কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা জনে জনে ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করছে বলে অভিযোগ জানিয়ে তা অবিলম্বে বন্ধের দাবি জানিয়েছে জামায়াতে ইসলামী। আজ বৃহস্পতিবার (১৫ জানুয়ারি) প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দলের বৈঠকে দলটি এই দাবি জানায়। একই সঙ্গে নির্বাচন উপলক্ষে বড় দুটি দলের প্রটোকলের সমতা নিশ্চিতের দাবিও জানিয়েছে দলটি।
সিইসির সঙ্গে বৈঠক শেষে সন্ধ্যায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে এসব তথ্য জানিয়েছেন প্রতিনিধি দলের প্রধান ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল ড. হামিদুর রহমান আযাদ। প্রতিনিধি দলে ছিলেন সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এবং কেন্দ্রীয় মিডিয়া ও প্রচার বিভাগের প্রধান অ্যাডভোকেট এহসানুল মাহবুব জুবায়ের, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসাইন ও কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য অ্যাডভোকেট জসিম উদ্দিন সরকার।
ব্রিফিংকালে ড. হামিদুর রহমান আযাদ বলেন, প্রশাসন নিরপেক্ষ না হলে সুষ্ঠু নির্বাচন সম্ভব নয়। আগামী ২২ জানুয়ারি থেকে আনুষ্ঠানিক প্রচারণা শুরু হওয়ার কথা থাকলেও ইতোমধ্যে কিছু এলাকায় কিছু দলের প্রার্থীরা অবাধে প্রচারণা চালাচ্ছেন। নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘিত হলেও স্থানীয় প্রশাসন কার্যকর ব্যবস্থা নিচ্ছে না।
তিনি আরও বলেন, দলীয় প্রধান হিসেবে নির্বাচনে অংশগ্রহণকারী বাংলাদেশের দুটি বড় দলের ক্ষেত্রে প্রটোকল প্রদানের ক্ষেত্রে সমতা নিশ্চিত করা জরুরি। এ বিষয়ে নির্বাচন কমিশন দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে বলে আশ্বস্ত করেছেন। আমরা আশা করি, কমিশন দ্রুতই তা বাস্তবায়ন করবে।
ভোটকেন্দ্রের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সিসি ক্যামেরা স্থাপনের দাবি জানানো হয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, নির্বাচন কমিশন সরাসরি উদ্যোগ না নিয়ে সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলোকে চিঠি দিয়েছে, যা তাদের পক্ষে বাস্তবায়ন করা সম্ভব নয়। সরকারের অর্থায়নে নির্বাচন কমিশনকেই এ সংক্রান্ত ব্যবস্থা নিতে হবে।
ড. হামিদুর রহমান আযাদ আরও বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের কর্মীরা ফ্যামিলি কার্ড ও কৃষি কার্ড বিতরণ করছে, যা ভোটারদের প্রভাবিত ও প্রতারিত করছে। এর ফলে জনগণ তাদের পছন্দের প্রার্থীকে নির্বাচিত করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে। আমরা এই তৎপরতা অবিলম্বে বন্ধ করার দাবি জানিয়েছি। কমিশন বিষয়টি নোট নিয়েছে এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে বলে আমাদের জানিয়েছে।
এছাড়া এমপিওভুক্ত শিক্ষকদের সঙ্গে কুশল বিনিময়ের অভিযোগে জামায়াত প্রার্থীদের বিরুদ্ধে চাকরিবিধি লঙ্ঘনের দায়ে জরিমানা করার ঘটনায় দ্বৈত নীতি অনুসরণ করা হচ্ছে- এমন অভিযোগও কমিশনের কাছে তুলে ধরা হয়। এ ধরনের আচরণ কমিশনের নিরপেক্ষতা প্রশ্নবিদ্ধ করছে বলে প্রতিনিধি দল মত প্রকাশ করে।
তিনি বলেন, যেসব কর্মকর্তা বিভিন্ন স্থানে অবিচার করে যাচ্ছেন, তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে না, যা সুষ্ঠু নির্বাচনের পথে বড় প্রতিবন্ধকতা। নির্বাচন নিয়ে সরকার সুন্দর বক্তব্য দিলেও মাঠপর্যায়ে তার বাস্তব প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না। সুষ্ঠু ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ নিশ্চিত করতে সরকার, নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট সকলকে কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণের আহ্বান জানান ড. হামিদুর রহমান আযাদ। তিনি আরও বলেন, সহযোগী শক্তি হিসেবে রাজনৈতিক দল জামায়াতে ইসলামী এ ক্ষেত্রে পাশে থাকবে।