Image description

আসন সমঝোতা নিয়ে ১১ দলীয় জোটে বিরোধ চলছেই। চরম অনিশ্চয়তায় পড়েছে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন রাজনৈতিক জোটটিতে। দীর্ঘ আলোচনা ও একাধিক বৈঠকের পরও চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছাতে না পারায় জোট ভাঙনের মুখে পড়তে পারে বলে সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে। বিশেষ করে চরমোনাই পীরের নেতৃত্বাধীন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ এবং মাওলানা মামুনুল হকের বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের কঠোর অবস্থানের কারণে জামায়াতে ইসলামী এখন চরম বিপাকে রয়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, জোটে অচলাবস্থার পেছনে প্রাথমিকভাবে তিনটি কারণ চিহ্নিত করা হচ্ছে। এতে বিপাকে পড়েছে জোটটির নেতৃত্বে থাকা জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশ। দল সংশ্লিষ্টরা বলছেন, প্রথমত, ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের অতিরিক্ত আসন দাবি। দলটির নেতৃত্বের দাবি, দেশব্যাপী তাদের শক্তিশালী ভোটব্যাংক রয়েছে। এ কারণে তারা জামায়াতের প্রস্তাবিত ৪০ আসনের বাইরে আরও বেশি আসন চায়। এমনকি জামায়াত অতিরিক্ত কিছু আসন উন্মুক্ত রাখার প্রস্তাব দিলেও তাতে রাজি হয়নি চরমোনাই পীরের দল।

দ্বিতীয়ত, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের উচ্চাকাঙ্ক্ষা। মাওলানা মামুনুল হকের নেতৃত্বাধীন দলটি বাস্তব অবস্থানের তুলনায় বেশি আসন দাবি করছে। ফলে তাদের সঙ্গেও জামায়াতের চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি। শেষ পর্যন্ত এই দুই দল আলাদা নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে পারে বলেও আলোচনা চলছে। সে ক্ষেত্রে তাদের থাকা না থাকার পুরো বিষয়টিই চরমোনাইয়ের ওপর নির্ভর করছে বলে জানা গেছে। 

তৃতীয়ত, জোটে নতুন দল যুক্ত হওয়ার পর শক্তির ভারসাম্য বদলে যাওয়া। জামায়াতের নেতৃত্বাধীন আট দলীয় ইসলামি জোটে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি), এলডিপি ও এবি পার্টি যুক্ত হয়ে ১১ দলীয় জোট গঠিত হলে ইসলামি দলগুলোর মধ্যে অস্বস্তি বাড়ে। এনসিপিকে ৩০টি আসন ছেড়ে দেওয়ায় জামায়াতের সঙ্গে অন্যান্য ইসলামি দলের দরকষাকষির ক্ষমতা কমে গেছে বলে তারা মনে করছে।

এর বাইরেও, প্রাথমিক আসন সমঝোতার ভিত্তিতে চরমোনাইর পীর ও মামুনুল হকের দলের প্রার্থীদের বিপরীতে এক ডজনেরও বেশি আসনে তাদের কোনো প্রার্থী দেয়নি জামায়াতে ইসলামী। সে ক্ষেত্রে সমঝোতা না হলে ওই আসনগুলো কীভাবে প্রার্থী সমন্বয় করবে জামায়াত- এ বিষয়টিও দলটিকে ভাবাচ্ছে।

সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার আসন ভাগাভাগি চূড়ান্ত করে ১১ দলের যৌথ ঘোষণা দেওয়ার উদ্যোগ নেওয়া হলেও শেষ পর্যন্ত তা ভেস্তে যায়। এ রিপোর্ট লেখা পর্যন্ত কোনো পক্ষই চূড়ান্ত সিদ্ধান্তে পৌঁছাতে পারেনি।

এর আগে, জামায়াতের নেতৃত্বে গঠিত আট দলীয় ইসলামি জোট জোটবদ্ধ নির্বাচনের ঘোষণা দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছিল। তবে নতুন তিন দল যুক্ত হওয়ার পর থেকেই ইসলামি দলগুলোর সঙ্গে জামায়াতের মনোমালিন্য বাড়তে থাকে।

মনোনয়নপত্র দাখিলের শেষ দিনের আগে ১২ ফেব্রুয়ারির সংসদ নির্বাচনে জোটগতভাবে অংশ নেওয়ার ঘোষণা দিলেও পরে দেখা যায়, ৩০০ আসনের বিপরীতে জোটের প্রায় ৬০০ প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তখন জোটের পক্ষ থেকে জানানো হয়, সময় স্বল্পতার কারণেই এমনটি হয়েছে এবং পরে আলোচনার মাধ্যমে আসন চূড়ান্ত করা হবে।

জামায়াত সূত্রে জানা গেছে, এনসিপিকে ৩০টি আসন দেওয়ার বিষয়টি চূড়ান্ত হয়েছে। পাশাপাশি শেষ মুহূর্তের আলোচনায় বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসকে ১৫টির বেশি, খেলাফত আন্দোলনকে ১০টি, এলডিপিকে ৭টি, এবি পার্টিকে ৩টি এবং বাংলাদেশ ডেভেলপমেন্ট পার্টিকে ২টি আসন দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। তবে জাগপা, নেজামে ইসলাম পার্টি ও খেলাফত আন্দোলনের আসন নিয়ে এখনো অনিশ্চয়তা রয়েছে।

চূড়ান্ত সমঝোতা না হলে জামায়াতের নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটে বড় ধরনের ভাঙন দেখা দিতে পারে বলে রাজনৈতিক অঙ্গনে আলোচনা চলছে।