Image description
 

কুষ্টিয়ার সদর উপজেলায় এয়ারগান দিয়ে পাখি শিকারের অভিযোগ উঠেছে শাহজাহান আলী নামের এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে। রোববার (১১ জানুয়ারি) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি ভিডিও ভাইরাল হলে আলোচনা সমালোচনা শুরু হয়।

শিক্ষক শাহজাহান আলী সদর উপজেলার স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের আইসিটি বিষয়ের সহকারী শিক্ষক।

দুই মিনিটের ভিডিওতে দেখা যায়, শীতের পোশাক পরা শাহজাহান আলী হাতে একটি এয়ারগান নিয়ে হাঁটছিলেন। এয়ারগান হাতে থাকা শাহজাহানের সঙ্গে এক তরুণের বাগ্‌বিতণ্ডা হচ্ছে। ওই তরুণ পাখিশিকারি শাহজাহানকে বলছিলেন, ‘আপনি পাখি মারছেন কেন?’ শিক্ষক বলছিলেন, ‘খালি ন্যাটা পাকাচ্ছে। পাখি মারছি না। আমি হাইস্কুলের শিক্ষক। অন্যায়-বেঅন্যায় দেখতে আসিনি।’ এ সময় ওই তরুণ বলতে থাকেন, ‘আপনি এই এলাকায় পাখি মারতে পারেন না। মারতেই পারেন না।’

 

একপর্যায়ে ব্যাগ দেখতে চান ওই তরুণ। তিনি বলতে থাকেন, ‘আপনার সন্তানকে যদি গুলি করে, তখন কী করবেন! আপনি কোনোভাবেই পাখি মারতে পারেন না।’ এ নিয়ে চলতে থাকে বাগ্‌বিতণ্ডা। দ্রুত হেঁটে চলে যান শাহজাহান আলী। ভিডিওতে নিজেকে ইমাম পরিচয় দিয়ে ওই তরুণ বলতে থাকেন, একজন হাইস্কুলের শিক্ষক হয়ে কীভাবে পাখি শিকার করতে পারেন? বিষয়টি নিয়ে প্রশাসনের দৃষ্টি আকর্ষণ করেন তিনি।

 
 

স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী প্রধান শিক্ষক নুরুল ইসলাম বলেন, আমরা আজ ভিডিও দেখেছি। তার বিষয়ে এ ধরনের পাখি শিকারের অভিযোগ আরও আছে বলে শুনেছি। এ বিষয়ে স্কুলের সভাপতি সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা অবগত আছেন। আমাদের প্রধান শিক্ষক রুহুল আমিনকে ডেকে ইউএনও শোকজ করতে বলেছেন।

 

স্বস্তিপুর মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক শাহজাহান আলী পাখি শিকারের অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ভিডিওটি গত শুক্রবারের। আমার আড়াই বিঘার ওপর পুকুর আছে। আমার পুকুরে বক এসে মাছ নিয়ে যায়। বক তাড়ানোর জন্য আমি এ এয়ারগান ৫ বছর ধরে ব্যবহার করি। এয়ারগানটি আমি পৈতৃক সূত্রে আমার বাবার কাছ থেকে পেয়েছি। আমার বাবা বেঁচে থাকাকালীন ব্যবহার করতেন। আমার বিরুদ্ধে যে অভিযোগ এসেছে তা মিথ্যা। আমি পাখি শিকার করি না।

জেলা শিক্ষা অফিসার (ভারপ্রাপ্ত) আবু তৈয়ব মো. ইউনুছ আলী বলেন, ভিডিওটি আমি দেখিনি। শিক্ষকের এ পাখি শিকারের বিষয়ে অবগত নই। আমি এখন আপনার (সাংবাদিক) কাছে শুনলাম। লিখিত অভিযোগ আসতে হবে। আপনি হোয়াটসঅ্যাপ ভিডিও পাঠিয়ে দিন, আমি দেখছি।

বিভাগীয় বন কর্মকর্তা মো. রেজাউল আলম বলেন, খোঁজ নিয়ে আমরা দেখছি কী করা যায়। দরকার হলে আমরা ডিসি ও ইউএনওর সহায়তা নিব।

কুষ্টিয়া সদর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মো. রোকনুজজামান বলেন, আমি ভিডিওটি দেখেছি। আমি ওই স্কুলের সভাপতি। সভাপতি হিসেবে আমি শিক্ষককে শোকজ করেছি। শোকজের জবাব দিলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে। এ ছাড়াও সামাজিক বন বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করতে বলা হয়েছে।