআইনি কোনো কাজ করেন, তাহলে তাকে সর্বনিম্ন এক বছর থেকে সর্বোচ্চ পাঁচ বছর পর্যন্ত সশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া যেতে পারে।