ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সরকার যে নতুন সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছে, সেখানে নোয়াখালী জেলার সুবর্ণচর উপজেলার নাম দেখাচ্ছে ‘গোল্ডেন’। আবার কুষ্টিয়া জেলার ভেড়ামারা উপজেলার নাম দেখাচ্ছে ‘শিপ’। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য সদ্য উদ্বোধন করা ওয়েবসাইট ঘুরে এমন অন্তত ২১টি উপজেলার নাম উল্টাপাল্টা পাওয়া গেছে। সরকারি ওয়েবসাইটে এমন কাণ্ড দেখে হতবাক ফ্রিল্যান্সাররা।
দেশের ফ্রিল্যান্সারদের জন্য স্বচ্ছ, নিরাপদ ও হয়রানিমুক্ত ভেরিফিকেশন (যাচাইকরণ) ব্যবস্থা গড়ে তুলতে ফ্রিল্যান্সার ডটকম নামে ফ্রিল্যান্সার আইডি ম্যানেজমেন্ট সফটওয়্যার উদ্বোধন করেছে সরকার। গতকাল মঙ্গলবার আগারগাঁওয়ে আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব এই সফটওয়্যার উদ্বোধন করেন। তবে উদ্বোধনের পরেই ওয়েবসাইটে উপজেলাগুলোর উদ্ভট সব নাম দেখা গেছে।
গতকাল সফটওয়্যার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে জানানো হয়, ওয়েবসাইটটিতে বিনা মূল্যে ফ্রিল্যান্সারদের আইডি কার্ড দেওয়া হবে। নতুন এই ফ্রিল্যান্সার আইডি কার্ডের মাধ্যমে ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় সহজে যাচাই করা যাবে। নিবন্ধিত ফ্রিল্যান্সাররা ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ, ঋণ ও ক্রেডিট কার্ড–সুবিধা, আর্থিক প্রণোদনা, সরকারি–বেসরকারি প্রশিক্ষণসহ বিভিন্ন সুযোগ–সুবিধা সহজে গ্রহণ করতে পারবেন। একই সঙ্গে প্ল্যাটফর্মটি একটি জাতীয় ফ্রিল্যান্সার ডেটাবেজ (তথ্যভান্ডার) হিসেবে কাজ করবে, যেখানে ফ্রিল্যান্সারদের সংখ্যা, দক্ষতা ও কাজের ধরন সংরক্ষিত থাকবে, যা ভবিষ্যৎ নীতিনির্ধারণে সহায়ক হবে। প্ল্যাটফর্মটি রক্ষণাবেক্ষণ করবেন আইসিটি বিভাগের প্রকৌশলীরা।
আজ বুধবার দুপুরে ফ্রিল্যান্সার ডটকম নামের ওই ওয়েবসাইটে ১৯টি জেলার ওই সব উপজেলার এমন নাম দেখা গেছে। জাতীয় তথ্য বাতায়নের তথ্য বলছে, পাবনা জেলায় উপজেলা রয়েছে ৯টি। ফ্রিল্যান্সারদের জন্য ওই ওয়েবসাইটে জেলার ভাঙ্গুড়া উপজেলার নামের স্থলে লেখা হয়েছে ‘ব্রোকেন’। আবার বেড়া উপজেলার নামের স্থলে লেখা ‘ফেন্স’। একই রকম হয়েছে নারায়ণগঞ্জ জেলার আড়াইহাজার উপজেলার নামে। সেখানে লেখা হয়েছে ‘টু অ্যান্ড আ হাফ থাউজেন্ড’। চট্টগ্রামের বাঁশখালী উপজেলার নাম লেখা হয়েছে ‘বেম্বুখালি’। নওগাঁর পত্নীতলা উপজেলার স্থলে লেখা হয়েছে ‘স্পাউস’। জামালপুরের সরিষাবাড়ী উপজেলার নাম লেখা হয়েছে ‘মাস্টার্ড’। এ ছাড়া সিলেট, শরীয়তপুর, সাতক্ষীরা, নেত্রকোনা, মৌলভীবাজার, ফরিদপুর, চট্টগ্রামসহ আরও বেশ কয়েকটি জেলার উপজেলার এমন নাম পাওয়া গেছে।
যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক ওয়েবসাইট ‘মিডিয়াম’–এর গত বছরের তথ্য অনুযায়ী, বাংলাদেশে দুই লাখের বেশি ফ্রিল্যান্সার রয়েছেন। যদিও এই সংখ্যা নিয়েও দ্বিমত রয়েছে। কোথাও কোথাও বাংলাদেশি ফ্রিল্যান্সারের সংখ্যা ১০ লাখ পর্যন্ত বলা হয়। সরকারি ওয়েবসাইটে বিভিন্ন উপজেলার এমন উল্টাপাল্টা নামে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ফ্রিল্যান্সাররাও। ওয়েবসাইটের স্ক্রিনশট ফেসবুকে শেয়ার করে এক ফ্রিল্যান্সার লিখেছেন, ‘ভুলে ভরা ওয়েবসাইট।’ তাঁর ওই পোস্টেই বেশ কয়েকজন ফ্রিল্যান্সার জানিয়েছেন, তাঁরা তাঁদের নিজেদের উপজেলার নাম খুঁজে পাচ্ছেন না।
এ বিষয়ে জানতে ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ে যোগাযোগ করলে দ্রুতই ভুলগুলো সংশোধন করা হবে বলে জানানো হয়েছে।
প্রযুক্তিবিশেষজ্ঞরা বলছেন, আন্তর্জাতিক ক্লায়েন্ট, পেমেন্ট গেটওয়ে কিংবা সরকারি নথিতে ব্যবহৃত হতে পারে, এমন একটি প্ল্যাটফর্মে এ ধরনের ভুল ফ্রিল্যান্সারদের পরিচয় ও বিশ্বাসযোগ্যতার ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে।
এ ধরনের ভুলের কারণে ডিজিটাল সিস্টেমের ওপর মানুষের আস্থা নষ্ট হয় বলে মনে করেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের তথ্যপ্রযুক্তি ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক বি এম মইনুল হোসেন। তিনি বলেন, ওয়েবসাইটের কোয়ালিটি অ্যাসুরেন্সে দুর্বলতা রয়েছে। ঠিকমতো পরীক্ষা করলে প্রাথমিক পর্যায়েই এই ত্রুটি এড়ানো যেত। এখনো খুব সহজেই এটি সংশোধন করা যাবে। তবে এটি মানুষের মধ্যে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করে।