Image description

নওগাঁর মান্দা উপজেলার আত্রাই নদীর ওপর প্রসাদপুর, পাঁজরভাঙ্গা ও জোতবাজার এলাকার মানুষের দীর্ঘদিনের দাবি একটি স্থায়ী সেতু। স্বাধীনতার পর প্রায় ৫০ বছর পেরিয়ে গেলেও হাজার হাজার মানুষের যাতায়াতের একমাত্র ভরসা এখনো একটি নড়বড়ে বাঁশের সাঁকো। ভোট এলেই জনপ্রতিনিধিদের প্রতিশ্রুতি শোনা গেলেও নির্বাচন শেষে তা আর বাস্তবে রূপ নেয় না, এমন অভিযোগ এলাকাবাসীর।

সরেজমিন দেখা যায়, জরাজীর্ণ বাঁশের সাঁকো দিয়ে স্কুলগামী শিশু, বয়স্ক মানুষ, কৃষক ও রোগীরা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে পারাপার করছেন। সামান্য অসাবধানতায় যে কোনো সময় দুর্ঘটনার আশঙ্কা রয়েছে। নদীর একপাশে উপজেলা সদর, সরকারি হাসপাতাল, স্কুল-কলেজে ও গুরুত্বপূর্ণ দপ্তর থাকায় প্রতিদিন বিপুলসংখ্যক মানুষকে এই ঝুঁকি নিতে হচ্ছে। জরুরি রোগী পরিবহনে দেরি হওয়ায় প্রাণহানির ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা জানান।

প্রসাদপুর গ্রামের মোকলেছুর রহমান বাদশা বলেন, নির্বাচনের সময় বারবার সেতু নির্মাণের আশ্বাস দেওয়া হলেও বাস্তবে কিছুই হয়নি। প্রভাবশালীরা নিজেদের এলাকায় উন্নয়ন পেলেও এই জনপদ অবহেলিত রয়ে গেছে। মান্দা একটি বড় উপজেলা এবং গুরুত্বপূর্ণ এলাকা, অথচ এখানকার ১৪টি ইউনিয়নের মানুষকে এই এক সেতুর অভাবে অবর্ণনীয় কষ্ট সহ্য করতে হচ্ছে।

গোটগাড়ি গ্রামের মোছা. সাইফুল বেগম জানান, বাঁশের সাঁকো দিয়ে যাতায়াত অনিরাপদ ও কষ্টসাধ্য চিকিৎসা ও পণ্য পরিবহনে তাদের ভোগান্তির শেষ নেই। কেবল নেতাদের প্রতিশ্রুতি নয়, বরং দৃশ্যমান কাজ চান।

চকসিদ্ধেশ্বরী গ্রামের মো. আব্দুল লতিফ বলেন, কৃষিপ্রধান এলাকা হওয়া সত্ত্বেও সেতু না থাকায় কৃষকদের ফসল বাজারজাত করতে মারাত্মক কষ্ট পোহাতে হচ্ছে। গত ৩০-৪০ বছর ধরে নির্বাচনের আগে জনপ্রতিনিধিরা বারবার ব্রিজ তৈরির প্রতিশ্রুতি দিলেও এখন পর্যন্ত তা বাস্তবায়িত হয়নি।

মান্দা মমিন শাহানা সরকারি ডিগ্রি কলেজের ভারপ্রাপ্ত অধ্যক্ষ সুচিত্র কুমার সরকার বলেন, এটি উপজেলার সদর এলাকা হলেও একটি স্থায়ী ব্রিজের অভাবে মানুষকে বর্ষায় নৌকা আর শুষ্ক মৌসুমে বাঁশের সাঁকোর ওপর নির্ভর করতে হয়। বারবার মাপজোক হলেও কাজ এগোয়নি।

এ বিষয়ে নওগাঁ-৪ (মান্দা) আসনের জামায়াতে ইসলামী মনোনীত প্রার্থী খন্দকার আব্দুর রাকিব জানান, সুযোগ পেলে আত্রাই নদী খনন, টেকসই বাঁধ ও প্রয়োজনীয় ব্রিজ নির্মাণকে অগ্রাধিকার দেবেন। প্রথম ধাপে প্রসাদপুর ও জোগাহাট খেয়াঘাট ব্রিজ নির্মাণের আশ্বাস দেন তিনি।

অন্যদিকে বিএনপির মনোনীত প্রার্থী ডা. ইকরামুল বারী টিপু জানান, মৌখিক প্রতিশ্রুতি নয় বাস্তব কাজই আসল। নির্বাচিত হলে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে আত্রাই নদীতে বড় ব্রিজ নির্মাণের উদ্যোগ নেবেন এবং দ্রুত টেন্ডার প্রক্রিয়া শুরু করবেন বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।