২০১৪ সালে ১৫৩টি আসনে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় এবং অবশিষ্ট ১৪৭টিতে ‘প্রতিদ্বন্দ্বিতা’র নির্বাচন ছিল সম্পূর্ণ সাজানো ও সুপরিকল্পিত। রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ পর্যায়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আওয়ামী লীগকে ক্ষমতায় রাখতে এ বন্দোবস্ত করা হয়েছিল। আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অনুষ্ঠিত তিনটি বিতর্কিত নির্বাচন নিয়ে অন্তর্বর্তী সরকার গঠিত জাতীয় নির্বাচন (২০১৪, ২০১৮ এবং ২০২৪) তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে এমন তথ্য উঠে এসেছে। গত সোমবার (১২ জানুয়ারি) প্রতিবেদনটি প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের কাছে জমা দেন কমিশনের সদস্যরা। গতকাল বুধবার (১৪ জানুয়ারি) কমিশনের ৩২৬ পৃষ্ঠার প্রতিবেদনটি প্রকাশ করে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে , আওয়ামী লীগ ১৫১টি আসনে তাদের ‘বিজয়’ নিশ্চিত করতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচনের আইনি বিধানের অপব্যবহার করেছিল। যেসব আসন ওই অপকৌশলের অন্তর্ভুক্ত ছিল না, সেগুলোতে ‘অংশগ্রহণমূলক’ নির্বাচনের প্রচেষ্টা ছিল। এর অংশ হিসেবে জাতীয় পার্টিকে (জাপা) লক্ষ্যবস্তু বানানো হয়। জাপার তৎকালীন চেয়ারম্যান এইচ এম এরশাদের নির্দেশে বেশির ভাগ প্রার্থী মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের আবেদন করলেও নির্বাচন কমিশন সেই আবেদনগুলো আমলে নেয়নি। তদন্ত কমিশন চেষ্টা করেও সেসব আবেদন ইসি থেকে উদ্ধার করতে পারেনি। ইসির কর্মকর্তাদের ভাষ্য, সেসব আবেদন ধ্বংস করে ফেলা হয়েছে। নির্বাচন বর্জনের ঘোষণা দেওয়ায় এরশাদের ওপর খড়্গ নেমে আসে। নিরাপত্তা বাহিনী তাঁর বাড়ি ঘেরাও করলে তিনি আত্মহত্যার হুমকি দেন। ১৩ ডিসেম্বর (২০১৩) নিরাপত্তা বাহিনী তাঁকে গ্রেপ্তার করে একটি সামরিক হাসপাতালে আটক রাখে।
২০১৪ সালের ৫ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত দশম জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৩০০ আসনের মধ্যে ১৫৩ আসনেই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত হয়ে যান আওয়ামী লীগের প্রার্থীরা। পরে ভোট হয় ১৪৭টি আসনে। ভোটারবিহীন সেই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ ২৪৭ আসনে প্রার্থী দিয়ে ২৩৪টি ও জাতীয় পার্টি ৮৬ আসনে প্রার্থী দিয়ে ৩৪টি আসন পেয়েছিল।