আসন ভাগাভাগি নিয়ে গভীর মতানৈক্যের কারণে ভাঙনের মুখে পড়েছে জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ইসলামি রাজনৈতিক জোট। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলনের কঠোর অবস্থানের কারণেই জোটগত নির্বাচনের ভবিষ্যৎ নিয়ে চরম অনিশ্চয়তা তৈরি হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার দফায় দফায় বৈঠক হলেও এখন পর্যন্ত কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারেনি দলগুলো। সর্বশেষ আজ বুধবার (১৪ জানুয়ারি) আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলের একটি সংবাদ সম্মেলন হওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তা স্থগিত করা হয়েছে।
জানা গেছে, গতকাল মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) দিনভর আসন সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলন ও জামায়াতে ইসলামী বৈঠক করে। সেখানে ৪৫টি আসনের প্রেক্ষিতে একটি সমঝোতা হয়। এরপর রাত ১টা পর্যন্ত আরও একটি গুরুত্বপূর্ণ বৈঠক অনুষ্ঠিত হলেও সেখানেও চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি দলটি। সিদ্ধান্তহীন অবস্থায় বৈঠক আজকে দুপুরে হাতপাখা প্রতীকের দলটির সর্বোচ্চ নীতি নির্ধারনি ফোরাম মজলিসে কামেলার ওপর ন্যস্ত করে শীর্ষ নেতারা। তবে রাতের ওই মিটিংয়ে শীর্ষ নেতাদের জোটে থাকা না থাকা নিয়ে মতামত নিয়ে রেখেছে দলটি। এই বৈঠকেই বাকি থাকা কয়েকটি আসন নিয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে। আজ বৈঠকের পর জানা যাবে ইসলামী আন্দোলন জোটে থাকবে কি না। এরপর সংবাদ সম্মেলনের মাধ্যমে আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসবে।
ইসলামী আন্দোলনের শীর্ষ এক নেতা নাম না প্রকাশ করার শর্তে বলেন, ‘রাতের বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয় তারা জামায়াতের বৈঠকে অংশ নিবে না। আলাদা করে সংবাদ সম্মেলন করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানাবে।’ তিনি আরও বলেন, বৈঠকে পক্ষে বিপক্ষে অনেক মত এসেছে। যেগুলো আজকে একটি বৈঠকে বিশ্লেষণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।
সূত্রের তথ্য অনুযায়ী, প্রাথমিক সমঝোতায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা প্রতীক নিয়ে ৪৫টি আসনে এবং জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি) শাপলা কলি প্রতীক নিয়ে ৩০টি আসনে প্রার্থী দেবে। এ ছাড়া বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস ১৫টি আসনে, ইসলামী ঐক্যজোট ৬টি, লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টি (এলডিপি) ৬টি, এবি পার্টি ২টি, বাংলাদেশ ডেমোক্রেটিক পার্টি (বিডিপি) ২টি এবং খেলাফত আন্দোলন, নেজামে ইসলাম পার্টি ও জাগপা একটি করে আসনে নির্বাচন করবে। তবে, আসন দর কষাকষিতে জামায়াত প্রায় ৫০টি আসন ছেড়ে দিতে চাইলেও ইসলামী আন্দোলনের দাবি ৭০টির বেশি।
এদিকে দরকষাকষি শেষ পর্যন্ত সমঝোতায় না আসলে জোটে থাকবে না ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এছাড়া ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ বের হয়ে গেলে বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসও বের হয়ে যাবে জোট থেকে। শেষ পর্যন্ত দল দুটি ১১ দলীয় জোট থেকে বেরিয়ে আলাদা নির্বাচন করতে পারে বলে জানা গেছে। আজ দুপুরের গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকেই নির্ধারণ হবে জামায়াত জোটে ইসলামী আন্দোলন থাকবে কি না।
অপরদিকে প্রাথমিক সমঝোতার অংশ হিসেবে জামায়াতে ইসলামী ইতোমধ্যে এক ডজনেরও বেশি আসনে চরমোনাই পীর ও মামুনুল হকের দলের বিপরীতে নিজেদের কোনো প্রার্থী দেয়নি। রাজনৈতিকভাবে এই ছাড় জামায়াতকে দুর্বল অবস্থানে ফেলেছে এবং ওই দল দুটি জামায়াতের সঙ্গে দরকষাকষিতে বাড়তি সুবিধা নিচ্ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। এতে করে এমন অবস্থায় জামায়াত পড়েছে চরম বিপাকে। আজ সকল প্রস্তুতি সম্পন্ন করেও আসন সমঝোতার চূড়ান্ত ঘোষণার সংবাদ সম্মেলন করতে পারেনি জামায়াত। কবে এই সংবাদ সম্মেলন হবে সেটিও সঠিক সিদ্ধান্ত জানায়নি দলটি।
এ বিষয়টি নিয়ে জানতে চাইলে হামিদুর রহমান আযাদ বুধবার দুপুরে দ্য ডেইলি ক্যাম্পাসকে বলেন, ‘আমরা সংবাদ সম্মেলন স্থগিত করেছি। সেটি গণমাধ্যমে মেসেজ দিয়ে জানিয়ে দিয়েছি। এখন এর চেয়ে বেশি কিছু বলতে চাই না।’ এ সময় ইসলামী আন্দোলনের জোটে থাকা নিয়ে প্রশ্ন করা হলেও তিনি কিছু বলতে রাজি হননি। শিগগিরই বিষয়টি নিয়ে সংবাদ সম্মেলন করা হবে বলেও জানান তিনি।
যদিও জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলনের নেতারা বিষয়টি নিয়ে মুখ খুলছেন না। ১১ দলের সমন্বয়ক ও জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ সংবাদ সম্মেলন স্থগিতের কথা জানালেও আর কিছু বলতে রাজি হননি। ইসলামী আন্দোলনের মহাসচিব অধ্যক্ষ ইউনুছ আহমাদ ও যুগ্ম মহাসচিব শেখ ফজলে বারী মাসুদের মোবাইল ফোনে কল দেওয়া হলেও তারাও রিসিভ করেননি।